আবদুল বাসেদ,সিনিয়র রিপোর্টার নোয়াখালী:
নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীর ফায়েজিয়া এতিমখানায় জালিয়াতি ও ভুয়া ক্যাশ মেমো তৈরির মাধ্যমে দীর্ঘ দিন ধরে অঢেল টাকা আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে এতিমখানা পরিচালনা কমিটির সেক্রেটারি মোঃ শফিকুর রহমানের (শফিক) বিরুদ্ধে। স্থানীয় বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে তিনি ভুয়া বিল-ভাউচার বানিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে বছরের পর বছর ধরে সরকারি বরাদ্দ হাতিয়ে নিয়েছেন।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, 'মেসার্স আকবর স্টোর' ও 'ফয়সাল ড্রাগ হাউজ'-সহ স্থানীয় বাজারের নামীদামি দোকানের প্যাড, সিল ও ভুয়া স্বাক্ষর ব্যবহার করে প্রতি মাসে লাখ লাখ টাকার ভূতুড়ে খরচের হিসাব দাখিল করা হতো। দোকান মালিকরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, এতিমখানায় তারা এ ধরনের কোনো মালামাল বিক্রি করেননি এবং বিলে থাকা মেমো বা স্বাক্ষর সম্পূর্ণ ভুয়া ও জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি। গোপন ক্যামেরার সামনে এসব ভুয়া সিল-স্বাক্ষরের বিষয়ে জানতে চাইলে এতিমখানার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি শফিক কোনো সদুত্তর এ বিশাল অপকর্ম ও জালিয়াতি নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাওয়ার পেছনে শফিকের রাজনৈতিক পরিচয় ছিল মূল হাতিয়ার। বিগত সরকারের আমলে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে আতাত রেখে প্রশাসনিক সব ধরনের নজরদারি এড়াতেন। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর নতুন ব্যানার ও নতুন ক্ষমতার পরিচয় ব্যবহার করে তিনি এসব জালিয়াতি ও লুটপাট ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা চালিয়ে আসছিলেন। কিন্তু অনুসন্ধানী সাংবাদিকদের প্রতিবেদনে তার এই বহুরূপী রাজনৈতিক আড়াল ও প্রতারণার চিত্র এখন জনসম্মুখে পরিষ্কার হয়ে গেছে।