logo

সময়: ১০:১৪, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

১৭ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১০:১৪ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ খবর

গবেষণায় অবদান: স্টেট ইউনিভার্সিটির ১৭ শিক্ষককে সম্মাননা

Ekattor Shadhinota
৩১ আগস্ট, ২০২৬ | সময়ঃ ০২:০৩
photo
গবেষণায় অবদান: স্টেট ইউনিভার্সিটির ১৭ শিক্ষককে সম্মাননা

উচ্চমানের গবেষণা এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন জার্নালে গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে (SUB) ১৭ জন শিক্ষক ও গবেষককে সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে। বিশ্বব্যাপী স্বীকৃত Q1 ও Q2 জার্নালে গবেষণা প্রকাশের জন্য তাদের ‘SUB Excellence Awards 2025’ প্রদান করা হয়।


সোমবার (২৪ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে Best Research and Publication 2025 ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত ১৭ জন শিক্ষক ও গবেষকের হাতে গ্র্যান্ট ও অ্যাওয়ার্ড তুলে দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত একাডেমিক কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ বছরও গবেষণায় বিশেষ অবদানের জন্য এ সম্মাননা প্রদান করা হলো।


এ বছর স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের শিক্ষক ও গবেষকদের ৯১টি গবেষণা প্রবন্ধ Q1 ও Q2 জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। ২০২৪ সালে এ সংখ্যা ছিল ৭৫টি। ফলে এক বছরের ব্যবধানে নির্বাচিত গবেষণা প্রবন্ধের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ২১.৩ শতাংশ। গবেষণা প্রকাশনার এই অগ্রগতি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণার মান, পরিধি এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একাডেমিক অবদানের ধারাবাহিক উন্নতির প্রতিফলন।


অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. আহমেদ হোসাইন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমের পাশাপাশি গবেষণার মানোন্নয়নকে প্রতিষ্ঠানটি বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে আসছে।


তিনি বলেন, “একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক উৎকর্ষ শুধু শ্রেণিকক্ষের শিক্ষাদানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; মানসম্মত গবেষণা ও আন্তর্জাতিক প্রকাশনাও এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক। আমাদের শিক্ষক ও গবেষকদের এই অর্জন নিঃসন্দেহে গর্বের এবং এটি বিশ্ববিদ্যালয়ে গবেষণার পরিবেশকে আরও সমৃদ্ধ করবে। ভবিষ্যতে গবেষণার সুযোগ ও সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের মাধ্যমে আমরা এ অগ্রযাত্রাকে আরও এগিয়ে নিতে চাই।”
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস প্রফেসর এবং ফার্মাসিউটিক্যাল কেমিস্ট্রি বিভাগের প্রফেসর ড. মোঃ আব্দুর রশীদ। তিনি উচ্চমানের গবেষণার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক পরিচিতি ও একাডেমিক মর্যাদা বৃদ্ধিতে মানসম্মত গবেষণার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।


তিনি বলেন, “গবেষণার ক্ষেত্রে সংখ্যার পাশাপাশি গুণগত মানের ওপর গুরুত্ব দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। Q1 ও Q2 জার্নালে গবেষণা প্রকাশের মাধ্যমে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের শিক্ষকরা আন্তর্জাতিক গবেষণা পরিমণ্ডলে নিজেদের অবস্থান তৈরি করছেন। এ ধরনের স্বীকৃতি শিক্ষক ও গবেষকদের আরও উচ্চমানের গবেষণায় উৎসাহিত করবে। আমি আশা করি, স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ ভবিষ্যতে মৌলিক ও প্রয়োগভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।”


অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্য দেন স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের মাননীয় উপাচার্য (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর ড. মোঃ হাসান কাওসার। তিনি সম্মাননাপ্রাপ্ত শিক্ষক ও গবেষকদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, গবেষণাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক একাডেমিক উন্নয়নের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।


তিনি বলেন, “স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশে গবেষণার সংস্কৃতি আরও শক্তিশালী করতে আমরা ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আমাদের শিক্ষক ও গবেষকদের আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন জার্নালে প্রকাশনা বৃদ্ধি নিঃসন্দেহে একটি ইতিবাচক অর্জন। ‘SUB Excellence Awards’ শুধু একটি সম্মাননা নয়, এটি গবেষকদের আরও উচ্চমানের গবেষণায় উৎসাহিত করার একটি প্রাতিষ্ঠানিক স্বীকৃতি। আমরা চাই, আমাদের গবেষণা যেন শুধু আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত হওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থাকে; বরং দেশের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, প্রযুক্তি, ব্যবসা ও সমাজের বাস্তব সমস্যার সমাধানেও কার্যকর ভূমিকা রাখে।”


তিনি আরও বলেন, “২০২৪ সালের ৭৫টি গবেষণা প্রবন্ধ থেকে ২০২৫ সালে ৯১টি Q1 ও Q2 জার্নালে প্রকাশনা আমাদের গবেষণাক্ষেত্রে অগ্রগতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ভবিষ্যতে আরও বেশি আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন গবেষণা ও প্রকাশনা নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রয়োজনীয় একাডেমিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা অব্যাহত রাখবে।”


অনুষ্ঠানে সম্মাননাপ্রাপ্ত ১৭ জন শিক্ষক ও গবেষকের হাতে SUB Excellence Awards 2025 এবং সংশ্লিষ্ট গবেষণার জন্য গ্র্যান্ট প্রদান করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্কুল ও বিভাগের ডিন, চেয়ারপারসন, শিক্ষক, গবেষক এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।


বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, গবেষণার মানোন্নয়ন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণা প্রকাশনা বৃদ্ধি এবং শিক্ষক ও গবেষকদের গবেষণায় আরও উৎসাহিত করার লক্ষ্যে এ ধরনের উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। এর মাধ্যমে স্টেট ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী গবেষণাভিত্তিক উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা আরও জোরদার করা হবে।
 

শেয়ার করুন...

আরও পড়ুন...

ফেসবুকে আমরা…