logo

সময়: ০৩:৫৭, বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট, ২০২৬

২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ০৩:৫৭ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ খবর

"জুলাই বিপ্লবের শহিদরা জাতীয় ইতিহাসের আলোকবর্তিকা"  

Ekattor Shadhinota
০৫ আগস্ট, ২০২৬ | সময়ঃ ১০:১৭
photo
"জুলাই বিপ্লবের শহিদরা জাতীয় ইতিহাসের আলোকবর্তিকা"  

জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ বলেছেন, "জুলাই বিপ্লবের শহিদরা জাতীয় জীবনে অভূতপূর্ব প্রেরণার উৎস এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে এক চিরন্তন আলোকবর্তিকা। স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে তরুণদের এই আত্মত্যাগ বাংলাদেশে এক নতুন গণতান্ত্রিক ভোরের সূচনা করেছে। শহিদদের রক্তের ঋণ কখনো পরিশোধ করা সম্ভব নয়; তাই তাঁদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং তাঁদের স্মৃতিকে অম্লান রাখা আমাদের পবিত্র দায়িত্ব। "

 

আজ বুধবার (৫ আগস্ট) নেপালের কাঠমন্ডুতে 'জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস' উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ দূতাবাস আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

 

অনুষ্ঠানে দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থার (সার্ক) মহাসচিব রাষ্ট্রদূত গোলাম সারওয়ার জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অধ্যাপক আমানুল্লাহর অসামান্য অবদানের কথা উল্লেখ করে বলেন, "ড. আমান ছিলেন আমাদের জুলাই আন্দোলনের অন্যতম মূল থিংক-ট্যাংক ও দূরদর্শী নেতা। আন্দোলনের উত্তাল ও অগ্নিঝরা দিনগুলোতে তাঁর সুচিন্তিত কৌশল, সাহসী নেতৃত্ব এবং নির্ভীক দিকনির্দেশনা স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার অবস্থানকে আরও দৃঢ় ও বেগবান করেছে । ”

 

রাষ্ট্রদূত গোলাম সারওয়ার আরও বলেন, "জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে সক্রিয় থাকার পাশাপাশি গণমাধ্যমের বুদ্ধিবৃত্তিক লড়াইয়েও ড. আমান ছিলেন অনন্য। অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁর এই ঐতিহাসিক আত্মত্যাগ ও বলিষ্ঠ নেতৃত্ব জাতির স্মৃতিতে চিরভাস্বর হয়ে থাকবে। ”

 

জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে ড. আমানুল্লাহ বলেন, "জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলন কেবল কোনো রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ছিল না; এটি ছিল বৈষম্যহীন ও স্বৈরাচারমুক্ত এক নতুন বাংলাদেশ গড়ার সংকল্প। এই সংগ্রামে জীবন উৎসর্গকারী বীর সন্তানদের স্মৃতি চিরভাস্বর রাখতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সর্বাত্মক পদক্ষেপ নিয়েছে।"

 

তিনি জানান, শহিদ পরিবারের সামাজিক ও আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে প্রতিটি শহিদ পরিবারকে ৮ লাখ টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শহিদ পরিবারের কোনো শিক্ষার্থী যেন আর্থিক অনটনে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেজন্য তাঁদের সম্পূর্ণ টিউশন ফি মওকুফ করা হয়েছে। এছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজের অসচ্ছল, প্রান্তিক ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের জন্য চালু করা হয়েছে ‘জুলাই শহিদ স্মৃতি শিক্ষাবৃত্তি ২০২৫’।

 

বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে স্মৃতি সংরক্ষণের প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের কথা জানিয়ে বিশিষ্ট এই সমাজবিজ্ঞানী বলেন, "তরুণ প্রজন্ম ও ভবিষ্যৎ গবেষকদের মাঝে জুলাই আন্দোলনের চেতনা বাঁচিয়ে রাখতে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ক্যাম্পাসে শহিদ শিক্ষার্থীদের নামফলকসহ স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে। একইসঙ্গে অধিভুক্ত দেশের সকল কলেজ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠাগার, আবাসিক হল ও প্রধান ভবনসমূহ শহিদদের নামে উৎসর্গ করা হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা এই বীরত্ব গাথা থেকে অনুপ্রেরণা পায়।"

 

ঐতিহাসিক ৩৬ দিনের আন্দোলনের প্রেক্ষাপট স্মরণ করে অধ্যাপক আমানুল্লাহ জীবন উৎসর্গকারী শহিদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান এবং আহত, দৃষ্টিশক্তি হারানো ও পঙ্গুত্ব বরণকারীদের প্রতি অশেষ কৃতজ্ঞতা ও সমবেদনা প্রকাশ করেন।

 

আন্দোলনের সর্বজনীনতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, "শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, পেশাজীবী, শ্রমজীবী মানুষ, রিকশাচালক, চিকিৎসকসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের ঐক্যবদ্ধ অংশগ্রহণে এই গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে। বিশেষ করে জীবন ঝুঁকি নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া চিকিৎসক, নারীদের অসীম সাহসিকতা এবং প্রবাসী বাংলাদেশিদের অবদান ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।"

 

শিক্ষাব্যবস্থার আমূল সংস্কার ও বর্তমান সরকারের শিক্ষাবান্ধব দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে ভাইস-চ্যান্সেলর বলেন, "শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ ও আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার ঘোষিত 'লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস' (Learning with Happiness) কর্মসূচির অংশ হিসেবে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। ভীতিহীন ও আনন্দঘন শিক্ষার পরিবেশ তৈরিতে দেশব্যাপী ব্যাপকভিত্তিক সাংস্কৃতিক উৎসব ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা চলমান রয়েছে।"

 

একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা ও কর্মসংস্থানের কথা তুলে ধরে ড. আমানুল্লাহ করেন, "শিক্ষার্থীদের কেবল সনদভিত্তিক শিক্ষার মধ্যে আটকে না রেখে যুগোপযোগী করতে আমাদের সনাতন কারিকুলাম ঢেলে সাজানো হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তি, ভাষাগত দক্ষতা, ফ্রিল্যান্সিং ও উদ্যোক্তা উন্নয়নসহ বিভিন্ন দক্ষতাভিত্তিক (Skills-based) শর্ট ও সার্টিফিকেট কোর্স চালু করা হয়েছে, যেন শিক্ষার্থীরা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে নিজেদের সুপ্রতিষ্ঠিত করতে পারে।"

 

নেপালে বাংলাদেশ দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ শফিউল করিম, দূতাবাসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কূটনৈতিক মিশনের সদস্য ও প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। সভায় জুলাই-আগস্টের শহিদদের আত্মার মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়।

শেয়ার করুন...

আরও পড়ুন...

ফেসবুকে আমরা…