logo

সময়: ১২:৫৭, বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬

১৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১২:৫৭ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ খবর

অধ্যক্ষের অবহেলায় পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত মহাদেবপুরের অসুস্থ মীম

Ekattor Shadhinota
২৮ জুলাই, ২০২৬ | সময়ঃ ১০:৫০
photo
অধ্যক্ষের অবহেলায় পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত মহাদেবপুরের অসুস্থ মীম

বিশেষ প্রতিনিধি: ২৮ জুলাই ২০২৬ইং
অধ্যক্ষের অবহেলায় চলমান এইচএসসি পরীক্ষা-২০২৬ এর পদার্থ বিজ্ঞান-২য় পত্র (১৭৫) থেকে
বঞ্চিত হয়েছেন মহাদেবপুরের অসুস্থ মীম। নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর উপজেলার মোঃ
মোশাররফ হোসেন মিনু এর একমাত্র মেধাবী কন্যা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা
বোর্ড, রাজশাহী এর অধীনে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান
বিভাগের একজন নিয়মিত পরীক্ষার্থী মোসাঃ মীম মেহজেবীন।
গত ১৫ জুলাই, ২০২৬ তারিখ সকাল ১০:০০ টা থেকে তার পদার্থবিজ্ঞান-২য় পত্র (১৭৫) পরীক্ষা
নির্ধারিত ছিল। ওই দিন যথা সময়ে কেন্দ্রে উপস্থিত হওয়ার জন্য পরীক্ষার উদ্দেশ্যে বাড়ি
থেকে অনেক আগেই রওনা হয়েছিল মীম। কিন্তু হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে রাস্তায় জ্ঞান
হারিয়ে ফেললে অভিভাবক ও পথচারীদের সহায়তায় তাৎক্ষণিকভাবে তাকে ্#৩৯;মহাদেবপুর উপজেলা
স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স্#ে৩৯; নেওয়া হয় (চিকিৎসাপত্রের সিরিয়াল নংÑ৮৫৭০১) যাহার রেজিঃ নং-
১৬০৭ এবং সেখানে জরুরিভিত্তিতে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কিছুটা সুস্থতা
বোধ করায় অভিভাবকরা তাকে নিয়ে দ্রুত পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌছে যান। অসুস্থতার কারণে
কেন্দ্রে পৌঁছাতে আনুমানিক ১৫/২০ মিনিট বিলম্ব হওয়ার ফলে তিনি সকাল ১০টা ১৫
থেকে ১০টা ২০ মিনিটের মধ্যেই কেন্দ্রে উপস্থিত হয়। পরীক্ষা কেন্দ্রের গেটে পরিচয়
পর্বের অনুষ্ঠানুকতায় কিছুটা সময় অতিবাহিত হওয়ার পরে কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত
কর্মকর্তার শরণাপন্ন হয়ে বিষয়টি খুলে বলেন এবং চিকিৎসার ব্যবস্তাপত্র দেখান। তখন
তিনি বিষয়টি বিবেচনাধীন রেখে পরীক্ষা দিতে পারবে এমন আশ্বাস দিয়ে পরীক্ষার্থী
মীমকে কেন্দ্রের ভেতরে প্রায় ১ ঘণ্টা বসিয়ে রাখার পরে আইনি জটিলতা দেখিয়ে পরীক্ষা
থেকে বিরত রাখেন। মোসাঃ মীম মেহজেবীন জাহাঙ্গীরপুর সরকারি বালিকা বিদ্যালয় ও
কলেজ, মহাদেবপুর, নওগাঁ এর শিক্ষার্থী এবং তার পরিক্ষা কেন্দের নাম জাহাঙ্গীরপুর সরকারি
কলেজ-২৬৫, মহাদেবপুর, নওগাঁ।
শিক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা: বৈরী আবহাওয়া বা অনিবার্য পরিস্থিতির কারণে শিক্ষার্থীদের
পরীক্ষা কেন্দ্রে পৌঁছাতে দেরি হওয়া এবং বিশেষ পরিস্থিতিতে পরীক্ষা দেরিতে শুরু করার
নজির রয়েছে। এমনকি কোনো পরীক্ষার্থী সম্পূর্ণ অনুপস্থিত থাকলেও তাদের পরবর্তীতে
চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীনে স্থগিত হওয়া পরীক্ষার্থীদের সাথে পরবর্তীতে পরীক্ষা
যথানিয়মে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার বিশেষ ঘোষণা দিয়েছেন মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী।
দেরির কারণ: অসুস্থতার বিষয়টি মেডিকেল সার্টিফিকেট এবং দেরির কারণ
সন্তোষজনক হলে সাধারণত কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ মানবিক দিক বিবেচনা করে নির্দিষ্ট
সময়ের জন্য তাকে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অনুমতি দিয়ে থাকেন। যেহেতু পরীক্ষা পরিচালনার
চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কেন্দ্র সচিবের হাতে ন্যস্ত থাকে, তাই কোন পরীক্ষার্থী অসুস্থতার

