logo

সময়: ০২:১১, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬

৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ০২:১১ অপরাহ্ন

সর্বশেষ খবর

৯কোটি৫৯লাখ টাকা পরিশোধ তবুও ধীর গতিতে চলছে বৈদ্যুতিক কুটি অপসারণের কাজ।

Ekattor Shadhinota
১৪ এপ্রিল, ২০২৬ | সময়ঃ ১০:৩৯
photo
৯কোটি৫৯লাখ টাকা পরিশোধ তবুও ধীর গতিতে চলছে বৈদ্যুতিক কুটি অপসারণের কাজ।

মোঃরফিকুল ইসলাম সোহাগ 
​ সুনামগঞ্জ। জেলা প্রতিনিধি  

সুনামগঞ্জ জেলা শহরের বহুল প্রতীক্ষিত চার লেন সড়ক প্রশস্তকরণ কাজ এখন বৈদ্যুতিক খুঁটির জন্য ধীর গতির শিকার হচ্ছে। রাস্তার মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা শত শত বৈদ্যুতিক খুঁটির কারণে সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের নির্মাণকাজ কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।

বিদ্যুৎ বিভাগকে খুঁটি সরানোর জন্য নির্ধারিত প্রায় ৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা পরিশোধ করা হলেও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ধীরগতির কারণে জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে।

​খুঁটির কারণে থমকে আছে উন্নয়ন
​সরেজমিনে দেখা যায়, শহরের হাসন তোরণ থেকে ট্রাফিক পয়েন্ট পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকায় চার লেন প্রকল্পের কাজ চলছে। কিন্তু সড়কের ঠিক মাঝখানেই রয়ে গেছে ৩৩ কেভি ও ১১ কেভি লাইনের খুঁটিগুলো। এর ফলে সওজ বিভাগ তাদের মূল নির্মাণকাজ ও কার্পেটিং শুরু করতে পারছে না। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, খুঁটিগুলো অপসারণ না করায় সরু রাস্তায় যানজট বাড়ছে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না হলে বর্ষার আগে কাজ শেষ হওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন তারা।

​সুনামগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মোঃ আশরাফুল হামিদ বলেন,
​"রাস্তার মাঝখান থেকে খুঁটি অপসারণের জন্য আমরা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডকে (পিডিবি) ৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা পরিশোধ করেছি। আমাদের পক্ষ থেকে বারবার তাগিদ দেওয়া সত্ত্বেও তাদের ধীরগতির কারণে আমরা নির্ধারিত গতিতে কাজ করতে পারছি না। মূলত খুঁটি না সরার কারণেই রোড সসের কাজ ব্যাহত হচ্ছে।"
​অন্যদিকে, খুঁটি অপসারণের দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাইট ইঞ্জিনিয়ার ওমর ফারুক কাজের ধীরগতির পেছনে মাটির সমস্যাকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন,
​"সড়কের পূর্ব পাশে বালু ভরাট না থাকা এবং পানির সমস্যার কারণে আমরা কাজ এগোতে পারিনি। তবে এখন বালু ভরাট হয়েছে, কাজ দ্রুত এগোবে। আশা করছি আগামী দুই মাসের মধ্যে সব খুঁটি সরিয়ে নতুন সংযোগ দেওয়া সম্ভব হবে।"
​৫৩ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে দাবি পিডিবির।

​সুনামগঞ্জ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রকৌশলী রাসেল আহমেদ জানান, প্রকল্পের আওতায় ৩৩ কেভি, ১১/৪ কেভি এবং ০.৪ কেভি লাইনের কাজ দুটি লটে ভাগ করে সম্পন্ন করা হচ্ছে। তিনি বলেন,
​"ইতিমধ্যেই ৫৩ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। প্রতিটি খুঁটি অপসারণের সাথে দীর্ঘ সময়ের শাটডাউন (বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা) জড়িত থাকে। জনগণের ভোগান্তি কমানো এবং রাষ্ট্রীয় প্রোগ্রামে বিদ্যুৎ সচল রাখার বিষয়টি সমন্বয় করতে গিয়ে কিছুটা সময় লাগছে। তবে দ্রুতই এসব খুঁটি অপসারিত হবে।"
​বাড়ছে জনদুর্ভোগ
​এদিকে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় ক্ষুব্ধ শহরবাসী। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক পথচারী জানান, সরকারের কোটি কোটি টাকা পরিশোধের পরও কেন সামান্য খুঁটি সরাতে মাসের পর মাস অপেক্ষা করতে হবে তা বোধগম্য নয়। সমন্বয়হীনতার এই বলি হচ্ছেন সাধারণ মানুষ।
​সুনামগঞ্জবাসীর দাবি, জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত বিষয়টি সমন্বয় করে বর্ষার আগেই চার লেন সড়কটি চলাচলের উপযোগী করে তোলেন।

শেয়ার করুন...

আরও পড়ুন...

ফেসবুকে আমরা…