logo

সময়: ০৩:০৯, বুধবার, ০৭ অক্টোবর, ২০২৬

২১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ০৩:০৯ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ খবর

ইরান যুদ্ধ নয়, ইউক্রেন-ডেমোক্র্যাটদের কারণে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম: ট্রাম্প

Ekattor Shadhinota
০৬ অক্টোবর, ২০২৬ | সময়ঃ ১২:২৬
photo
ইরান যুদ্ধ নয়, ইউক্রেন-ডেমোক্র্যাটদের কারণে বাড়ছে জ্বালানি তেলের দাম: ট্রাম্প

জ্বালানি তেলের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির জন্য ইরান যুদ্ধকে দায়ী না করে ডেমোক্র্যাট এবং ইউক্রেনকে অভিযুক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।  

মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) নিজের সামাজিক মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক বার্তায় তিনি দাবি করেন, ক্যালিফোর্নিয়ার মতো ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রিত অঙ্গরাজ্যে অভ্যন্তরীণ তেল শোধনাগার বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং রাশিয়ার শোধনাগারগুলোতে ইউক্রেনের দফায় দফায় হামলা চালানোর কারণেই এই দাম বাড়ছে।

নিজের ট্রুথ সোশ্যাল বার্তায় ট্রাম্প লেখেন, ‘পেট্রোলিয়ামের দাম বাড়ার পেছনে আর হরমুজ প্রণালির ভূমিকা নেই, কারণ সেখান থেকে এখন প্রায় প্রতিদিনই রেকর্ড পরিমাণ তেল বাইরে আসছে। বরং আসল সমস্যা হচ্ছে তেল শোধনাগারগুলো নিয়ে, যেখানে একদিকে ইউক্রেন রাশিয়ার শোধনাগারগুলো উড়িয়ে দিচ্ছে, অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের কারণে ক্যালিফোর্নিয়ার মতো নীল অঙ্গরাজ্যগুলোতে আমাদের নিজস্ব শোধনাগারগুলো বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। ’

তবে ট্রাম্পের এই দাবির বিপরীতে বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন বলে জানিয়েছে আমেরিকান অটোমোবাইল অ্যাসোসিয়েশন (এএএ)। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর হরমুজ প্রণালি দিয়ে দৈনন্দিন তেল সরবরাহ ৯৭ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে, যার ফলে বাজারে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে।  

বিশ্ববাজারে টানা কমছে জ্বালানি তেলের দামবিশ্ববাজারে টানা কমছে জ্বালানি তেলের দাম
বর্তমানে দেশটিতে প্রতি গ্যালন পেট্রোলের গড় দাম ৪.৩৬ ডলারে ঠেকেছে, যা এক মাস আগে ছিল ৪.১৪ ডলার এবং গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যৌথ হামলা চালানোর আগে ছিল ২.৯৮ ডলার।

সেন্টার ফর অ্যা নিউ আমেরিকান সিকিউরিটির জ্যেষ্ঠ ফেলো রেচেল জিয়েম্বা বলেন, রাশিয়ার শক্তি অবকাঠামোয় ইউক্রেনের হামলা এবং ক্যালিফোর্নিয়ায় শোধনাগার বন্ধের ঘটনা বিশ্ব বাজারে ডিজেলের ঘাটতি তৈরি করেছে ঠিকই, কিন্তু তেলের মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ এখনও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির সরবরাহ ব্যবস্থা।  

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইউক্রেনীয় হামলায় রাশিয়ার তেল শোধনের ক্ষমতা অর্ধেকেরও বেশি অকার্যকর হয়ে পড়েছে এবং গত ১৮ মাসে দেশটির ডিজেল উৎপাদন ৩০ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এস অ্যান্ড পি গ্লোবালের বিশ্লেষণে দেখা যায়, ক্যালিফোর্নিয়ায় দুটি শোধনাগার বন্ধ হওয়ায় অঙ্গরাজ্যটির শোধনাগার সক্ষমতা ১৭ শতাংশ কমে গেছে। মূল্যবৃদ্ধির জন্য ট্রাম্প ডেমোক্র্যাটদের ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করলেও সাম্প্রতিক এপি-এনওআরসি জনমত জরিপে দেখা গেছে, ৬৫ শতাংশ আমেরিকান জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির জন্য ট্রাম্পের নীতিকেই দায়ী করছেন এবং ৬১ শতাংশ মনে করছেন যে ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর দেশের অর্থনীতি আগের চেয়ে খারাপ হয়েছে।

শেয়ার করুন...

আরও পড়ুন...

ফেসবুকে আমরা…