কারণে দেরিতে উপস্থিত হলে তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে
যোগাযোগ করে পরিস্থিতি খুলে বলতে হয়।
এ বিষয়ে এক সাক্ষাৎকারে পরীক্ষার্থী মোসাঃ মীম মেহজেবীন বলেন, পরীক্ষা কেন্দ্রের
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমাকে এক ঘন্টা বসিয়ে রেখে বলেন, যে অসুস্থ হওয়ার সাথে
সাথেই আমাকে কেন কেন্দ্র নিয়ে আসা হয়নি, জাতির কাছে আমার প্রশ্ন আমার
জায়গায় যদি আপনাদের সন্তান হতো তাহলে কি আপনারা আপনার সন্তানকে আগে
হসপিটালে নিয়ে যেতেন নিয়ে যেতেন নাকি পরীক্ষার কেন্দ্রে নিয়ে যেতেন? অনেক
অনুরোধ, অনুনয়-বিনয় এমনকি পায়ে পরার পরেও পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ না দিয়ে
আমার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে বাসায় ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেন। ফলে আমার জীবনের অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ এই পরীক্ষাটিতে আমি অংশগ্রহণ করতে পারিনি উল্লেখ করে মীম আরও
বলেন, আমি এই আকস্মিক ও অনাকাক্সিক্ষত শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টি মানবিক
দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করার জন্য বিষয়টি অবগত করে চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীনে
স্থগিত হওয়া পরীক্ষার্থীদের সাথে পরবর্তীতে পদার্থ বিজ্ঞান-২য় পত্র (১৭৫) পরীক্ষা
যথানিয়মে অংশগ্রহণের সুযোগ চেয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক
শিক্ষা বোর্ড, রাজশাহী বরাবরে আবেদন করেছি। এবং ইতোমধ্যে আবেদনের অনুলিপি
সদয় অবগতির জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে প্রেরন করেছি। যার নাম মোসাঃ মীম
মেহজেবীন, রোল নম্বর: ১১৩৯৪৮ ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর: ২১১২৬৯২৬৩৯ সেশন-২৪-২৫। আমার
একটায় চাওয়া আমাকে পরিক্ষা দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক। মানসিকভাবে অপ্রস্তুত
থাকায় সাংবাদিকদের নিকট সাক্ষাৎকারে বিলম্ব হলো।
পরীক্ষার্থীর বাবা-মা বলেন, আমাদের মেয়েটা আল্লাহর রহমতে খুবই মেধাবী। গত
এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে। এবারও আমরা
মেয়েটাকে নিয়ে খুব আশাবাদী সে জিপিএ-৫ পাবে। এখন এই অনাকাক্সিক্ষত
অসুস্থতার কারণে আমাদের মেয়েটি পদার্থবিজ্ঞান দ্বিতীয় পত্র (১৭৫)পরীক্ষা দিতে পারেনি।
মিম অসুস্থ হওয়ার পরে তার অধ্যয়নরত সংস্লিষ্ট কলেজে যোগাযোগ করে তার অসুস্থতার
ব্যাপার প্রতিষ্ঠান প্রধান কে জানানো হয়। এমতাবস্থায় আমারা মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী,
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সহ সকল সুশীল সমাজের প্রতি
আবেদন আমাদের মেয়েটাকে এই পরীক্ষা চট্টগ্রাম বোর্ডের সাথে যথা নিয়মে নেওয়ার
জন্য আকুল আবেদন জানাচ্ছি। তাহলে আমার মেয়েটার জীবন থেকে মূল্যবান একটি বছর
নষ্ট হবে না। এই আকস্মিক ও অনাকাক্সিক্ষত শারীরিক অসুস্থতার বিষয়টি মানবিক
দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে আমার মেয়েটাকে দয়া করে পরীক্ষাটি দেওয়ার সুযোগ
দিবেন। আল্লাহ না করুক আমাদের মেয়ে এক বছর অপেক্ষা করার বিষয়টি যদি মেনে
নিতে না পেরে যদি সে আত্মহত্যার মত কোন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে তখন কি হবে? সকলের
কাছে আমাদের প্রশ্ন রাখলাম। আমাদের একটাই মেয়ে অনেক আশা ভরসা তাকে নিয়ে।
আমাদের মেয়ের ডিপ্রেশনে আত্মহত্যা বা অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার জন্য পরীক্ষার কেন্দ্র
কর্তৃপক্ষ দায়ী থাকবে। আমাদের অনুরোধ রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড কর্তীক সঠিক তদন্ত
সাপেক্ষে আমার মেয়েকে চট্টগ্রাম বোর্ডের অধীনে স্থগিত হওয়া পরীক্ষার্থীদের সাথে

পরবর্তীতে পদার্থবিজ্ঞান-২য় পত্র (১৭৫) পরীক্ষায় যথানিয়মে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার
জন্য আপনাদের মাধ্যমে অনুরোধ করছি। ইতোমধ্যে রাজশাহী শিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা
নিয়ন্ত্রক বরাবর একটি পত্র প্রেরন করা হয়েছে।
এই বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, এইচএসসি বা
সমমান পরীক্ষায় পরীক্ষার্থী অসুস্থতার কারণে ১৫-২০ মিনিট সময় দেরিতে কেন্দ্রে
উপস্থিত হলে তাকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণে বাধা দেওয়ার এমন কোনো কঠোর নীতিমালা
বোর্ড বা প্রাতিষ্ঠানিক আইন কিংবা বিধি বা নীতিমালা নেই। বরং পরীক্ষা শুরুর পর
৩০ মিনিট পর্যন্ত সময়ের মধ্যে পৌঁছালে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ শিক্ষা
বোর্ডের নীতিমালায় আছে যা মানবিক বিবেচনায় থাকে। পরীক্ষার নির্ধারিত সময়ের
পরে বা দেরিতে উপস্থিত হলে কিছু নির্দিষ্ট নিয়ম অনুসরণ করে পরীক্ষা গ্রহন করার
ব্যবস্থা আছে।
পরীক্ষা কেন্দ্রর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি এই
ব্যাপারে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান।

শেয়ার করুন...

আরও পড়ুন...

ফেসবুকে আমরা…