Masud Rana
মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী: পবা উপজেলার ১২টি
হাট ইজারা প্রদানকে কেন্দ্র করে আবারও সহিংসতার
আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টা পর্যন্ত দরপত্র জমা দেওয়ার
সময় নির্ধারিত রয়েছে।
নির্ধারিত সময় শেষে দরপত্র বাক্স
খোলা হবে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
দরপত্রে অংশ নিতে আগ্রহী একাধিক ইজারাদার আশঙ্কা
প্রকাশ করে বলেন, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও
মন্ত্রিপরিষদের সদস্যদের শপথ গ্রহণ উপলক্ষে এদিন
জনপ্রতিনিধিরা ঢাকায় অবস্থান করবেন। এমন দিনে
উপজেলায় গুরুত্বপূর্ণ এই কার্যক্রম পরিচালিত হলে
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে পারে। অপ্রীতিকর
কিছু ঘটলে তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার
মতো প্রভাবশালী কেউ থাকবেন না বলেও তারা শঙ্কা করছেন।
গত বছরের (৩ ফেব্রুয়ারি) পবা উপজেলার হাটবাজারের দরপত্র
জমা দেওয়াকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সেদিন
দরপত্র বাক্স ভাঙচুর ও লুটের অভিযোগ ওঠে। উপজেলা পরিষদ
চত্বরে ৮ থেকে ১০টি ককটেল বিস্ফোরণ এবং এলোপাতাড়ি
গুলির ঘটনাও ঘটে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, সেই ঘটনার
পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
ইজারাদারদের ভাষ্য, দর ফাঁসের আশঙ্কায় অনেকেই শেষ সময়ে
দরপত্র জমা দেন। এতে ভিড় বাড়ে এবং বিশৃঙ্খলার ঝুঁকি তৈরি
হয়। গত বছরও শেষ সময়ে এমন পরিস্থিতির মধ্যেই
সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার দামকুড়া
পশুহাট, দামকুড়া তহাহাট, রামচন্দ্রপুর হাট, খড়খড়ি হাট,
পারিলা হাট, বড়গাছি হাট, গোপাল হাট, হরিপুর হাট,
দারুশা হাট, ডাংগের হাট, মড়মড়িয়া হাট ও
বিলনেপালপাড়া হাট ইজারা দেওয়ার জন্য গত মাসে বিজ্ঞপ্তি
প্রকাশ করা হয়। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী মঙ্গলবার দুপুর
১টা পর্যন্ত দরপত্র গ্রহণ এবং এরপর তা খোলার কথা রয়েছে।
ইমন এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী ইয়াসিন আলী বলেন,
তিনি শিডিউল ক্রয় ও ব্যাংক ড্রাফট সম্পন্ন করেছেন।
তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে দরপত্র জমা দিতে পারবেন কি না
তা নিয়ে অনিশ্চয়তায় আছেন। তাঁর মতে, নতুন সরকারের
শপথ গ্রহণের দিনে একসঙ্গে এতগুলো হাট ইজারা দেওয়া না
করে দু-একদিন সময় বাড়ালে ভালো হতো।
তিনি আরও জানান, কয়েকজন মিলে উপজেলা নির্বাহী
কর্মকর্তার কাছে দরপত্র বাক্স খোলা স্থগিত রেখে সময়
বাড়ানোর অনুরোধ করা হয়েছে। তবে প্রশাসন সাড়া
দেয়নি।
আরেক ব্যবসায়ী বলেন, দীর্ঘ সময় পর সরকার গঠনের
প্রেক্ষাপটে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের মধ্যে
হাটঘাট ইজারা নিয়ে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। এতে
প্রতিযোগিতা ও উত্তেজনা বাড়তে পারে বলে মনে করছেন
তারা।
পবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত
আমান আজিজ বলেন, গত বছর ঝামেলা হয়েছে মানেই
এবারও হবেÑএমন কোনো কথা নেই। সুযোগ থাকলে সময়
বাড়ানো যেত। কিন্তু গত মাসে নোটিশ প্রকাশ করা
হয়েছে। নির্ধারিত শিডিউল অনুযায়ী কার্যক্রম সম্পন্ন
করতে হবে।
তিনি আরও জানান, অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে
প্রয়োজনীয় সতর্কতা গ্রহণ করা হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, গত বছরের অভিজ্ঞতার আলোকে
প্রশাসনের জন্য আজকের দরপত্র গ্রহণ ও খোলার কার্যক্রম
শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে
দাঁড়িয়েছে।