logo

সময়: ১১:৩১, রবিবার, ৩১ মে, ২০২৬

১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১১:৩১ অপরাহ্ন

সর্বশেষ খবর

বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে যুবতীর অনশন, বাড়ি ছেড়ে পালানোর অভিযোগ যুবকের পরিবারের বিরুদ্ধে

Masud Rana
৩১ মে, ২০২৬ | সময়ঃ ১০:০৯
photo
বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে যুবতীর অনশন, বাড়ি ছেড়ে পালানোর অভিযোগ যুবকের পরিবারের বিরুদ্ধে

মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী: রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার
ইউসুফপুর এলাকায় বিয়ের দাবিতে এক যুবতী (২০) প্রেমিকের
বাড়িতে অনশন শুরু করেছেন।
রোববার (৩১ মে) দুপুর ৩টা থেকে তিনি অভিযুক্ত যুবক তাইজুল
ইসলামের বাড়িতে অবস্থান নিয়ে অনশন করছেন। এ ঘটনার পর
অভিযুক্ত প্রেমিক তাইজুল ও তার পরিবারের সদস্যরা বাড়িতে তালা
দিয়ে অনত্র চলে গেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত তাইজুল ইসলাম (২৫)
ইউসুফপুর গ্রামের আব্দুল হালিমের ছেলে।
ভুক্তভোগী যুবতীর অভিযোগ, প্রায় ১০ মাস আগে মাদ্রাসায়
পড়াশোনার সময় তাইজুল ইসলামের সঙ্গে তার পরিচয় হয় এবং পরে
তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের আশ্বাস দিয়ে
তাইজুল তার সঙ্গে একাধিকবার শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন বলে
দাবি করেন তিনি।
যুবতীর ভাষ্য, রোববার তাদের বিয়ের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার
দিন ছিল। এদিন মোবাইল ফোনে ধর্মীয় নিয়মে কালিমা পড়ে
বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে বলে তাইজুল তাকে আশ্বস্ত করেন এবং পরে
কাজি অফিসে উপস্থিত থাকার প্রতিশ্রুতি দেন। তবে
নির্ধারিত সময়ের আগেই তাইজুল মোবাইল ফোন বন্ধ করে দেন।
এরপর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে একটি সালিশী বৈঠক
অনুষ্ঠিত হলেও তাইজুল ও তার পরিবার বিয়ে করতে অস্বীকৃতি
জানায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
যুবতী আরও অভিযোগ করেন, বর্তমানে তাইজুল তাকে মোবাইল
ফোনে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দিচ্ছেন। তিনি বলেন, আমাকে স্ত্রী
হিসেবে স্বীকৃতি না দিলে আমার সামনে আর কোনো পথ
থাকবে না।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, অভিযুক্ত তাইজুল ইসলামের বিরুদ্ধে এর
আগেও একই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল। এর আগে এক তরুণীকেও
বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারণার অভিযোগ রয়েছে তার
বিরুদ্ধে। এলাকাবাসী ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন।

ঘটনার বিষয়ে ইউসুফপুর স্থানীয় সালিশ কমিটির সভাপতি
আফাজ উদ্দিন মণ্ডল বলেন, আমি নিজে তাইজুল এবং তার বাবা
আব্দুল হালিমকে ডেকে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করেছি। তাদের
বিয়ের জন্য রাজি করানোর চেষ্টা করলেও তারা কোনো গুরুত্ব দেয়নি।
বরং তাইজুল জানিয়েছে, অন্য এক মেয়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক
রয়েছে এবং তাকেই বিয়ে করবে।
তিনি আরও বলেন, ছেলেটির বিরুদ্ধে এর আগেও এ ধরনের
অভিযোগ রয়েছে। আমরা মেয়ের পরিবারকে সময় নষ্ট না করে দ্রুত
আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি।
ভুক্তভোগী যুবতীর খালা মোসাঃ মুনিয়া জানায়, ছেলের পরিবারের
পক্ষ থেকে বিয়ের জন্য ৫দিনের সময় নিয়েছে। তাই আপাতত মামলা
করছি না। তবে ৫দিন পর বিয়ে না হলে থানায় মামলা করবেন বলেও
জানান তিনি।
এ বিষয়ে আইনগত ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আইনজীবী
অ্যাডভোকেট রজব আলী বলেন, বাংলাদেশের প্রচলিত আইন
অনুযায়ী, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে সম্মতি আদায় করে শারীরিক
সম্পর্ক স্থাপনের অভিযোগ আদালতে প্রমাণিত হলে তা গুরুতর
অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এ ধরনের ঘটনায় ভুক্তভোগী
আইনি প্রতিকার চাইতে পারেন।
তবে আইনি বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আদালত ও তদন্তের মাধ্যমে
নির্ধারিত হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এ ব্যপারে জানতে চাইলে চারঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)
মোঃ আব্দুল মালেক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন,
বিষয়টি সম্পর্কে আমরা অবগত আছি। প্রয়োজনীয় আইনগত
প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

শেয়ার করুন...

আরও পড়ুন...

ফেসবুকে আমরা…