logo

সময়: ১২:২৪, শনিবার, ০৫ এপ্রিল, ২০২৫

২২ চৈত্র ১৪৩১ বঙ্গাব্দ, ১২:২৪ অপরাহ্ন

সর্বশেষ খবর

মনোহরগঞ্জের পোমগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপন

YOUSUF YOUSUF
০৪ এপ্রিল, ২০২৫ | সময়ঃ ১০:৫২
photo
মনোহরগঞ্জের পোমগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ উদযাপন

আবু ইউসুফ মনোহরগঞ্জ কুমিল্লা 
মনোহরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী পোমগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের শতবর্ষ পূর্তি বর্ণাঢ্য আয়োজনে উদযাপন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার ৩ এপ্রিল স্কুল মাঠে সকাল ৮টায় জাতীয় পতাকা উত্তোলন এবং আনন্দ র‍্যালির মাধ্যমে শতবর্ষ উদযাপন শুরু হয়। এরপর ১২টা পর্যন্ত প্রতিষ্ঠাকালীন থেকে ২০২৪ সালের শিক্ষার্থীদের স্মৃতিচারণ এবং কৃতী সংবর্ধনাসহ ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। ১২ থেকে শুরু হয় স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
বিকেল ৩টা থেকে শুরু হয় শতবর্ষ পূর্তি উপলক্ষে আলোচনা সভা। শতবর্ষ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক সাবেক সচিব ড. একেএম জাহাঙ্গীরের সভাপতিত্বে এবং মাইন উদ্দিন সোহাগ, ইকবাল মাহমুদ ও আবুল কালামের সঞ্চালনায় উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গৃহায়ণ গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম, বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন  সংসদ সচিবালয়ের সচিব (পিআরএল) মো. আনোয়ার উল্লাহ এফসিএমএ, অতিরিক্ত সচিব ব্যারিস্টার গোলাম সরওয়ার, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ডা. মো. জিয়া উদ্দিন, কুমিল্লা জেলা প্রশাসক আমিরুল কায়সার, কুমিল্লা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাজির আহমেদ খান। উদযাপন অনুষ্ঠানে স্মৃতিচারণ করেন সুধির চন্দ্র মল্ল বর্মণ, মকবুল আহমেদ, অ্যাডভোকেট আবুল বাশার। অনুষ্ঠানে স্কুলের ইতিহাস তুলে ধরেন সাবেক প্রধান শিক্ষক আবুল বাশার। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন শতবর্ষ উদযাপন কমিটির সমন্বয়ক সলীম উল্লাহ। 
শতবর্ষ উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন  বলেন জুলাই আগস্ট গণঅভ্যুত্থান নতুন বাংলাদেশ সৃষ্টি করার স্বপ্ন দেখিয়েছে। উন্নত বিশ্বের মাঝে দুর্নীতির কারণে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি। পোমগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় ১০০ বছর পূর্বে যারা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন আমি শ্রদ্ধার সাথে তাদের কথা স্মরণ করি, তারা এই স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন বলে আজকে এই বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেওয়ার মতো যোগ্যতা সম্পন্ন মানুষ তৈরি হয়েছেন।   দেশকে দুর্নীতিমুক্ত একটি সুন্দর বাংলাদেশ হিসেবে গড়তে সবাইকে শপথ নিতে হবে। তিনি বলেন শতবর্ষ আগে যারা এই স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছেন তারা আজকে হয়তো এখানে কেউ নাই, দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন, তাদের এবং তাদের পরিবারের জন্য মহান আল্লাহর কাছে তাদের উত্তম পুরস্কারের জন্য প্রার্থনা করি। 
তিনি আরো বলেন আমরা ভালো কাজ করব মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকব,  ভালো এবং মন্দ, কোনটা ভালো কোনটা মন্দ সেটাকে জানার জন্য আমাদের শিক্ষার্জন করতে হবে। আসুন আমরা স্কুলের শতবর্ষে একটি শপথ নেই যে আমরা আলোকিত মানুষ হবো এই সমাজ থেকে দুর্নীতিমুক্ত করবো, আমরা নিজেরা দুর্নীতিমুক্ত থাকবো এবং আমরা দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ে তুলবো। 

