logo

সময়: ০৭:১৩, শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬

৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ০৭:১৩ অপরাহ্ন

সর্বশেষ খবর

কর আরোপ করে বৈধতা নয় নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকো স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করার দাবী

Ekattor Shadhinota
১৩ জুন, ২০২৬ | সময়ঃ ০১:৩২
photo
কর আরোপ করে বৈধতা নয় নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকো স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করার দাবী


আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সরকার নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকো পণ্য (ই-সিগারেট, ভেপ, এন্ডস ইত্যাদি) কে কর আরোপের মাধ্যমে আইনগত বৈধতা প্রদান করেছে। এই দুই ধরণের তামাক পণ্যকে করের আওতায় এনে বৈধতা প্রদান দেশের জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতিকে মারাত্বক ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তাই কর আরোপ করে বৈধতা নয়, বরং এসব পণ্যকে স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করতে হবে। আজ ১৩ জুন ২০২৬ ( শনিবার)  সকাল  ১০.০০ টায় জাতীয় যাদুঘরের সামনে আয়োজিত এক প্রতিবাদী কর্মসূচিতে এই দাবী জানানো হয়। ‘বাংলাদেশ টোব্যাকো কন্ট্রোল এডভোকেটস্’  কর আরোপের মাধ্যমে বৈধতা পরিহার ও নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকো স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করার দাবিতে  এই প্রতিবাদী কর্মসূচির আয়োজন করে।

কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ, সংস্কৃতিকর্মী, নাট্যকর্মী, জনস্বাস্থ্যকর্মী, শিক্ষক এবং তরুণ শিক্ষার্থী প্রতিনিধিবৃন্দ  নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকো পণ্যগুলোকে “করের আওতায় এনে বৈধতা প্রদান” না করার পাশাপাশি সকল নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকো পণ্য স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধের দাবী জানায়।

কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, অর্ন্তবর্তীকালীন সরকার দেশে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার স্বার্থে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন সংশোধন অধ্যাদেশে সকল ধরণের ইমাজিং তামাক পণ্য উৎপাদন, বিতরণ, বিপনণ ও আমদানি সম্পুর্ণরূপে নিষিদ্ধ করে। কিন্তু নির্বাচিত সরকার রাজস্ব আয়ের দোহাই দিয়ে আইন থেকে বিধানটি বাদ দিয়েছে। উপরন্ত জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের উদ্বেগ ও পরামর্শ উপেক্ষা করে করের আওতায় এনে এসব পণ্যকে বৈধতা দেওয়া হয়েছে। আধুনিক রাষ্ট্র চিন্তায় রাজস্ব আয় কখনোই জনস্বাস্থ্য এবং মানুষের মৃত্যুর চেয়ে ‘বড়’ বিবেচ্য হতে পারে না। শুধুমাত্র রাজস্ব আয় বিবেচনায় নিয়ে এমন ক্ষতিকর নেশাকে বৈধতা দেওয়ায় মানুষ হতাশ হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তে জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতির ভয়াবহ অবনতিসহ দেশের কোটি কিশোর-তরুণ নতুন নেশার ফাঁদে আটকে পড়বে। 

বক্তারা বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘গ্লোবাল টোব্যাকো এপিডেমিক’ রিপোর্ট অনুযায়ী ইলেকট্রনিক নিকোটিন ডেলিভারি সিস্টেম আসক্তি সৃষ্টিকারি ও ক্ষতিকর পণ্য। বাংলাদেশে নতুন হলেও বিশ্বে অনেক দেশ এসব পণ্য নিষিদ্ধ ও নিয়ন্ত্রণ করছে।  ইতোমধ্যে বিশ্বের মোট ৪৭ টি দেশ হিটেড টোব্যাকো পণ্য/ই-সিগারেট বিক্রয় নিষিদ্ধ করেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের  একটি আদেশে বাংলাদেশেও ই-সিগারেট আমদনি নিষিদ্ধ করা হয়। অথচ এখন কর আরোপের মাধ্যমে এটাকে বৈধতা দেওয়া হচ্ছে। মহামান্য হাইকোর্টের আপীল বিভাগ দেশে নতুন কোন তামাক বা তামাকজাত কোম্পানিকে অনুমোদন না দেওয়া এবং তামাক ব্যবহার হ্রাসের জন্য নির্দেশনা দিয়েছে। নিকোটিন পাউচ, হিটেড টোব্যাকো পণ্য ইত্যাদি পণ্যকে আইনগত বৈধতা দেয়ার অর্থ হচ্ছে তামাক ব্যবহার বৃদ্ধি করা, যা আদালতের নির্দেশনার পরিপন্থি।

বক্তারা আরো বলেন, ২০১৭ সালে দেশে ইমাজিং টোবাকো পণ্যের ব্যবহারের হার মাত্র ০.০২ শতাংশ ছিলো। কিন্তু এসব পণ্য নিয়ন্ত্রণে সকারের উদ্যোগের অভাবে এর ব্যবহার ধারাবাহিকভাবে বেড়ে চলেছে। শিশু-কিশোর তরুণদের মধ্যে এই নেশা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে যা দেশের মানুষকে উদ্ধিগ্ন করে তুলেছে। বিগত পাঁচ বছরে দেশে ই-সিগারেটের দোকানের সংখ্যা ৮০ শতাংশ বেড়েছে। আরো বড় উদ্বেগের বিষয় ব্যবহারকারীদের মধ্যে প্রায় ৯৫% কিশোর-তরুণ ও শিক্ষার্থী এমনকি শিশুদের মধ্যেও এটা ছড়িয়ে পড়ছে। যা বিষয়টির ভয়াবহতা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

তারা বলেন, এই সরকার সর্বশেষ নির্বাচনী ইশতেহারে তামাক নিয়ন্ত্রণের অঙ্গীকার করেছিলো। এসব পণ্যের বৈধতা বর্তমান সরকারের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অর্জনে প্রতিবন্ধকতা তৈরী করবে। 

সরকারের অঙ্গীকার বাস্তবায়নে বাজেট প্রস্তাব সংশোধন করে নিকোটিন পাউচ ও হিটেড টোব্যাকো পণ্যকে করের আওতায় না আনা এবং এসব পণ্য স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছে আয়োজকরা।

শেয়ার করুন...

আরও পড়ুন...

ফেসবুকে আমরা…