logo

সময়: ০৪:৪২, শুক্রবার, ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬

৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ০৪:৪২ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ খবর

নোবিপ্রবি প্রশাসনকে জড়িয়ে অসত্য ও অপতথ্য প্রচার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের বিবৃতি

Abdul Based
১৯ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ | সময়ঃ ১০:৫৭
photo
নোবিপ্রবি প্রশাসনকে জড়িয়ে অসত্য ও অপতথ্য প্রচার বিষয়ে কর্তৃপক্ষের বিবৃতি

আবদুল বাসেদ নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি:গত ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে নোবিপ্রবি সাদা দলের ব্যানারে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাদের ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে অপতথ্য প্রচার করছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবারের সরাসরি অংশীজনদের পক্ষ থেকে এ ধরনের অশুভ উদ্যোগ খুবই দুঃখজনক। আমাদের বিশ্বাস, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম (৩টি প্রশাসনিক পদ, ১টি ডিন ও ২টি পরিচালক), অধ্যাপক ড. মোঃ জাহাঙ্গীর সরকার (২টি প্রশাসনিক পদ, ১টি ডিন ও ১টি চেয়ারম্যান), অধ্যাপক ড. আবদুল কাইয়ুম মাসুদ (২টি প্রশাসনিক পদ, ১টি প্রভোস্ট ও ১টি অতিরিক্ত পরিচালক) ও অধ্যাপক ড. আবিদুর রহমান (২টি প্রশাসনিক পদ, ১টি চেয়ারম্যান ও ১টি প্রভোস্ট) সহ সাদা দলের প্রায় সকল শিক্ষকই শিক্ষা ও গবেষণার পাশাপাশি অত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে ডিন, পরিচালক ও চেয়ারম্যানসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন।

এছাড়া গত দেড় বছরে উপরোক্ত শিক্ষকগণ অর্ধশতাধিক কমিটির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবসহ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। অর্থাৎ তারা কেউই বর্তমান প্রশাসনের বাইরের নয়। পাশাপাশি ওনাদের যেকোন অভিযোগ, নোট অব ডিসেন্ট ও পরামর্শ গ্রহণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের রিজেন্ট বোর্ড ও একাডেমিক কাউন্সিলসহ সকল পর্ষদেই তাদের সম্মানজনক অংশগ্রহণ রয়েছে। তা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় আঙিনার বাইরে নোয়াখালী শহরে গিয়ে সংবাদ সম্মেলন ডেকে মিথ্যাচার করা কর্তৃপক্ষের কাছে বেমানান ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রতীয়মান হয়। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, সরকার ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের যোগ্যতার ভিত্তিতে যথাযথ মূল্যায়ন করছে ও ভবিষ্যতেও করবে। ব্যক্তিগত কোন স্বার্থ হাসিলের জন্য প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ক্ষুন্ন হয় এ ধরনের কার্যক্রমে জড়ানো অনুচিত ও অপেশাদার। একইসঙ্গে নোবিপ্রবিকে রাজনৈতিক দৃষ্টিকোণ থেকে না দেখে একটি সম্ভাবনাময়ী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানাই।

১. নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও মেধাভিত্তিক মূল্যায়ন: শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক, ধর্মীয় ও লৈঙ্গিক বৈষম্যের অভিযোগ তোলা হয়েছে। আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, নোবিপ্রবির বর্তমান প্রশাসন কর্তৃক পরিচালিত নিয়োগ পরীক্ষায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও সততার সঙ্গে পরিচালিত হয়েছে। শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে একাডেমিক এক্সিলেন্স, লিখিত পরীক্ষা, প্রেজেন্টেশন ও ব্যবহারিক পরীক্ষার প্রাপ্ত নম্বর মিলে যারা মেধা তালিকায় সর্বাগ্রে ছিলেন, শুধু তারাই নিয়োগ পেয়েছেন। একইভাবে সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগের ক্ষেত্রেও লিখিত, ব্যবহারিক (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) ও মৌখিক পরীক্ষার নম্বর মিলে যারা মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন, তারাই নিয়োগ পেয়েছেন। এখানে রাজনৈতিক, ধর্মীয় কিংবা লৈঙ্গিক পরিচয় বিবেচনায় নেয়া হয়নি। এছাড়াও খোদ অভিযোগকারীগণই নিয়োগ কার্যক্রমে লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন প্রণয়ন, পরীক্ষার কেন্দ্রে পরিদর্শক, উত্তরপত্র মূল্যায়ন, ব্যবহারিক পরীক্ষার পরীক্ষক, ভাইভা বোর্ডের সদস্য, তথাপি সমগ্র প্রক্রিয়াতেই সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। এসকল প্রক্রিয়ায় দায়িত্ব পালনকালে তারা কখনই কোনো ধরনের অনিয়ম পরিলক্ষিত করেছেন বলে লিখিত কিংবা মৌখিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নজরে আনেননি। এমনকি ভাইভা বোর্ডে নিয়োগের সুপারিশে নোট অব ডিসেন্ট দেয়ার সুযোগ থাকলেও এ ধরনের কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। নিয়োগ প্রদানের সর্বোচ্চ ক্ষমতাপ্রাপ্ত পর্ষদ রিজেন্ট বোর্ডে নিয়োগের চূড়ান্ত অনুমোদন হয়। উক্ত পর্ষদেও অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম ও অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর সরকার সম্মানিত সদস্য হিসেবে রয়েছেন। সেখানে নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর নিয়োগের সুপারিশ অনুমোদনকালে কোনো নোট অব ডিসেন্ট প্রদান করেননি। দীর্ঘ দেড় বছর ধরে এ সকল কার্যক্রমের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত থেকে এখন এ ধরনের দুরভিসন্ধিমূলক বিবৃতি কাম্য নয়।

২. ৫ লাখ ৩৫ হাজার টাকার চেক জালিয়াতির অভিযোগ:   ৫ লাখ ৩৫ বছর টাকার যে চেকের কথা অভিযোগ আকারে উল্লেখ করা হয়েছে, এ অভিযোগ কোথায় কার মাধ্যমে উত্থাপিত হয়েছে, এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কোনোভাবেই অবগত নয়। তবে সংশ্লিষ্ট অভিযোগের আলোকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে খোঁজ নিলে তারা কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন যে, আলোচ্য চেকটি ভর্তি পরীক্ষার সফটওয়্যার ও টেকনিক্যাল কমিটির কার্যক্রমের ব্যয় সংক্রান্ত। ভর্তি পরীক্ষার একটি কমিটির সদস্যের নামে চেকটি ইস্যু করা হয়। তিনি গবেষণা প্রকল্পের একটি কাজে স্টেশনের বাইরে থাকায় অন্য একজন বাহকের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করে কমিটির আহ্বায়কের কাছে নগদ অর্থ জমা রাখা হয়। তিনি নিয়ম মোতাবেক উক্ত অর্থ বন্টন করছেন।

৩. প্রশাসনিক ও একাডেমিক নীতিমালা অনুসরণ: সংবাদ সম্মেলনে সম্মানিত ০৪ জন শিক্ষক অভিযোগ করেছেন, “ইউজিসির নীতিমালায় নিয়োগ বোর্ডে অন্য কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রো-ভিসি বা ট্রেজারারকে রাখার বিধান না থাকলেও তিনি প্রায় ১৩ জনকে বিভিন্ন নিয়োগ বোর্ডের সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।” ইউজিসিতে যোগাযোগ করে এ ধরনের কোন নীতিমালার হদিস পাওয়া যায়নি। অভিযোগকারী শিক্ষকগণের সংগ্রহে এ ধরনের কোন নীতিমালা থাকলে তা নোবিপ্রবি কর্তৃপক্ষের গোচরে আনার অনুরোধ করছি। প্রসঙ্গত নিয়োগ বোর্ডে বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিয়োগ পাওয়া অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও কোষাধ্যক্ষদের সিংহভাগই শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক নিয়োগ পেয়েছেন। তথাপি এ বিষয়ে মন্তব্য করা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের এখতিয়ার বহির্ভূত।

