হাসানুজ্জামান সিদ্দিকী হাসান ,জলঢাকা, নীলফামারী প্রতিনিধি
নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলা সহ পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোতে আগাম আমের মুকুল প্রকৃতিতে নতুন এক আবাহন নিয়ে এসেছে। উত্তরের হিমেল হাওয়ায় মুকুলের মিষ্টি সুগন্ধ এখন চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। উপজেলার বিভিন্ন আমবাগান, বাড়ির আঙিনা ও রাস্তার ধারের আম গাছগুলো মুকুলে ছেয়ে যাওয়ায় প্রকৃতি সেজেছে অপরূপ সাজে। মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার ব্যাপক ফলনের স্বপ্ন দেখছেন বাগান মালিকরা।
সরেজমিনে গিয়ে জানাযায়, বড় আকারের গাছের তুলনায় ছোট ও মাঝারি আকারের আমগাছে এবার মুকুল বেশি এসেছে। মুকুলের মৌ মৌ গন্ধে বাগান ও গাছ মালিকদের চোখেমুখে আনন্দের প্রতিফলন লক্ষ্য করা গেছে। উপজেলার বাগানগুলোতে গৌড়মতি, হাড়ি ভাঙ্গা,মিশরি দানা,আম্রপালি, অ্যাংগো ব্যানেনা, খিরসাপাত, গোপালভোগ, ফজলি ও বারিসহ বিভিন্ন উন্নত জাতের আমের আধিক্য রয়েছে।
উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ গাছ মুকুলে ঢাকা পড়েছে। জলঢাকা উপজেলার মীরগঞ্জ ইউনিয়নের সরকারপাড়া গ্রামের বাগান মালিক সাগর মিয়া ও সোহেল মিয়া জানান, প্রায় এক মাস আগে থেকেই গাছে মুকুল আসা শুরু হয়েছে। তারা এখন গাছের বিশেষ যত্ন নিচ্ছেন।
খুটামারা ইউনিয়নের আম বাগান’-এর মালিক আবু রেজা প্রামাণিক জানান, তাঁর বাগানে প্রায় তিন হাজার আমগাছ রয়েছে। মুকুল আসার পর থেকেই তিনি গাছের প্রাথমিক পরিচর্যা শুরু করেছেন। মুকুলকে রোগবালাই থেকে রক্ষা করতে তিনি উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ ও কীটনাশক ব্যবহার করছেন।
জলঢাকা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আতিক আহমেদ জানান, কৃষি বিভাগ থেকে বাগান মালিকদের যথাযথ পরামর্শ প্রদান করা হচ্ছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন,এখন পর্যন্ত আবহাওয়া আমের মুকুলের জন্য বেশ অনুকূল রয়েছে। যদি নিয়মিত যত্ন নেওয়া হয় এবং আবহাওয়া এমন থাকে, তবে বিগত বছরগুলোর তুলনায় এ বছর জেলায় আমের বাম্পার ফলন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।