নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী: রাজশাহী মহানগরীতে মিথ্যা তথ্য
দিয়ে জুলাই যোদ্ধা সনদ গ্রহণ এবং সরকারি নিবন্ধন নম্বর ব্যবহার
করে অনুমতি ছাড়াই দৈনিক পত্রিকা প্রকাশ ও সাংবাদিক কার্ড
বাণিজ্যের অভিযোগ উঠেছে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় জেলা
প্রশাসক রাজশাহী ও আরএমপি পুলিশ কমিশনারের কাছে লিখিত
অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।
অভিযোগে মতিহার থানাধীন ২৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাজলা এলাকার
বাসিন্দা মোঃ সবুজ আলী দাবি করেন, রাজশাহীর দূর্গাপুর থেকে
আসা বর্তমানে কাজলা এলাকার বাসিন্দা মোঃ সানোয়ার রহমান
(৫২), ওরফে সানোয়ার আরিফ, প্রতারণার মাধ্যমে জুলাই যোদ্ধা সনদ
গ্রহণ করে আর্থিক সুবিধা নিয়েছেন। অভিযোগে উল্লেখ করা
হয়, গত ৫ আগস্ট ২০২৪ তারিখ রাত আনুমানিক ১০টার দিকে
মতিহার থানার জাহাজঘাট এলাকায় স্থানীয় বিএনপি-জামায়াতের
কয়েকজন তরুণ-যুবকের হামলায় আহত হন তিনি।
এলাকাবাসীর দাবি, ৫ আগষ্ট বিকাল ৫টার মধ্যে ছাত্র/জনতার দখলে
পুরো দেশ। সেদিন রাত ১০টার দিকে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা
তাকে আঘাত করলো কিভাবে ? মূল ঘটনা হলো বিগত সরকারের
সময় তিনি মতিহার থানার এক এসআইয়ের সোর্স হিসেবে কাজ
করতেন এবং বিভিন্ন সময়ে জামায়াত-বিএনপির লোকজনকে ধরিয়ে
দেওয়ার অভিযোগে ওই হামলার ঘটনা ঘটে।
লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, আহত হওয়ার ঘটনাকে জুলাই
যোদ্ধা হিসেবে দাবি করে তিনি সনদের জন্য আবেদন করেন এবং
পরবর্তীতে সনদ ও অর্থ গ্রহণ করেন। অভিযোগকারী সনদটি বাতিল
করে প্রতারণার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার
দাবি জানিয়েছেন।
একইসঙ্গে তার বিরুদ্ধে রাজশাহীর শীর্ষ সংবাদ নামে একটি দৈনিক
পত্রিকা ছাপাখানায় মুদ্রণ করে নিজেকে প্রকাশক ও সম্পাদক পরিচয়
দিয়ে সাংবাদিক নিয়োগ ও কার্ড বাণিজ্যের অভিযোগ তোলা
হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট পত্রিকার কোনো অনুমোদন বা
সরকারি নিবন্ধন না থাকলেও তিনি সরকারি রেজিস্ট্রেশন নম্বর ব্যবহার
করছেন এবং নগরীর কাজলায় অফিসের ঠিকানা পত্রিকায় উল্লেখ
থাকলেও পত্রিকার কোনো কার্যালয়ও নেই। এ নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিক মহলে নানা আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে বলে
উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগকারী দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পেশাদার সাংবাদিক নন।
তবে সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি ও প্রভাব খাটানোর
অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোঃ সানোয়ার রহমানের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও
তাৎক্ষণিকভাবে তার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে আরএমপি পুলিশ কমিশনার ও জেলা প্রশাসক, রাজশাহীর
কার্যালয়ে পৃথক দুটি অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে।
জানতে চাইলে আরএমপি পুলিশের মুখপাত্র উপ-পুলিশ কমিশনার মোঃ
গাজিউর রহমান, পিপিএম বলেন, অভিযোগটি তদন্ত করে
প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জেলা প্রশাসক অফিয়া আখতার বলেন অভিযোগটি তদন্তের জন্য
সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে
আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।