৪. মাননীয় উপাচার্য কর্তৃক প্রশ্নপত্র মডারেশন: বিজ্ঞান বিষয়ক অধ্যাপক হওয়া সত্ত্বেও মাননীয় উপাচার্য কর্তৃক অন্য অনুষদের বিভাগের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়নের মডারেশনে যুক্ত হওয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন সম্মানিত একজন শিক্ষক। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য হলো, আইন অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগ বোর্ডের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন মাননীয় উপাচার্য। আইনি ক্ষমতা ও প্রচলিত রীতি অনুযায়ী উপাচার্য মহোদয় নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি হিসেবে বিশেষজ্ঞ সদস্যদের পাঠানো প্রশ্নপত্র গোপনীয়তার সঙ্গে মডারেশন করেন ও বিষয়ভিত্তিক প্রশ্নের বাইরে শিক্ষকতা, গবেষণা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন,  মৌলিক কিছু প্রশ্ন যোগ করে থাকেন।

৫. রাজনৈতিক বিবেচনা, স্বজনপ্রীতি ও তদবির: নিয়োগ ছাড়াও আপগ্রেডেশন, ডরমিটরিতে সিট বরাদ্দসহ আরো কয়েকটি বিষয়ে কয়েকজন সম্মানিত শিক্ষক রাজনীতিকরণের অভিযোগ তুলেছেন। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের বক্তব্য হলো, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে শুধু উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও ট্রেজারার মিলেই প্রশাসন পরিচালিত হয় না। তাদের নেতৃত্বে বিভিন্ন একাডেমিক লিডারশিপ যথা ডিন, চেয়ারম্যান ইত্যাদি ও প্রশাসিনক লিডারশিপ তথা রেজিস্ট্রার, পরিচালক ইত্যাদিসহ নানা কমিটি ও পর্ষদ মিলেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরিচালিত হয়। তথাপি আপগ্রেডেশন কিংবা ডরমিটরির সিট বরাদ্দের সঙ্গে বিশ্ববিদালয় প্রশাসনের সর্বোচ্চ পদকে জড়িয়ে কথা বলা সমীচীন নয়। একইভাবে নিয়োগের ক্ষেত্রেও তদবির ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ বিষয়ে আমরা দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, নোবিপ্রবির বর্তমান প্রশাসন কর্তৃক পরিচালিত নিয়োগ পরীক্ষায় সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা ও সততার সঙ্গে পরিচালিত হয়েছে। এখানে কোন ধরনের স্বজনপ্রীতি ও তদবির আমলে নেয়া হয়নি। যথাযথ প্রক্রিয়ায় যদি কেউ নিয়োগপ্রাপ্ত হন, সেটা দোষণীয় বলে প্রতীয়মান হয়নি। তবে স্বার্থের সংঘাত হয় এমন কাউকে নিয়োগ প্রক্রিয়ার দায়িত্ব গ্রহণ থেকে বিরত রাখার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কঠোর নীতি অনুসরণ করে আসছে।

৬. ড. শফিউল্লাহর নিয়োগ: তিনি তার নিজ শিক্ষাগত যোগ্যতা, পিএইচডি ডিগ্রি এবং প্রয়োজনীয় অভিজ্ঞতার আলোকেই সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন । কোনো রিজেন্ট বোর্ড সদস্যের ভাই হওয়া কারো অযোগ্যতা হতে পারে না এবং স্বার্থের সংঘাত (ঈড়হভষরপঃ ড়ভ ওহঃবৎবংঃ) এড়াতে যথাযথ বিধিমালা মানা হয়েছে ।

৭. ভর্তি পরীক্ষার সম্মানি: ভর্তি পরীক্ষার সম্মানী বণ্টনের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদিত আর্থিক বিধিমালা ও এ সংক্রান্ত কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। এক্ষেত্রে সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর জন্য সাধারণভাবে একটি সম্মানি বরাদ্দ করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন কমিটিতে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন ও অবদানের জন্য পদভিত্তিক অতিরিক্ত সম্মানির প্রচলন আগে থেকেই বিদ্যমান। সে আলোকে শুধু উপাচার্য, উপ-উপাচার্য কিংবা ট্রেজারার নয়; বরং অভিযোগ উত্থাপনকারী সম্মানিত শিক্ষকগণও সম্মানজনক পরিমাণ সম্মানি গ্রহণ করেছেন। এরমধ্যে সর্বশেষ বন্টনকৃত ভর্তি পরীক্ষার সম্মানির ক্ষেত্রে অধ্যাপক ড. শফিকুল ইসলাম ৯৭,০০০/- (সাতানব্বই হাজার), অধ্যাপক জাহাঙ্গীর সরকার ৮০,০০০/- (আশি হাজার) , অধ্যাপক ড. মাসুদ কাইয়ুম ৬৮,০০০/- (আটষট্টি হাজার) টাকা সম্মানি পেয়েছেন।  

