কুমিল্লা বিশ^বিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ হায়দার আলী’র পদত্যাগ চেয়ে গতকাল বুধবার (৬ মে) প্রশাসনিক ভবনের সম্মুখে আলাদা আলাদা ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান শিক্ষার্থীদের একটি পক্ষ। গণমাধ্যমের লাইভ প্রোগ্রামের মাধ্যমে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরে এসেছে।
এ বিষয়ে মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মোঃ হায়দার আলী বলেন, ‘আমি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হওয়ার জন্য কারো নিকট কোনো দাবি কিংবা তদবির করিনি। ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর উপাচার্য হিসেবে থাকার জন্য আমি কোনো মন্ত্রী, এমপি, সচিব, শিক্ষক নেতাদের নিকট চেষ্টা, তদবির করিনি। এ বিষয়ে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করলে তিনি আনন্দের সাথে দায়িত্ব হস্তান্তর করে পূর্বের কর্মস্থলে চলে যাবেন বলেও জানান। ’
তিনি আরও বলেন, ‘এ বিশ^বিদ্যালয়ে উপাচার্য পদ আঁকড়ে ধরে রাখার কারণে বহুদিন বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকার ঘটনাও ঘটেছে। শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষায় বিঘœ ঘটেছে, সেশনজট বৃদ্ধি পেয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম নষ্ট হয়েছে। আমি উপাচার্য হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করার পর বিশ্ববিদ্যালয় একদিনের জন্যও বন্ধ থাকেনি, শিক্ষার্থীদের ক্লাস-পরীক্ষায় বিঘ্ন ঘটেনি। আমি এখনো চাই, এই পদত্যাগ ইস্যুতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস-পরীক্ষায় বিঘ্ন না ঘটুক। এটা তখনই সম্ভব হবে, যখন সরকার দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। ’
তিনি আরও বলেন, ‘কুমিল্লা মেধাবী মানুষের স্থান। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের প্রথম শ্রেণির বিশ্ববিদ্যালয় হওয়ার কথা থাকলেও দুর্ভাগ্যজনকভাবে এটা ইউজিসির র্যাংকিং-এ তৃতীয় শ্রেণির বিশ্ববিদ্যালয়। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইতঃপূর্বে যত উপাচার্য এসেছেন কমবেশি সবার সময়েই ক্যাম্পাস অশান্ত হওয়ার, থাকার প্রচেষ্টার ইতিহাস শুনেছি। কুমিল্লাবাসীর কাছে আমার অনুরোধ, বিশ্ববিদ্যালয়টিকে বাঁচান। দলমত নির্বিশেষে এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করুন যাতে এটি দেশের প্রথম শ্রেণির বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হয়।’