logo

সময়: ০৫:৩৮, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ০৫:৩৮ অপরাহ্ন

সর্বশেষ খবর

কেন্দ্রীয় মুরগি খামারে বাচ্চা উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ প্রতিমন্ত্রীর

Ekattor Shadhinota
১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ | সময়ঃ ০৪:৪২
photo
কেন্দ্রীয় মুরগি খামারে বাচ্চা উৎপাদন বাড়ানোর নির্দেশ প্রতিমন্ত্রীর

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এমপি বলেছেন, দেশীয় মাছ সংরক্ষণ এবং মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে সরকার সারাদেশে মাছ অবমুক্তকরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে।  

আজ বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা  লেকে মৎস্য অধিদপ্তর কর্তৃক ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের জলাশয়ে পোনামাছ অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে কিশোরগঞ্জ থেকে প্রধান মন্ত্রী তারেক রহমান এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন এবং এরই ধারাবাহিকতায় দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় মাছের পোনা অবমুক্ত করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য, জনপ্রতিনিধি ও মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এ কার্যক্রম বাস্তবায়িত হচ্ছে। গণমাধ্যমের মাধ্যমে দেশের মানুষও এসব কার্যক্রম দেখতে পাচ্ছেন। এসময় তিনি বলেন, মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং দেশীয় প্রজাতির মাছ টিকিয়ে রাখাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেলেও বর্তমানে মাছের উল্লেখযোগ্য কোনো ঘাটতি নেই। বিশেষ করে মিঠাপানির মাছের উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। চাষির সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি চাহিদা অনুযায়ী উৎপাদন বাড়ানোর প্রচেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে।

তিনি বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ের খামারিদের উৎসাহিত করতে সরকার বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দিচ্ছে। মৎস্য খামারিরা কৃষক কার্ডের আওতায় বিভিন্ন সুবিধার আওতায় আসবেন। খামারিদের জন্য সহজ শর্তে ঋণসহ সরকারের বিভিন্ন প্রণোদনা প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হয়।

মাছের খাদ্য ও অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহারের বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে  প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিরাপদ মাছ উৎপাদনের জন্য সচেতনতা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। অপ্রয়োজনীয় অ্যান্টিবায়োটিক ব্যবহার বন্ধে খামারিদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা খামারিদের আধুনিক ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাছ চাষের পরামর্শ দিচ্ছেন। এতে উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি অপচয় ও উৎপাদন ব্যয়ও কমছে।

তিনি বলেন, মানসম্মত মাছের খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে। নিম্নমানের ফিড উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ রোধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছে। যাতে খামারিরা মানহীন খাদ্য ব্যবহার না করেন এবং ভোক্তারা নিরাপদ মাছ পান, সে লক্ষ্যে তদারকি আরও জোরদার করা হয়েছে।

ঢাকা জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের বাস্তবায়নে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো:  শাহজামান খান, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো: খালেদ কনক, বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানার পরিচালক ডা: মো: শাহিনুর আলম, মৎস্য অধিদপ্তরের ঢাকা বিভাগের পরিচালক মো: আহসান হাসিব খান, কেন্দ্রীয় মুরগি খামারের পরিচালক জিনাত সুলতানা, চিড়িয়াখানার কিউরেটর মো: হাবিবুর রহমান, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: রোকনুজ্জামান-সহ  সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য, দেশীয় মাছের উৎপাদন ও জীববৈচিত্র্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে বাংলাদেশ জাতীয় চিড়িয়াখানা লেকে ২৫০ কেজি পোনামাছ অবমুক্ত করা হয়েছে। অবমুক্ত করা পোনামাছের মধ্যে রয়েছে- ১০০ কেজি রুই, ৭৫ কেজি কাতলা এবং ৭৫ কেজি কালিবাউস। এসব পোনামাছের আকার ১০ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার। মোট প্রায় ২ হাজার ৫৭৫টি পোনামাছ অবমুক্ত করা হয়। এর মধ্যে রুই প্রায় ১ হাজার ১০০টি, কাতলা প্রায় ৬০০টি এবং কালিবাউস প্রায় ৮৭৫টি।

শেয়ার করুন...

আরও পড়ুন...

ফেসবুকে আমরা…