Abdul Ohab
কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শারীরিক মানসিক নির্যাতনসহ সমকামিতায় আসক্তির অভিযোগ উঠেছে মনিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকার বিরুদ্ধে। এছাড়া আরেকজন সহকারী শিক্ষিকা হোসনে আরার বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ তুলে দুজন শিক্ষিকাকে স্কুল থেকে অপসারণ দাবিতে মানববন্ধন করেছে অভিভাবক ও এলাকাবাসী।
৪ অক্টোবর রোববার দুপুরে স্কুলের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। জানা যায় উপজেলার মনিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা অহিদা বেগম স্কুলের শিশু ছাত্রীদের শারীরিক নির্যাতনসহ আপত্তিকর আচরণ করে থাকেন। একজন সহকারী শিক্ষিকাকেও কুপ্রস্তাব দেন অহিদা বেগম। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এনিয়ে স্কুল কমিটি এবং এলাকার বিশিষ্ট কয়েকজন মিলে অহিদা বেগমের বিরুদ্ধে উপজেলা শিক্ষা অফিসে একটি অভিযোগ দায়ের করেন। রোববার সকালে উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার অভিযোগ তদন্তে স্কুলে আসলে অভিভাবক ও হেনস্থার শিকার ওই শিক্ষিকা, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা অহিদা বেগমের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিয়ে তার অপসারণ দাবি করেন। একজন অভিভাবক বলেন অহিদা বেগম কথায় কথায় ছাত্রছাত্রীদের শারীরিক ও মানুষিক নির্যাতন করে আসছেন। নির্যাতনের প্রতিবাদ করলে অনেক অভিভাবকও তার কাছে হেনস্থার শিকার হয়েছেন। এছাড়া শিক্ষিকা অহিদা বেগম সমকামিতায় আসক্ত। যিনি একজন শিক্ষিকাকে সমকামিতার মতো জগণ্য প্রস্তাব দিতে পারেন, তার নিকট আমাদের সন্তানরা নিরাপদ নয়। তাকে এই স্কুল থেকে অপসারণ করতে হবে।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা অহিদা বেগমের নিকট হেনস্থার শিকার শিক্ষিকা বলেন, বখাটে ছেলেদের মতো করে তিনি আমাকে, যেখানে সেখানে বিভিন্নভাবে কুপ্রস্তাব দিতেন।
অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা অহিদা বেগম তার বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে বলেন এগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট, আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।
স্কুল কমিটির সভাপতি মাস্টার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, অহিদা বেগমের বিরুদ্ধে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের শারীরিক মানসিক নির্যাতনের যে অভিযোগ উঠেছে যা প্রাথমিকভাবে প্রমানিত। এছাড়া আরেকজন সহকারী শিক্ষিকা হোসনে আরা বেগমের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। এনিয়ে এলাকাবাসী চরম ক্ষুব্ধ। আজকে উপজেলা তদন্ত টিম এসেছে, তদন্ত করে ওনারা ব্যবস্থা নেবেন। তবে এলাকাবাসী এই দুজন শিক্ষাকাকে স্কুলে আর দেখতে চায়না।
তদন্তে আসা উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার অভিযোগের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।