logo

সময়: ০৩:১৭, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ০৩:১৭ অপরাহ্ন

সর্বশেষ খবর

সরকারি হাজীদের সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা অব্যয়িত অর্থ ফেরত

Ekattor Shadhinota
০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | সময়ঃ ০৬:১১
photo
সরকারি হাজীদের সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬৪ হাজার টাকা অব্যয়িত অর্থ ফেরত

সরকারি ব্যবস্থাপনায় ২০২৬ সালের হজে অংশগ্রহণকারী হাজীদের জন্য সৌদি আরব পর্বের বাড়িভাড়া কম হওয়া ও আলোচনা করে সার্ভিস চার্জ কমানোয় চূড়ান্তকৃত খাতভিত্তিক অব্যয়িত অর্থ ফেরত প্রদান করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)। তিনি একে একটি অভূতপূর্ব পদক্ষেপ উল্লেখ করে বলেন, “হাজীদের স্বার্থে সরকারের এমন অর্থ ফেরত প্রদানের উদ্যোগ একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। ” সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বেসরকারি মাধ্যমে নিরুৎসাহিত নয় বরং সরকারের এমন উদ্যোগের মাধ্যমে সকলেই উৎসাহিত হবে সেটাই আমাদের লক্ষ্য।
 
আজ রবিবার (০৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রি.) সকালে বাংলাদেশ সচিবালয়ের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে ধর্ম মন্ত্রী এসকল তথ্য ও সরকারের হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিস্তারিত বিষয়াবলি তুলে ধরেন। এসময় আনুষ্ঠানিকভাবে ১০ জন হাজির হাতে রিফান্ডের চেক তুলে দেওয়া হয় এবং অন্য হাজীদের টাকা ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের (ইএফটি) মাধ্যমে সরাসরি ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে বলে জানানো হয়।
 
অনুষ্ঠানে অব্যয়িত অর্থ ফেরতের খাতভিত্তিক বিবরণ তুলে ধরে মন্ত্রী জানান, ২০২৬ সালের হজ প্যাকেজে বাড়িভাড়ার জন্য নির্ধারিত বরাদ্দের চেয়ে কম মূল্যে বাড়ি ভাড়া সম্পন্ন করা এবং আলোচনার মাধ্যমে সার্ভিস চার্জ হ্রাস পাওয়ায় এই উদ্বৃত্ত অর্থ ফেরত দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। সরকারি মাধ্যমের মোট ৪,৩৪১ জন হাজী চার কোটি সাতাশি লক্ষ তেইশ হাজার চৌদ্দ টাকা সরাসরি তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ফেরত পাবেন। তবে ২৩ জন হাজীর চিকিৎসা ব্য তাদের স্বাস্থ্য বীমার চেয়ে বেশি হওয়ায় তারা কোনো অর্থ ফেরত পাবেন না বলে তিনি উল্লেখ করেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে ধর্ম মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও নিবিড় মনিটরিংয়ের কারণে ২০২৬ সালের হজ অত্যন্ত সফল ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রী নিজে হজযাত্রীদের জন্য ১ লক্ষ বোতল মিনারেল ওয়াটার উপহার দেন। তাছাড়া তাঁরই নির্দেশনায় এবারই প্রথম হজক্যাম্পে বিনামূল্যে লাগেজ র‍্যাপিং সুবিধা, নারী হজযাত্রীদের জন্য পৃথক ওজুখানা ও টয়লেট এবং তাদের সাথে আসা স্বজনদের জন্য বাইরে টয়লেটের চমৎকার ব্যবস্থা করা হয়।
 
মন্ত্রী আরো উল্লেখ করেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সমূহ, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও হাব- এর সমন্বিত প্রচেষ্টায় কোনো ফ্লাইট বিপর্যয় বা বিশৃঙ্খলা ছাড়াই শতভাগ নিবন্ধিত যাত্রী সফলভাবে হজ পালন করেছেন।

হজের ব্যয় কমিয়ে সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের জন্য এই পবিত্র ইবাদতকে সহজ করা বর্তমান সরকারের  অন্যতম প্রধান নির্বাচনী অঙ্গীকার উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ নির্দেশনায় ২০২৬ সালে বিমানভাড়া পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ২৪,৮৩০ টাকা কমানো হয়েছিল। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৭ সালের হজের বিমানভাড়া আরও কমিয়ে মাত্র ১,৩০,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
 
