কামরুল কুদ্দুস রেইনি (সুইডেন বিএনপি’র সাবেক মহাসচিব) মাননীয়
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০২৬ শালের ১১ই ফেব্রুয়ারী ১৩তম জাতীয় নির্বচনে
নিরঙ্কুস সংখ্যাঘরিষ্ঠতা লাভ করে বাংলাদেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় আসীন হন। তিনি
বাংলাদেশের সবচাইতে সফল ও জনপ্রিয় রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের জ্যেষ্ঠ ছেলে।
তারেক জিয়ার মাতা বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম সফল মহিলা
প্রধানমন্ত্রী। দেশের জনগন স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান
কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত সবচেয়ে জনপ্রিয় জাতীয়তাবাদি দল বিএনপিকে বিপুল
ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী করে তারেক রহমানকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়ীত্ব প্রদান করেন।
বিগত ২০২৪ এর জুলাই মাসে দেশের আপামর জনগনের অংশ গ্রহনে একটি গন
বিপ্লবের মাধ্যমে স্বৈরাচার ও ভারতীয় তাবেদার হাসিনা সরকারের পতন ঘটিয়ে
দেশে একটি গনতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টি করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় স্বাধীনতার
৫৫ বছরের ইতিহাসে ড. মোহাম্মদ ইউনুস এর নেতৃৃতাধীন তত্তাবধায়ক
সরকারের অধীনে সবচেয়ে নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগন তারেক রহমানের
নেতৃত্বাধীন বিএনপি’র উপর আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপন করে সরকার গঠনের
সুযোগ প্রদান করেন।
দীর্ঘ ১৭ বছর যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত জীবন কটিয়ে তিনি জুলাই বিপ্লবের পরে
দেশে ফিরে আসেন এবং সরকার গঠন করেন। তার চাল-চলন, আচাড়-ব্যবহার ও কথা-
বার্তায় ইউরোপীয় রাজনীতির ভাবধারা ফুটে উঠে। তিনি একজন সাধারন
মানুষের ন্যায় সাদাসিধে পোষাক পরিধান করে চলফেরা করেন। তার মধ্যে ক্ষমতার দাপট
বা অহংঙ্কার বলতে কিছু লক্ষ্য করা যায় না বরং জনগন কর্তৃক ক্ষমতাপ্রাপ্ত একজন
বিনয়ী নেতার চারিত্রিক বৈশিষ্ট তার কর্মকান্ডে ফুটে উঠে। এতে প্রতীয়মান হয়
যে তিনি তার পিতা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অসমাপ্ত কাজ পরিপুর্ন করতে
পারবেন। জনগনের আস্থা ও বিশ্বাসের মর্যাদা তিনি রক্ষা করতে পারবেন। ক্ষমতা
গ্রহনের মাত্র ছয় মাসের মধ্যে তারেক রহমান সবক্ষেত্রে অভুতপুর্ব সাফল্য অর্জন
করেছেন। বিরোধী দলের সাথে সংলাপ চালিয়ে তিনি এক নজীরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন
করেছেন। ইতিমধ্যে তিনি সাধারন মানুষের কাতারে শামিল হয়েছেন এবং
জনকল্যানকর কিছু কিছু পদক্ষেপ গ্রহন করেছেন। তিনি ক্ষমতায় বসেই
কুটনৈতিক ক্ষেত্রে ব্যাপক সাফল্য অর্জন করেছেন। সবার আগে বাংলাদেশ নীতি
অনুস্বরন করে দেশের স্বার্থকে সবক্ষেত্রে প্রধান্য দিচ্ছেন।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৭ বছর যুক্তরাজ্যে থেকে বুঝতে পেরেছেন
একটি শহরকে কিভাবে পরিস্কার পরিচছন্ন রাখতে হয়। ঢাকা শহরে যত্রতত্র ময়লা
আবর্জনা পড়ে থাকায় তার ভীষন খারাপ লেগেছে। এতে প্রমানিত হয় তিনিই
পারবেন একটি তিলোত্তমা রাজধানী শহর তৈরী করতে। তবে স্বৈরাচারী সরকারের
যাতাকলে পিষ্ট বাংলাদেশকে কাঙ্খীত লক্ষ্যে পৌছাতে প্রধানমন্ত্রীকে সময় দিতে
হবে। তিনি ইতিমধ্যে ফেমিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরন শুরু করেছেন।
