logo

সময়: ০৩:২৬, সোমবার, ০৩ আগস্ট, ২০২৬

১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ০৩:২৬ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ খবর

নড়াইল জেলা সমিতি, ঢাকার হস্তান্তর, দায়িত্ব গ্রহণ ও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

Ekattor Shadhinota
০২ আগস্ট, ২০২৬ | সময়ঃ ০৩:০৭
photo
নড়াইল জেলা সমিতি, ঢাকার হস্তান্তর, দায়িত্ব গ্রহণ ও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

ঢাকা, ১ আগস্ট ২০২৬ (শনিবার), সন্ধ্যা ৬:০০টা।

সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও উৎসবমুখর পরিবেশে নড়াইল জেলা সমিতি, ঢাকার হস্তান্তর, দায়িত্ব গ্রহণ ও শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হোটেল সারিনা ঢাকায় অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে নড়াইল জেলার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সরকারি কর্মকর্তা, সমাজসেবী, ব্যবসায়ী, সংগঠক এবং সমিতির সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সচিব এবং গ্রেটার যশোর সমিতি, ঢাকার সভাপতি জনাব মোঃ ওবায়দুর রহমান। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নড়াইল জেলা সমিতি, ঢাকার আহ্বায়ক জনাব খবির উদ্দিন আহমেদ। অনুষ্ঠান পরিচালনা এবং আহ্বায়ক কমিটির কার্যক্রম ও রিপোর্ট উপস্থাপন করেন আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সচিব ও ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার জনাবা শামীমা পারভীন। এছাড়া গ্রেটার যশোর সমিতির অন্যান্য জেলার প্রেসিডেন্ট, জেনারেল সেক্রেটারিগন অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নড়াইল জেলা সমিতি, ঢাকার নবনির্বাচিত সভাপতি জনাব আসজাদুর রহমান মিঠু, নবনির্বাচিত ৪১ সদস্যবিশিষ্ট কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যবৃন্দ এবং নড়াইলের অসংখ্য বিশিষ্ট ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমের সূচনা হয়। পরে আহ্বায়ক কমিটির পক্ষ থেকে নবনির্বাচিত কমিটির নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব, অফিসের নথিপত্র এবং হিসাবপত্র হস্তান্তর করা হয়। প্রধান নির্বাচন কমিশনার অ্যাডভোকেট আবুল কালাম আজাদ নবনির্বাচিত সভাপতি ও কার্যনির্বাহী পরিষদের সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করান।

সভাপতির বক্তব্যে জনাব খবির উদ্দিন আহমেদ বলেন, নড়াইল জেলা সমিতির এ সফল যাত্রা সকল সদস্যের ঐক্য, আন্তরিকতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। তিনি নবনির্বাচিত কমিটির প্রতি সততা, জবাবদিহিতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সমিতির কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানান। তিনি বিশেষভাবে শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং ঢাকায় বসবাসরত নড়াইলের শিক্ষার্থী ও তরুণদের পাশে দাঁড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি তিনি নড়াইলের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে জেলার উন্নয়ন, ভাবমূর্তি ও সম্ভাবনাকে আরও এগিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানান।

সদস্য সচিব জনাবা শামীমা পারভীন তাঁর বক্তব্যে নির্বাচন, দায়িত্ব হস্তান্তর এবং অনুষ্ঠান সফলভাবে সম্পন্ন করতে সহযোগিতাকারী আহ্বায়ক কমিটি, নির্বাচন কমিশন, আপিল বোর্ড ও সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, নড়াইল জেলা সমিতি শুধু দেড় হাজার নিবন্ধিত সদস্যের সংগঠন নয়, এটি নড়াইলের প্রতিটি মানুষের সংগঠন। তাই সমিতির কার্যক্রম শুধু সদস্যদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না। ধর্ম, বর্ণ, জাত, কুল, পেশা, আর্থিক অবস্থা, শিক্ষিত বা অশিক্ষিত, নারী বা পুরুষ, তরুণ বা প্রবীণ—কোনো বিভেদ না করে নড়াইলের প্রতিটি মানুষকে সমান দৃষ্টিতে দেখতে হবে। তাঁদের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়াতে হবে এবং পারস্পরিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও সম্প্রীতির ভিত্তিতে একটি মানবিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ঐক্যবদ্ধ নড়াইল গড়ে তুলতে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন, শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেই নড়াইল জেলা সমিতিকে একটি কার্যকর, সেবামুখী ও জনকল্যাণমূলক সংগঠনে পরিণত করতে হবে।

নবনির্বাচিত সভাপতি জনাব আসজাদুর রহমান মিঠু তাঁর বক্তব্যে নড়াইল জেলা সমিতিকে একটি আধুনিক, গতিশীল, স্বচ্ছ ও সেবামুখী সংগঠনে রূপান্তরের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। তিনি সকল সদস্যের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন এবং ঐক্য, জবাবদিহিতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের ভিত্তিতে নড়াইলের মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

প্রধান অতিথি জনাব মোঃ ওবায়দুর রহমান তাঁর বক্তব্যে নড়াইল জেলা সমিতির ঐতিহ্য, সাংগঠনিক শক্তি এবং সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, জেলার উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, নতুন নেতৃত্বের মাধ্যমে নড়াইল জেলা সমিতি শিক্ষা, সমাজকল্যাণ, দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং সামাজিক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় আরও কার্যকর ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি তিনি বৃহত্তর যশোর সমিতির নিজস্ব ভবনে যশোর অঞ্চলের চার জেলার উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে ঢাকায় আগত শিক্ষার্থীদের জন্য একটি ডরমিটরি স্থাপনের উদ্যোগ গ্রহণে কাজ করার আশ্বাস প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানের শেষপর্যায়ে নির্বাচন কমিশন, আপিল বোর্ডের সদস্যবৃন্দ এবং অনুষ্ঠানে বিশেষ অবদান রাখা অতিথিদের সম্মাননা ক্রেস্ট প্রদান করা হয়। পরে ধন্যবাদ জ্ঞাপন, গ্রুপ ফটোগ্রাফ, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং নৈশভোজের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি সাফল্যের সঙ্গে সমাপ্ত হয়।

শেয়ার করুন...

আরও পড়ুন...

ফেসবুকে আমরা…