২০২৬ সালের হজে সরকারি মাধ্যমে মোট তিনটি প্যাকেজ ছিল উল্লেখ করে ধর্মমন্ত্রী বলেন, এগুলো হলো হজ প্যাকেজ-১ (বিশেষ), হজ প্যাকেজ-২ ও হজ প্যাকেজ-৩।

প্যাকেজ ও হোটেলভিত্তিক রিফান্ডের ক্ষেত্রে—হজ প্যাকেজ-১ (বিশেষ) হোটেল বুল্লরা আল দুররা (১ নম্বর বাড়ির)-র পূর্ণ প্যাকেজের হাজীরা ৩৮,৬৯৭ টাকা ৩২ পয়সা এবং শর্ট প্যাকেজের হাজীরা ৪৬,৮৮৮ টাকা ৪০ পয়সা ফেরত পাবেন। এছাড়া দুই সিটের আপগ্রেডেশনে ১,৬৪,১৯০ টাকা ৫৬ পয়সা (শর্ট প্যাকেজসহ ১,৮০,৫৭২ টাকা ৭১ পয়সা) এবং তিন সিটের আপগ্রেডেশনে ১,১৮,০৭২ টাকা ৮২ পয়সা (শর্ট প্যাকেজসহ ১,৩১,৭৩৫ টাকা ৫৩ পয়সা) রিফান্ড পাবেন।  
 
হজ প্যাকেজ-২ এর হোটেল লুলুয়াত আল তাওহীদ (২ নম্বর বাড়ি)-এ ক্যাটাগরিভেদে হাজীরা সর্বনিম্ন ২,৫০৫ টাকা ৪৯ পয়সা (সাধারণ প্যাকেজ) থেকে সর্বোচ্চ ৭৮,৭১৩ টাকা ৯৪ পয়সা (দুই সিটের শর্ট প্যাকেজ) ফেরত পাবেন। হোটেল রাওদাত আল শুরুক (৩ নম্বর বাড়ি)-এ সাধারণ প্যাকেজে ৩,৯৭৯ টাকা ৮৮ পয়সা, শর্ট প্যাকেজে ১২,১৭০ টাকা ৯৫ পয়সা, দুই সিটের আপগ্রেডেশনে ৪,৩৭৬ টাকা ৬৬ পয়সা এবং তিন সিটের আপগ্রেডেশনে ৪৪,১১৯ টাকা ৮৭ পয়সা ফেরত দেওয়া হবে। হোটেল মানার আল শুরুক (৪ নম্বর বাড়ি)-এ সাধারণ প্যাকেজে ৭,৪১৪ টাকা ২৩ পয়সা, দুই সিটের আপগ্রেডেশনে ৫,৬৭৫ টাকা ৪৩ পয়সা এবং তিন সিটের আপগ্রেডেশনে ৬,২৪৯ টাকা ২৪ পয়সা রিফান্ড পাবেন। অন্যদিকে, হজ প্যাকেজ-৩ (সাধারণ) এর হোটেল নাম্বার ওয়ান (৫ নম্বর বাড়ি)-র পূর্ণ প্যাকেজের হাজীরা প্রত্যেকে ৩,৭১৮ টাকা ০৯ পয়সা ফেরত পাবেন; তবে এই প্যাকেজে শর্ট বা আপগ্রেডেশনের কোনো ব্যবস্থা ছিল না।    
 
অনুষ্ঠান থেকে প্রতারণা এড়াতে নিরাপত্তা সতর্কবার্তা জারি করে বলা হয়, হাজীদের রিফান্ড বা অনুদানের টাকা পাঠানোর জন্য ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয় থেকে কখনোই ডেবিট/ক্রেডিট কার্ডের নম্বর কিংবা বিকাশ, নগদ বা রকেটের পিন/ওটিপি চাওয়া হয় না। এ ধরনের ফোন কল পেলে প্রতারক চক্র থেকে সতর্ক থাকার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হচ্ছে।  

প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠানে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শামীম কায়সার এবং ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব জনাব মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদসহ মন্ত্রণালয়েরর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। 

শেয়ার করুন...

আরও পড়ুন...

ফেসবুকে আমরা…