চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ফেরদৌস এলএনজি জাহাজ কাটা ইয়ার্ডে ১৪ জন শ্রমিক নিহতের প্রতিবাদে শাহবাগ জুলাই স্মৃতিস্তম্ভের পাদদেশে জাতীয় শ্রমিক শক্তি'র বিক্ষোভ ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এনসিপির শ্রমিক সংগঠন জাতীয় শ্রমিক শক্তির আহ্বায়ক মাজহারুল ইসলাম ফকির তার বক্তব্যে কারখানাটির মালিককে গ্রেফতার এবং বিচারের দাবি তুলেন। তিনি বলেন,"কাঠামোগত শ্রমিক হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে মালিকপক্ষ সরকারী দলকে ম্যানেজ করে ফেলেছেন। লাশ কেনা-বেচার এই রাষ্ট্র আমরা চাইনি। হকারদের উঠাও, রিকশা শ্রমিকদের উচ্ছেদ করো, গার্মেন্টসে ছাঁটাই করো, শ্রমিকদের নির্যাতন করো, এই হচ্ছে জুলাইয়ের পরবর্তী বিএনপি সরকারের অবস্থান!"
বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া এই শ্রমিক নেতা হুশিয়ারী দিয়ে আরো বলেন,"আমরা শ্রমিক শ্রেনী চোখ রাখছি। কোন ছলচাতুরীর চেষ্টা করলে ছাত্র শ্রমিক জনতাকে একত্রিত করে আমরা রাস্তায় নামবো। " সংগঠনটির যুগ্ম আহ্বায়ক আহমেদ ইসহাক বলেন,"কৃষক শ্রমিক পাশে না থাকলে কোন সরকারই ক্ষমতায় টিকতে পারে না। " শ্রমিকদের সাথে ইনসাফ কায়েম করার আহ্বান জানান এই নেতা।
শ্রমিক নেতা ওয়াফি বলেন,"আমার শ্রমিকদের জীবনের মূল্য সরকার ১০ লক্ষ টাকায় কেনার প্রচার দিয়েছে। সরকারিভাবে মামলা করে বন্ধ করার প্রস্তাবিত কারখানা যদি সরকারি পক্ষকে টাকা দিয়ে খুলতে পারে; শ্রমিকদের নয়, সরকারকে কেনা যায়।"
যুগ্ম আহ্বায়ক রেজাউল ইসলামের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন যুগ্ম সদস্য সচিব তৌফিক উজ জামান পীরাচা, সিনিয়র যুগ্ম মূখ্য সংগঠক মামুন চাকলাদার, সংহতি বক্তব্য রাখেন কৃষক নেতা মাহি পলাশ। উপস্থিত ছিলেন ওবায়দুল ইসলাম, ফরিদুল ইসলাম, জুলাই যোদ্ধা নাহিদ, শামীম হোসেন, সালাউদ্দিন সালমান এবং প্রীতম দাস প্রমুখ।
কাঠামোগত শ্রমিক হত্যা বন্ধ করতে মানববন্ধন থেকে ফেরদৌস স্টিল শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড কারখানায় নিহত শ্রমিকদের ক্ষতিপূরণ, ঘটনার তদন্ত এবং বিচারের তিন দফা দাবি জানানো হয়। আহ্বান জানানো হয় কারখানাগুলোতে কাজের নিরাপদ পরিবেশ ফিরিয়ে আনার এবং ওভারটাইম বন্ধ করতে।