এবারের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার খাতা পুনর্মূল্যায়নের পর ৪ হাজার ৫৮৫ জন শিক্ষার্থী ফেল থেকে পাস করেছেন। একই সঙ্গে নতুন করে জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩ হাজার ৭৯ জন। খাতা মূল্যায়নে এ ধরনের অসঙ্গতির জন্য সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকদের প্রশিক্ষণ ও জবাবদিহির আওতায় আনার কথা জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উদযাপন নিয়ে জাতীয় স্টিয়ারিং কমিটির সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পুনর্মূল্যায়নের পর যেসব খাতায় ভুল বা দুর্বলতা শনাক্ত হয়েছে, সেগুলোর পরীক্ষকদেরও শনাক্ত করা হয়েছে। তাদের প্রশিক্ষণের পাশাপাশি জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।
তিনি বলেন, ‘যিনি খাতা দেখেছেন, সে খাতা কোন একজনের দেখেছেন—এটা শনাক্ত হয়েছে। তাদের ট্রেনিং এবং জবাবদিহিতা—এটা করতেই হবে। ’
এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন শিক্ষার্থী। তাদের মধ্যে পাস করেছেন ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন। পাসের হার ছিল ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ, যা গত ১৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।
ফল প্রকাশের পর ১২ লাখ ৮৬ হাজার পুনর্মূল্যায়নের আবেদন জমা পড়ে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী। পুনর্মূল্যায়নে ২৭ হাজার ৮৩৬ জনের গ্রেড এবং ৫৬ হাজার ২৫৯ জনের নম্বর পরিবর্তন হয়েছে।
খাতা পুনর্মূল্যায়নের ব্যবস্থা এবারই আইনে যুক্ত করা হয়েছে জানিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগে মূলত ট্যাবুলেশন শিটে নম্বর যোগের বিষয়টি যাচাই করা হতো। এবার পুরো খাতা পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ রাখা হয়েছে।
পুনর্মূল্যায়নে বড় সংখ্যক ফল পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি বলেন, এসব খাতায় পরীক্ষকদের কী ধরনের দুর্বলতা ছিল, তা যাচাই করতে কমিটি করা হয়েছে। মূল্যায়নে যারা ব্যর্থ হয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া যায়, সেটিও পরবর্তীতে জানানো হবে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, খাতা মূল্যায়নে দুর্বলতা, স্বজনপ্রীতি বা ম্যানিপুলেশনের কোনো ঘটনা থাকলে সেগুলোও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ বিষয়ে আরও কিছু তথ্য সামনে আসতে পারে বলেও জানান তিনি।
এদিকে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আগামী ৫ অক্টোবর দেশের ১০০ জন গুণী শিক্ষককে সম্মাননা দেবে সরকার। প্রত্যেক শিক্ষককে নগদ এক লাখ টাকা, ক্রেস্ট ও সম্মাননা সনদ দেওয়া হবে। ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষকদের হাতে সম্মাননা তুলে দেবেন।
প্রাথমিকের শিক্ষক বদলি প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, বদলি পুরোপুরি বন্ধ নয়; চলমান প্রক্রিয়ার কিছু বিষয় নিষ্পত্তি করতে বদলি করতে হচ্ছে। তবে ভবিষ্যতে বদলিতে অনিয়ম ঠেকাতে অনলাইনভিত্তিক ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।