বিশেষ অতিথি ড. আনোয়ার উল্লাহ এফসিএমএ বলেন আমরা এই যে শতবর্ষ পূর্তি উদযাপন করছি এর পিছনে কিন্তু একটি উদ্দেশ্য আছে। আমি সভাপতি মহোদয় এবং বিভিন্ন বিজ্ঞজনের সাথে কথা বলেছি একটি ফাউন্ডেশন করার জন্য, যার মাধ্যমে শিক্ষা এবং এলাকার অনেক উন্নয়ন করা সম্ভব। ইতোমধ্যে আমরা এখানকার সবার টেলিফোন নাম্বার থেকে শুরু করে তার পেশা তার কর্মস্থল সব তথ্য আমাদের কাছে কম্পিউটারে রক্ষিত আছে। আমরা একটি ফাউন্ডেশন করব যে ফাউন্ডেশন এর মাধ্যমে পোমগাঁও স্কুলের আশেপাশের যত এলাকা আছে সমস্ত এলাকায় আমাদের প্রাক্তন ছাত্রছাত্রী থেকে শুরু করে চলমান ছাত্র-ছাত্রীদের কল্যাণে আমরা কাজ করব। আমি আপনাদের এই অনুষ্ঠানের মাধ্যমেই এই বিষয়টিকে অনুমোদন করে নিয়ে নিলাম। পরবর্তীতে আপনাদেরকে পূর্ণাঙ্গ আমাদের ব্যাচ ভিত্তিক প্রতিনিধি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ একটি কমিটি ঘোষণা করবো ইনশাআল্লাহ। আমার বন্ধু সবাই বলেছিলেন আবদ্ধ জীবন যাপন করেছিলাম আজ মুক্ত হয়ে একত্রিত হয়েছি এই মুক্তচর্চার বিষয়টি যাতে আমাদের মধ্যে থাকে আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় থাকে। তিনি বলেন এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আমাদের এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জ্ঞান ভিত্তিক সমাজ কিভাবে আমরা করতে পারব সেলক্ষে কাজ করে যাবো।  দোয়া করবেন আমরা যাতে ভবিষ্যতে সমিতি করে আমরা উন্নয়নের কাজ করব সে ফাউন্ডেশন যত তাড়াতাড়ি আমরা প্রতিষ্ঠা করতে পারবো ততই মঙ্গল হবে। 
বিশেষ অতিথি বিভাগীয় কমিশনার বলেন শববর্ষ পূর্তির এই অনুষ্ঠান থেকে ২১ বছর আগে একটি মহকুমা শহরের একটি স্কুলে পত্তন হয়েছিল এক বছর আগে। ১৯০৪ সাল থেকে ২০০৪ সাল, সেখানে শত বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে গিয়েছিলাম, মনে পড়ে অনুষ্ঠানটি করতে গিয়ে এক বছরের অধিক সময় প্রিপারেশন নিতে হয়েছে একই রকম প্রিপারেশন নিয়ে আজকে আপনার এখানে উপস্থিত হয়েছেন। আমি জানি বিশাল কর্মযজ্ঞের মধ্যে আপনারা সবার কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করেছেন। তিনি বলেন পার্থক্য হলো ওটা মহকুমার শহরের আর আপনাদের এই প্রত্যন্ত এলাকার স্কুলের তুলনা করলাম। ১৯২৫ সালে মহামান্বিত একটি স্কুল গড়ে উঠেছিল সেটা ভাবতেও আমার এখন ভালো লাগছে৷ সেই মহকুমা স্কুল যেসকল যোগ্য ছাত্র সৃষ্টি করেছিল, এই স্কুল তার চেয়ে বেশি করেছে আপনারা অনেক বেশি এগিয়ে রয়েছেন। এজন্য কিন্তু এই কৃতিত্ব শুধুমাত্র আমাদের শিক্ষক মন্ডলীন নয় যারা সাহায্যে আপনাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন, আপনাদেরকেও আমি একইসঙ্গে ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা দিতে চাই আপনারা এখানকার জীবন যুদ্ধে এটার সঙ্গে লেগে ছিলেন, ১০০ বছর পার করে আসা কোন উচ্চ বিদ্যালয় থেকে পার হয়ে এসেছে আজকের এই দিনটিতে আশা করছি শত শত বছর এরকম বিদ্যার আলো দান করে যাবে। তিনি বলেন শ্রদ্ধেয় আনোয়ার উল্লাহ স্যার যখন আমাকে বললেন আমরা এইরকম একটা অনুষ্ঠান করতে যাচ্ছি তুমি আমাদের সাথে থাকলে ভালো লাগবে, স্যারের তখন যে আবেগ দেখতে পেয়েছি ভাবলাম এরকম শতবর্ষের বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে স্যারের পাশে এবং অনেক ছাত্রছাত্রী পাশে দাঁড়ালে আমারও খুব আনন্দ হবে আমি সানন্দে রাজি হয়ে যাই। আমাকে এখানে আপনারা বিশেষ অতিথি হিসেবে সম্মান দান করছেন আশা করছি এই অত্যন্ত এলাকা হলেও এই স্কুল যে সম্মানের সৃষ্টি করেছে তা শতশত বছর অম্লান থাকবে। তিনি বলেন আপনারা একটি এলোমনাই অ্যাসোসিয়েশনের তৈরি করে  যারা বেকারত্ব রয়েছে পশ্চাদপদ রয়েছে তাদেরকে আমরা সহযোগিতা করতে পারি, আমাদের কারো রক্তের দরকার হলেও তাৎক্ষণিকভাবে আমরা যোগাযোগের ব্যবস্থা করতে পারি। আমি আশা করব আপনাদেরও এই বিদ্যালয়কে কেন্দ্র করে একটা এলোমনাই অ্যাসোসিয়েশন গড়ে উঠবে এবং আপনাদের বন্ডেজকে অনেক শক্তিশালী করবে। 
জেলা প্রশাসক বলেন, আজকের এই চমৎকার অনুষ্ঠানটি যারা আয়োজন করেছেন আমি এখানে আসার আগেও বুঝতে পারেনি যে, এত ব্যাপক পরিসরে এত বিশাল পরিসরে চমৎকার একটি অনুষ্ঠান আয়োজিত হতে যাচ্ছে। এই স্কুল থেকে পড়াশুনা করে শিক্ষাজীবন শেষ করে রাষ্ট্রের বিভিন্ন পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে এই স্কুলে শিক্ষার্থীরা। আমি আশা করি সামনের দিনগুলোতে এই স্কুলের যারা সম্মানিত শিক্ষক এবং অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা সম্মিলিতভাবে এই স্কুলের মহিমা রয়েছে সেটি দেশে এবং দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আমাদের বিশ্ব পরিমণ্ডলে স্কুলটির গৌরবের ইতিহাস ছড়িয়ে দিবে। 
এছাড়া অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার ফাহরিয়া ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাসরিন, অফিসার ইনচার্জ বিপুল চন্দ্র দে, বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী মোবারক উল্লাহ মজুমদার, বিশিষ্ট সমাজসেবক মাসুদুল আলম বাচ্চুসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। 

