চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় এবং পেপারলেস পোর্ট কার্যক্রমে পদার্পণ করেছে। টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেম (TOS) এর সক্ষমতা বৃদ্ধির মাধ্যমে বন্দর কর্তৃপক্ষ পণ্য খালাসের ডেলিভারি ডকুমেন্টেশন প্রক্রিয়ার সকল ম্যানুয়াল বা কাগজ ভিত্তিক কাজ সম্পূর্ণ বাদ দিয়েছে। এখন থেকে ডেলিভারি অর্ডার (DO) আবেদন থেকে শুরু করে চূড়ান্ত গেট আউট পর্যন্ত প্রতিটি ধাপ শতভাগ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে সম্পন্ন হবে। যদিও চট্টগ্রাম বন্দর ২০১১ সাল থেকে ভেসেল মুভমেন্ট ও বন্দরের ভেতরে কন্টেইনার মুভমেন্ট কার্যক্রম TOS এর মাধ্যমে পরিচালনা করে আসছে, কিন্তু পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়করণ না থাকার কারণে এর পরিপূর্ণ সুবিধা ব্যবহার করা সম্ভব হয়নি। পূর্বে শুধুমাত্র EDO আবেদন এবং EDO Generation এই দুটি ধাপ অনলাইনে সম্পন্ন হতো এবং অবশিষ্ট সকল কার্যক্রম ম্যানুয়ালি পরিচালনা করা হতো। এখন থেকে অনলাইন ডেলিভারি ডকুমেন্টেশন প্রক্রিয়ার প্রতিটি ধাপ সম্পূর্ণভাবে ডিজিটাল TOS ইকোসিস্টেমের মধ্যে পরিচালিত হবে।
আপগ্রেডেড সিস্টেমের মূল বৈশিষ্ট্য হলো সিস্টেমের প্রতিটি ধাপ সম্পূর্ণ পর্যায়ক্রমিক হবে। কোনো গ্রাহক বা সিঅ্যান্ডএফ (C&F) এজেন্টের একটি ধাপ বাদ দিয়ে বা স্কিপ (Skip) করে পরবর্তী ধাপে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। পূর্ববর্তী ধাপটি সফলভাবে সম্পন্ন ও যাচাই হলে তবেই পরবর্তী ধাপটি সিস্টেম দ্বারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আনলক (Unlock) হবে। নিরাপত্তা ও আইনি কমপ্লায়েন্স জোরদার করতে বন্দরের TOS সিস্টেমকে এখন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) ASYCUDA World সিস্টেমের সাথে রিয়াল-টাইমে যুক্ত করা হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়া চলাকালীন যেকোনো মুহূর্তে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ যদি কোনো কন্টেইনার বা মালামাল ব্লক বা হোল্ড করতে চায়, তবে সেই ডাটা স্বয়ংক্রিয়ভাবে রিয়াল-টাইমে পোর্টের TOS সিস্টেমে চলে আসবে। ডাটা আসার সাথে সাথেই সিস্টেম স্বয়ংক্রিয়ভাবে ওই ফাইলের পরবর্তী সমস্ত প্রসেস লক (Lock) করে দেবে এবং কাস্টমসের চূড়ান্ত ক্লিয়ারেন্স না পাওয়া পর্যন্ত প্রক্রিয়াটি সেখানেই স্টপ (Stop) থাকবে। সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় এই রূপান্তরের ফলে সামুদ্রিক বাণিজ্য ইকোসিস্টেমে ব্যাপক ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে । পুরো প্রক্রিয়াটি অনলাইনে সম্পন্ন হওয়ায় চট্টগ্রাম বন্দর সম্পূর্ণ 'পেপারলেস পোর্ট' হওয়ার পথে আরও একধাপ এগিয়ে গেল; যার ফলে দাপ্তরিক কাজের প্রচুর কাগজ এবং প্রিন্টিং সংক্রান্ত খরচ বেঁচে যাবে এবং পরিবেশগত স্থায়িত্ব নিশ্চিত হবে।
ডেস্কে ডেস্কে সশরীরে যাওয়ার ঝামেলা না থাকায় এখন ডকুমেন্টেশনের কাজ দ্রুত সম্পন্ন হবে, যা সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, ব্যবসায়ী এবং চট্টগ্রাম বন্দরসহ সংশ্লিষ্ট সবার মূল্যবান সময় বাঁচিয়ে দেবে। প্রতিটি ধাপ ডিজিটাল সিস্টেমে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যাচাই হওয়ার কারণে সব ধরনের জাল-জালিয়াতি, ভুয়া নথিপত্র ব্যবহার এবং প্রশাসনিক অনিয়ম পুরোপুরি রোধ করা সম্ভব হবে। প্রতিটি স্টেপ অনলাইনে হওয়ার ফলে ব্যবহারকারীগণ যেকোনো সময়, যেকোনো স্থান থেকে তাদের নিজস্ব প্যানেলে লগ ইন করে তাদের নথিপত্র বা ফাইলটি কখন কোন পর্যায়ে আছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানতে পারবেন। এই ডিজিটাল রূপান্তর চট্টগ্রাম বন্দরের জন্য একটি যুগান্তকারী সাফল্য, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের একটি আধুনিক, স্বচ্ছ এবং দক্ষ প্রবেশদ্বার হিসেবে এর অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।