জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় পাঁচ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে স্বপন নামে এক যুবককে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছেন স্থানীয়রা। বুধবার (১৫ জুলাই) সকালে উপজেলার সিধুলী ইউনিয়নের চর লোটাবর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত স্বপন এলাকায় তার মামাবাড়িতে থাকতেন। তিনি মানসিক ভারসাম্যহীন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বুধবার সকালে শিশুটির খোঁজ না পেয়ে তার মা বাড়ির আশপাশে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে বাড়ির নিচু জায়গায় একটি কলাগাছের আড়ালে শিশুটিকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। অভিযোগ রয়েছে, শিশুটিকে ধর্ষণের পর অভিযুক্ত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকজন তাকে ধাওয়া করে আটক করেন এবং একটি বাড়িতে আটকে রাখেন।
খবর পেয়ে শ্যামগঞ্জ কালিবাড়ী পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে জনতার কাছ থেকে অভিযুক্তকে উদ্ধার করে মাদারগঞ্জ মডেল থানায় হস্তান্তর করেন।
ঘটনার পর গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় শিশুটিকে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে তার চিকিৎসা চলছে।
ভুক্তভোগী শিশুর ফুফু অভিযোগ করে বলেন, তার মুখ কাপড় দিয়ে বেঁধে ধর্ষণ করা হয়। একটি নিষ্পাপ শিশুর সঙ্গে এমন নৃশংস ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানাচ্ছি।
স্থানীয় বাসিন্দা ফয়সাল বলেন, শিশুটির কান্নার শব্দ ও খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে এলাকাবাসী ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। পরে অভিযুক্ত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাকে আটক করা হয় এবং পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, আটক স্বপনের বিরুদ্ধে এর আগেও এলাকায় নারী ও শিশুদের নিয়ে আপত্তিকর আচরণের অভিযোগ উঠেছিল। তবে এ ধরনের অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি।
মাদারগঞ্জ মডেল থানার ওসি স্নেহাশিষ রায় জানান, অভিযুক্তকে আটক করা হয়েছে। শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।