logo

সময়: ০৪:৪৫, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

১৩ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ০৪:৪৫ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ খবর

জয়পুরহাটে গুরুত্বপূণ বাইপাস সড়ক সংস্কারের অভাবে মরণ ফাঁদ

zahurul islam
২৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ | সময়ঃ ১১:৩১
photo
জয়পুরহাটে গুরুত্বপূণ বাইপাস সড়ক সংস্কারের অভাবে মরণ ফাঁদ

মোঃ জহুরুল ইসলাম, জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ইং
জয়পুরহাট শহরের দক্ষিণ বাইপাস সড়ক দীর্ঘদিন থেকে সংস্কার না করায় এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে।  
শহরের কেন্দ্রিয় মসজিদ থেকে তেঘর রেলগেট হয়ে দেবিপুর কড়াই ফ্যাক্টরি পর্যন্ত দুই কিলোমিটারের 
সড়কটির পুরোটাই নষ্ট হয়ে গেছে। খোয়া ও পিচ উঠে গিয়ে সড়কটির জায়গায়-জায়গায় বড় ধরণের গর্ত 
হয়েছে। আর ওই গর্তে পড়ে প্রায়ই বিকল হয়ে পড়ছে সব ধরণের যানবাহন। অথচ শহরের চাপ কমাতে বাইপাস এ 
সড়কটি যানজট নিরসনে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে আসছে।  
জানা গেছে,জয়পুরহাট জেলার দক্ষিণ অংশের মানুষদের জেলা শহরে সহজে যাতায়াতের জন্য জয়পুরহাট-আক্কেলপুর 
সড়কের সংযোগ স্থল দেবিপুর কড়াই ফ্যাক্টরি থেকে তেঘর রেলগেট হয়ে কেন্দ্রিয় মসজিদ পর্যন্ত দুই 
কিলোমিটার সড়ক নির্মান করা হয়। সড়কটি জেলায় দ্বিতীয় বাইপাস সড়ক হিসেবে পরিচিত। যার দৈর্ঘ্য 
দুই দশমিক এক কিলোমিটার। দৈর্ঘ্যে ছোট হলেও সড়কটির গুরুত্ব অনেক বেশি। প্রতিদিন এই সড়কে শত 
শত যানবাহন চলাচল করে। বিশেষ করে জেলার সর্ববৃহত ‘নতুন হাটে’ যে গরু বেচা-কেনা হয় তার অধিকাংশই 
ট্রাকযোগে এ সড়ক দিয়ে চলাচল করে। এ ছাড়া বিভিন্ন পণ্যবোঝায় ট্রাক,মেসি ও বালুর ট্রাক্টরগুলোও এ 
সড়ক পথেই শহরকে বাইপাস করে চলাচল করে। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় সড়কটি চলাচল অনুপযোগী 
হয়ে পড়েছে। পুড়ো সড়কটিই খানা-খন্দে ভরা। জায়গা জায়গায় বড় গর্তের কারণে হেলে-দুলে অত্যন্ত ঝুঁকি 
নিয়ে পণ্য বোঝায় ট্রাক ও অন্য যানবাহন চলাচল করছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়কটি দীর্ঘদিন থেকে 
ভাঙ্গাচুড়া অবস্থায় থাকায় রিক্সা,অটোরিক্সা ও অটো ভ্যান চলাচল করে না। ফলে ওই এলাকার শিক্ষার্থীদের চলাচলে 
চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়। এ অবস্থায় জয়পুরহাট পৌরসভা লাইটিং ও ড্রেন নির্মাণের পাশাপাশি সড়কটি 
সংস্কারের উদ্যোগ নিয়ে গত বছরের জুন মাসে দরপত্র আহবান করে। ৭ কোটি ১০ লক্ষ টাকা বরাদ্দের ওই দরপত্রে কাজ 
পায় মাহমুদা কন্সট্রাকশন নামের ঢাকার একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর তাদের 
কার্যাদেশও দেওয়া হয়। চুক্তি অনুযায়ী আগামী ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাজটি শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু মূল কাজ 
এখনো শুরুই করেনি ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এ অবস্থায় দ্রুত কাজ শুরুর জন্য পৌরসভার পক্ষ থেকে পর পর 
তিনটি তাগিদ পত্রও দেওয়া হয়েছে। তারপরও সড়কটির সংস্কারের কাজ শুরু হয়নি। 
দেবিপুর মহল্লার ব্যবসায়ী হারুনুর রশিদ বলেন,‘এই সড়কটি নিয়ে আমরা দীর্ঘদিন থেকে দুর্ভোগে 
আছি। দীর্ঘদিন ভোগান্তির পর টেন্ডার হলেও হবে হবে করে কাজ শুরু হচ্ছে না। ভাঙ্গা সড়কে যাতায়াত করতে 
আমাদের নাজেহাল অবস্থা। একই মহল্লার গৃহবধু মাহফুজা বেগমের অভিযোগ,সড়কটি সংস্কার কাজ না 
হওয়ায় খুব কষ্টে শহরে যাতায়াত করতে হয়। ছেলে-মেয়েরা পায়ে হেঁটে স্কুলে যাতায়াত করে। এ সড়কে কোন 
রিক্সা বা অটোরিক্সা আসতে চায় না।
পাশের জেলা নওগাঁ থেকে মালামাল নিয়ে আসা ট্রাক চালক আব্দুল মালেক বলেন,‘ দুর্ঘটনার শঙ্কা নিয়ে এ 
সড়কে ট্রাক চালাতে হয়। গাড়ি খুব দোল খায়। মনে হয় এই বুঝি উল্টে খাবে। প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। শহরের 
ভিটি গ্রামের ক্ষুদ্র মুদি ব্যবসায়ী শাহিন আলম বলেন,ব্যবসার জন্য এই সড়ক পথে শহরে প্রায়ই যাতায়াত 
করতে হয়। খড়ার সময় কষ্ট হলেও যাতায়াত করা য়ায়। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে পায়ে হেঁটেও যাওয়া যায় না। সড়কের 
গর্তগুলো পানিতে ডুবে থাকে। অনেক সময় সেচ দিয়ে সড়কের পানি অপসারণ করতে হয়। শুনেছি সংস্কারের 
জন্য পৌরসভা থেকে টেন্ডার হয়েছে। কিন্তু কাজতো শুরু হচ্ছে না]। 
এ বিষয়ে মাহমুদা কনস্ট্রাকশনের মালিক ঠিকাদার গাজী আবু জাফরের সাথে যোগাযোগ করলে মোবাইল 
ফোনে তিনি বলেন, ‘সড়কটিতে সেতু নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়েছে। তবে সড়কের মূল কাজ এখনো শুরু 
হয়নি। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হলো খুব দ্রুতই জোরে শোরে কাজ শুরু হবে। আশা করছি দরপত্রে উল্লেখিত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ হবে।

জয়পুরহাট পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী, হুমায়ন কবীর বলেন,‘কাজ শুরু না হওয়ায় কাজের অগ্রগতি 
জানাতে ঠিকাদারকে পর পর তিনবার তাগিদ পত্র পাঠানো হয়েছে। তবে দ্রুত কাজ শুরুর জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। 

শেয়ার করুন...

আরও পড়ুন...

ফেসবুকে আমরা…