logo

সময়: ১০:২৫, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬

২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১০:২৫ অপরাহ্ন

সর্বশেষ খবর

আত্মমর্যাদাসম্পন্ন প্রবাসী গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের

Abdul Based
০৫ নভেম্বর, ২০২৬ | সময়ঃ ০৭:২৯
photo
আত্মমর্যাদাসম্পন্ন প্রবাসী গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকের

আবদুল বাসেদ নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি:আজ বৃহস্পতিবার (০৫ নভেম্বর) সকাল ১১টায় নোয়াখালীতে বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের উদ্যোগে ‘বিদেশফেরতদের প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের জন্য সেবাপ্রদানকারী সংস্থা ও স্টেকহোল্ডারদের রেফারেল মেকানিজম স্থাপন বিষয়ক জেলা রেফারেল কর্মশালা’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও ব্র্যাকের যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়িত ‘Improved Sustainable Reintegration of Bangladeshi Returnee Migrants – Prottasha II’ প্রকল্পের আওতায় এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। বিদেশফেরত অভিবাসীদের জন্য বিদ্যমান সরকারি ও বেসরকারি সেবাগুলো সহজলভ্য করা, সংশ্লিষ্ট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয় বৃদ্ধি এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সেবা গ্রহণের সুযোগ নিশ্চিত করাই ছিল কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য।

কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন নোয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জিনাত রেহানা। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নোয়াখালীর পুলিশ সুপার এন এম নাসিরুদ্দিন এবং সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সমন্বয়ক (এমও) ডা. ফাত্তাহেল আলীম। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত জেলা সমন্বয়ক মো. নুজ্জামান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জিনাত রেহানা বলেন, বিদেশে যাওয়ার আগে সঠিক প্রশিক্ষণ ও ভাষা শিক্ষা প্রয়োজন। আমাদের আরও আত্মমর্যাদাসম্পন্ন প্রবাসী গড়ে তুলতে হবে। তিনি বিদেশফেরত অভিবাসীদের টেকসই সামাজিক ও অর্থনৈতিক পুনরেকত্রীকরণ নিশ্চিত করতে সরকারি-বেসরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে নোয়াখালীর পুলিশ সুপার ২o থেকে ৪০ বছর বয়সী তরুণ সমাজের ইচ্ছাশক্তি ও আগ্রহকে সঠিক পথে কাজে লাগানোর ওপর জোর দেন। তিনি আরও বলেন, নোয়াখালীর সবচেয়ে বড় সংকট পারিবারিক সহিংসতা, যার কারণে প্রবাসীরা দেশে ফেরত আসার পর আরো বিপর্যয়ের সম্মুখীন হোন। এ ক্ষেত্রে সাইকো-সোশ্যাল কাউন্সেলিং গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

কর্মশালায় ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রামের প্রতিনিধিরা ‘Prottasha II’ প্রকল্পের প্রেক্ষাপট, লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য, বাস্তবায়ন কার্যক্রম এবং বিদেশফেরত অভিবাসীদের পুনরেকত্রীকরণে ব্র্যাকের বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরেন। বিশেষ করে মনোসামাজিক কাউন্সেলিং, পরিবারভিত্তিক কাউন্সেলিং, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান, আত্মকর্মসংস্থান, আর্থিক সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় সরকারি-বেসরকারি সেবার সঙ্গে সংযোগ স্থাপনের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়।

অংশগ্রহণকারী সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান সেবা, বিদেশফেরত অভিবাসীদের জন্য সহায়তার সুযোগ, সেবা গ্রহণের প্রক্রিয়া এবং আন্তঃপ্রাতিষ্ঠানিক সহযোগিতার সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। পাশাপাশি বিদেশফেরত অভিবাসীদের প্রয়োজন অনুযায়ী যথাযথ প্রতিষ্ঠানে পাঠানো, সেবা প্রাপ্তি সহজ করা এবং একটি কার্যকর ও টেকসই রেফারেল কাঠামো গড়ে তোলার বিষয়ে মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়।

কর্মশালায় জেলা প্রশাসন, স্থানীয় সরকার বিভাগ, জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি কার্যালয়, স্বাস্থ্য বিভাগ, পুলিশ প্রশাসনসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তর; ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান; প্রশিক্ষণ কেন্দ্র; বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা; ক্ষুদ্রঋণ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান; নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি; সাংবাদিক; বিদেশফেরত অভিবাসী এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।

বক্তারা বিদেশফেরত অভিবাসীদের পুনরেকত্রীকরণ প্রক্রিয়াকে আরও কার্যকর ও টেকসই করতে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ, তথ্য বিনিময় এবং সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের রেফারেল ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে বিদেশফেরত অভিবাসীদের জন্য প্রয়োজনীয় সেবা প্রাপ্তি সহজ হবে।

উল্লেখ্য, ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম ২০০৬ সাল থেকে নিরাপদ অভিবাসন বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, বিদেশফেরত অভিবাসীদের পুনরেকত্রীকরণ, দক্ষতা উন্নয়ন, রেফারেল ও সেবা সংযোগ এবং অভিবাসন খাতে বিভিন্ন সহযোগিতামূলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় ‘Prottasha II’ প্রকল্পের মাধ্যমে বিদেশফেরত অভিবাসীদের টেকসই সামাজিক ও অর্থনৈতিক পুনরেকত্রীকরণে কাজ করছে ব্র্যাক।

শেয়ার করুন...

আরও পড়ুন...

ফেসবুকে আমরা…