 

 

 ১৯২৫ সালে তৎকালীন ত্রিপুরা জেলার লাকসাম থানার জলাঞ্চাল নামে খ্যাত জলিপুর গ্রামের বাবু জগৎ চন্দ্র দেহড়ীর উদ্যোগে পোমগাঁও গ্রামের রায়কুমার মল্ল বর্মন এবং তৎকালীন বৃহত্তর ঝলম ইউনিয়ন বোর্ড প্রেসিডেন্ট আমজাদ আলী হাওলাদারের পৃষ্ঠপোষকতায় পোমগাঁও উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। সেলক্ষে আগামীকাল বৃহস্পতিবার সাবেক এবং বর্তমান ২ হাজার ছাত্রছাত্রীদের উপস্থিতিতে উদযাপিত হতে যাচ্ছে শতবর্ষ। শতবর্ষকে স্মরণীয় করে রাখতে সাংবাদিক সম্মেলন করে সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন শতবর্ষ উদযাপন কমিটি। সাংবাদিক সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন শতবর্ষ উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক সাবেক সচিব ড. একেএম জাহাঙ্গীর, উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব মাস্টার আবুল বাশার, অর্থ কমিটির আহ্বায়ক সলিম উল্লাহ, প্রকাশনা কমিটির আহ্বায়ক মোঃ আবদুল হাই, সাবেক ছাত্র মোঃ শাহাজান, মোঃ আবুল খায়ের, মোঃ বেলাল হোসেন সোহেল, মোঃ রমিজ উদ্দিন, হাফিজুর রহমান সাইমন।

শেয়ার করুন...

আরও পড়ুন...

ফেসবুকে আমরা…