logo

সময়: ০৩:০৫, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬

২৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ০৩:০৫ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ খবর

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার-বিক্রয় বন্ধের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি

Ekattor Shadhinota
১০ জুন, ২০২৬ | সময়ঃ ১১:০৩
photo
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার-বিক্রয় বন্ধের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি

গণপরিবহন ও পরিবহন টার্মিনালসমূহকে সম্পূর্ণ ধূমপানমুক্ত করা গেলে লাখো যাত্রীর জন্য নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও পরিবেশবান্ধব যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। একইসঙ্গে তারা তরুণ প্রজন্মকে তামাক ও নিকোটিন আসক্তি থেকে রক্ষায় সরকার, স্থানীয় প্রশাসন, পরিবহন কর্তৃপক্ষ, শ্রমিক সংগঠন এবং নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানান। আজ বুধবার (১০ জুন ২০২৬) সকাল ১১টায় ঢাকা সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং পরোক্ষ ধূমপানের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সাধারণ যাত্রীদের রক্ষার দাবিতে অনুষ্ঠিত এক জনসচেতনতামূলক অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা এসব কথা বলেন। বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে “প্রলোভনের মুখোশ উন্মোচন করি, তামাক ও নিকোটিনের আসক্তি প্রতিরোধ করি”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে কর্মসূচিটি সম্মিলিতভাবে আয়োজন করে ডেভলপমেন্ট অ্যাকটিভিটিস অব সোসাইটি (ডাস্), প্রত্যাশা মাদকবিরোধী সংগঠন এবং বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট (বাটা)। প্রত্যাশা মাদকবিরোধী সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট (বাটা)-এর ভারপ্রাপ্ত সমন্বয়কারী হেলাল আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন সদরঘাট লঞ্চ ঘাটের ট্রেড ইউনিয়ন লিডার মো: নয়ন, সমাজ সেবক সম্রাট, ডাস্-এর তামাক নিয়ন্ত্রণ প্রকল্পের টিম লিড আমিনুল ইসলাম বকুল সহ জনস্বাস্থ্য ও তামাক নিয়ন্ত্রণ আন্দোলনের বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, ঢাকা সদরঘাট দেশের অন্যতম বৃহৎ নৌ-টার্মিনাল, যেখানে প্রতিদিন প্রায় ৩৫ হাজার যাত্রী দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে যাতায়াত করেন। কিন্তু টার্মিনাল ও নৌযানে প্রকাশ্যে ধূমপান এবং তামাকজাত দ্রব্যের অবাধ ব্যবহার ও বিক্রয়ের কারণে বিপুলসংখ্যক অধূমপায়ী যাত্রী পরোক্ষ ধূমপানের শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে নারী, শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি এবং অসুস্থ যাত্রীরা এতে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়ছেন। ডাস্ কর্তৃক সমীক্ষায় দেখা যায় যাত্রী, শ্রমিক এবং লঞ্চ-ফেরির শতকরা ২৫ ভাগ লোকই তাদের পরিবহণ এবং টার্মিনালে ধূমপান করে থাকেন যার প্রভাব অবশিষ্ট ৭৫ ভাগ অধূমপায়ীদের উপরে পড়ে থাকে।

বক্তারা উল্লেখ করেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে (WHO), পরোক্ষ ধূমপানের কোনো নিরাপদ মাত্রা নেই। পরোক্ষ ধূমপানের কারণে হৃদরোগ, ফুসফুসের ক্যান্সার, হাঁপানি ও বিভিন্ন শ্বাসতন্ত্রজনিত রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়। এর ফলে একদিকে যেমন জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়ে, অন্যদিকে চিকিৎসা ব্যয় বৃদ্ধি, উৎপাদনশীলতা হ্রাস এবং কর্মঘণ্টা ক্ষতির মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিও ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়।

বক্তারা আরও বলেন, ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫ (সংশোধিত ২০১৩ ও ২০২৬) অনুযায়ী সকল গণপরিবহন ও পরিবহন টার্মিনাল শতভাগ ধূমপানমুক্ত এলাকা। আইন অনুযায়ী এসব স্থানে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্যের ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। আইনের ধারা ৪ অনুযায়ী পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ধূমপান শাস্তিযোগ্য অপরাধ এবং এর জন্য অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে। একইসঙ্গে গণপরিবহনে ধূমপানমুক্ত পরিবেশ সংক্রান্ত নির্দেশনা দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করাও বাধ্যতামূলক। কিন্তু বাস্তবে আইনের প্রয়োগ ও তদারকির ঘাটতির কারণে এসব বিধান অনেক ক্ষেত্রেই কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না।

বক্তারা জানান, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, বিআইডব্লিউটিএ এবং বিআইডব্লিউটিসি নৌপরিবহনে তামাক নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন সময় নির্দেশনা জারি করলেও কার্যকর মনিটরিংয়ের অভাবে সেগুলোর পূর্ণ বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না। এ প্রেক্ষাপটে তারা যাত্রীদের অভিযোগ গ্রহণ ও দ্রুত প্রতিকারের জন্য হটলাইন চালু, মোবাইল অ্যাপসের ব্যবহার, প্রতিটি লঞ্চ ও ফেরিতে অভিযোগ বাক্স স্থাপন এবং নিয়মিত মনিটরিং ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। নৌ-টার্মিনাল ও নৌযানে ধূমপান এবং তামাকজাত দ্রব্য বিক্রির বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা, মাইকিং, সচেতনতামূলক প্রচারণা এবং আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে নৌপরিবহন খাতে তামাক নিয়ন্ত্রণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন সম্ভব হবে।

কর্মসূচিতে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালের বিভিন্ন লঞ্চ মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধি, পোর্টার ইউনিটির সদস্য, যাত্রী কল্যাণ সমিতির নেতৃবৃন্দ, নৌপুলিশ, বিআইডব্লিউটিএ কর্মকর্তাবৃন্দ এবং বিভিন্ন সামাজিক ও জনস্বাস্থ্যভিত্তিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

শেয়ার করুন...

আরও পড়ুন...

ফেসবুকে আমরা…