৮. দপ্তর সংস্কার ব্যয়  ও শ্রেণিকক্ষ সংকট: প্রশাসনিক উন্নয়ন ও সংস্কার কাজ প্রসঙ্গে আপনারা অবগত আছেন যে, বিগত সময়ে অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, ট্রেজারার অফিস ও উপাচার্য দপ্তরের সম্মেলন কক্ষসহ অন্যান্য প্রশাসনিক দপ্তরে উল্লেখযোগ্য কোনো উন্নয়ন কাজ হয়নি; যা ছিল খুবই নিম্নমানের। বর্তমান প্রশাসন দায়িত্ব গ্রহণের পর যথাযথ সরকারি বিধিবিধান অনুসরণ করে ই-জিপি পদ্ধতির মাধ্যমে উপাচার্য মহোদয়ের অফিসসহ অন্যান্য অফিসের সংস্কার (রেনোভেশন) কাজ স্বচ্ছতার সাথে সম্পন্ন করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও ট্রেজারার মহোদয়ের দপ্তর সংস্কার কারো ব্যক্তিগত প্রয়োজনে নয়, বরং বিশ্ববিদ্যালয়ের মান উন্নয়নেরই অংশ। বিশেষ করে ইন্টারন্যাশনাল ডেলিগেশন ও কোলাবোরেশন সংক্রান্ত চুক্তি ও অনুষ্ঠান আয়োজনের জন্য এ সংস্কার অতীব জরুরি ছিল। একইসঙ্গে ক্লাসরুম ও ল্যাব সংকট নিরসনে বর্তমান প্রশাসন যে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, অতীতে এ ধরনের দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। এরই ধারাবাহিকতায় ৩য় একাডেমিক ভবন নির্মাণসহ আরও বেশ কিছু অবকাঠামোগত উন্নয়ন কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে, যা অদূর ভবিষ্যতে দৃশ্যমান হবে এবং শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

৯. বর্তমান উপাচার্য দায়িত্ব গ্রহণের সময়কালে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটি বড় অংশের পদোন্নতি কার্যক্রম স্থবির ছিল শুধু নিয়োগ ও পদোন্নতি বোর্ড না থাকার কারণে। দায়িত্ব  গ্রহণের পরপরই উপাচার্য মহোদয় দফায় দফায় মন্ত্রণালয়ে গমন করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে তা অনুমোদন করিয়ে আনেন। একইসঙ্গে শুধু একাডেমিক ভবন-৩ এর উন্নয়ন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে শুধু পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়েই ৪০ বারের বেশি গমন করতে হয়েছে। অথচ উপাচার্য মহোদয়ের যাতায়াত নিয়েও সম্মানিত শিক্ষকগণ প্রশ্ন তুলেছেন, যা খুবই দুঃখজনক।

সর্বোপরি নির্বাচন পরবর্তী সময়ে নবগঠিত সরকার যেখানে সফলভাবে একটি স্থিতিশীল পরিবেশ নিশ্চিতে কাজ করছে, সেখানে এ ধরনের অপতথ্য প্রচার করা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তথা সরকারকে অসহযোগিতার শামিল। আমরা তাদের এ ধরনের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকা ও শুভবুদ্ধির উদয় প্রত্যাশা করছি। একইসঙ্গে এ ধরনের সকল অপপ্রচার বিষয়ে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীসহ সকল অংশীজনদের সচেতন থাকার আহ্বান জানাই।

শেয়ার করুন...

আরও পড়ুন...

ফেসবুকে আমরা…