logo

সময়: ০৩:০৯, বৃহস্পতিবার, ০৬ আগস্ট, ২০২৬

২১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ০৩:০৯ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ খবর

চাকরির আশ্বাসে খালি চেক-স্ট্যাম্প নিয়ে হয়রানিমূলক মামলা, কারারক্ষীর বিরুদ্ধে অভিযোগ

Ekattor Shadhinota
০৫ আগস্ট, ২০২৬ | সময়ঃ ১০:২৬
photo
চাকরির আশ্বাসে খালি চেক-স্ট্যাম্প নিয়ে হয়রানিমূলক মামলা, কারারক্ষীর বিরুদ্ধে অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী: চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে স্বাক্ষর করা খালি চেক ও ফাঁকা স্ট্যাম্প নেওয়ার পর সেগুলো অপব্যবহার করে বিভিন্ন জেলায় হয়রানিমূলক মামলা করার অভিযোগ উঠেছে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের এক কারারক্ষীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের বিচার এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী মো. গোলাম মোস্তফা।

বুধবার রাজশাহীতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বাঘমারা উপজেলার গোয়ালকান্দি এলাকার বাসিন্দা মো. গোলাম মোস্তফা লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করেন, রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারে কর্মরত কারারক্ষী (নং-৩২৯৩৩) মো. জহুরুল ইসলাম চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার কাছ থেকে দুই সেট ফাঁকা স্ট্যাম্প এবং ১২টি স্বাক্ষর করা খালি চেক সংগ্রহ করেন।

তিনি জানান, চাকরির আশায় বিভিন্ন সময়ে ব্যাংকের মাধ্যমে, নগদ অর্থে এবং স্বজনদের সহযোগিতায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে কয়েক লাখ টাকা প্রদান করেন। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের নভেম্বর মাসে তাকে একটি নিয়োগপত্র দেওয়া হলেও কিছুদিনের মধ্যে তিনি বুঝতে পারেন, পুরো বিষয়টি প্রতারণার অংশ হতে পারে। এরপর তার কাছে আরও ১৬ লাখ টাকা দাবি করা হয়। অতিরিক্ত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার বিরুদ্ধে নানা ধরনের হয়রানি শুরু হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে গোলাম মোস্তফা দাবি করেন, তার কাছ থেকে নেওয়া স্বাক্ষর করা খালি চেক ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন জেলায় একাধিক চেক ডিজঅনার মামলা দায়ের করা হয়েছে। এসব মামলার কারণে তিনি ও তার পরিবার সামাজিক, মানসিক এবং আর্থিকভাবে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, “চাকরির আশ্বাস দিয়ে আমার কাছ থেকে নেওয়া চেক ও স্ট্যাম্প অপব্যবহার করে আমাকে বিভিন্ন মামলায় জড়ানো হচ্ছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার চাই।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কারারক্ষী মো. জহুরুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, “আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।”

এ বিষয়ে রাজশাহী কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার আল মামুন বলেন, কোনো ব্যক্তির ব্যক্তিগত অপরাধের দায়ভার প্রতিষ্ঠান নেবে না। অভিযোগকারী চাইলে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ভুক্তভোগী মো. গোলাম মোস্তফা।

শেয়ার করুন...

আরও পড়ুন...

ফেসবুকে আমরা…