জনাব তারেক রহমান তিস্তা প্রকল্প সহ সামরিক বাহিনীকে শক্তিশালী করার জন্য
মেঘা মেঘা প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ন্যায়
সাদাসিধে জীবনযাবন করছেন এবং রাষ্ট্রীয় কর্মকান্ডে কৃচ্ছতা সাধন করছেন।
ফলে, দেশ ও জনগনের কল্যানে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করছেন বলে বিশ্লেষকরা
মনে করেন। জনাব তারেক রহমান জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থ বছরের বাজেট
বক্তৃতায় রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ও অভ্যন্তরীন বিষয় একটি রূপরেখা তুলে ধরেন। যাতে দেশ
ও জাতির কাঙ্খীত আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটে। তিনি বলেন, স্বৈরাজারী হাসিনা
সরকার তার ষোল বছরের দুঃশাসনের সময় প্রতিবেশী একটি দেশকে খুশী করার জন্য
দেশের অর্থনীতি, শিক্ষানীতি, পররাষ্ট্রনীতি ও সামরিক শক্তিকে ধ্বংশ করে
গিয়েছেন।সংসদে সাহসিকতার সাথে এধরনের একটি বক্তব্য রাখার ফলে
প্রতীয়মান হয় যে, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনিই পারবেন জনগনের আশা-
আকাঙ্খা পুরন করতে। এছাড়া, তিনি রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে, তার পিতা শহীদ
রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে অনুস্বরন করে চলেছেন।অতএব, তার নেতৃত্বাধীন
মন্ত্রী পরিষদ এর সকল সদস্যের কর্তব্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অনুস্বরন
করা।এক্ষেত্রে কোন ব্যত্যয় ঘটলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে ে
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ন্যায় সঠিক, যোগ্য ও সৎ লোকদের রাষ্ট্রীয়
দায়ীত্বে নিয়োজিত করবেন এবং কঠোর হস্তে দূর্নীতি দমন করবেন। ইতিমধ্যে
কতৃত্ববাদী ও স্বৈরাচারী হাসিনা আমলের রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন আহমদ চুপ্পু
পদত্যাগ করেছেন। ফলে, গনমানুষের শেষ আশা-আকাঙ্খার প্রতিশলন ঘটেছে।
ছয় মাসের শেষে জনাব তারেক রহমান মন্ত্রী পরিষদে একটি চমকপ্রদ পরিবর্তন
এনেছেন। অযোগ্য লোকদের সড়িয়ে যোগ্য লোকদের স্থান করে দিয়েছেন। এটা করে
তিনি একটা সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। জনাব তারেক রহমান সম্প্রতি ভারত
সফর বাতিল করে একটি মহা বিরত্বের পরিচয় দিয়েছেন। তিনি স্বৈরাচার শেখ
হাসিনা ও হাদী হত্যাকারীদের বাংলাদেশে প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে দৃঢ় আত্মপ্রত্যয়ের
পরিচয় দিয়ে জাতির ভুয়শী প্রশংসা কুড়িয়েছেন। এছাড়া মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর
নেতৃত্বাধীন সরকার ইসলামিক ন্যাটো জোটে যোগদান করার ঐতিহাসিক
সিদ্ধান্ত গ্রহন করায় তার জোড়ালো বৈদেশিক নীতি অবলম্বনের বার্তা বহন করে।
সঠিক কথা বলতে গেলে, মাত্র ছয় মাস সময়ের মধ্যে মাননীয় প্রধানমনত্রী তারেক
রহমান নজীরবিহীন সফল্য অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন। অতএব, দলও মত নির্বিশেষে
সকলকে তারেক রহমানের হাতকে শক্তিশালী করার জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে
হবে।সংসদে ও সংসদের বাহিরে বিরোধী দলগুলোকে তারেক রহমানের পাশে থেকে তার
হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। এক্ষেত্রে রেমিটেন্স যোদ্ধা প্রবাসীদেরকেও এগিয়ে
আসতে হবে প্রধানমন্ত্রীর হাতকে শক্তিশালী করার জন্য। দেশে বিনিয়োগ বাড়াতে
হবে এবং জনগনকে কঠোর পরিশ্রশ করে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।