logo

সময়: ১২:৫৩, রবিবার, ২৬ জুলাই, ২০২৬

১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১২:৫৩ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ খবর

আগাম ঘোষণা দিয়ে অপরাধী ধরার সুযোগ নেই: চট্টগ্রামের এসপি মাসুদ আলম

Ekattor Shadhinota
২৫ জুলাই, ২০২৬ | সময়ঃ ০৬:৪৯
photo
সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম।

আগাম ঘোষণা দিয়ে অনেক ধরনের কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হলেও অপরাধী ধরার ক্ষেত্রে তা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানের পরিকল্পনা আগে থেকে প্রকাশ করা হলে অপরাধীরা সতর্ক হয়ে যাবে। তাই এসব বিষয়ে আগাম কিছু জানানো যায় না।


শনিবার (২৫ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। পটিয়া উপজেলার কেলিশহর ইউনিয়নের পাহাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে অস্ত্র উদ্ধার ও দুইজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।  

রাউজানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কোনো বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে এসপি মাসুদ আলম বলেন, 'আমরা আসলে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছি। এগুলো আগাম ঘোষণা দিয়ে তো আসলে করা যায় না। আগাম ঘোষণা দিয়ে নির্বাচন করা যায় বা আগাম ঘোষণা দিয়ে অনেক কাজকর্ম করা যায়। কিন্তু আগাম ঘোষণা দিয়ে অপরাধী ধরার সুযোগ নেই। তাহলে তো আরো জেনে যাবে তারা আমাদের প্লানগুলো। আমরা চাই না যে, আমাদের প্লানগুলো জেনে যাক। কিন্তু এটা ধরে রাখেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং জেলা পুলিশ আমরা একেবারে নিবিচ্ছিন্ন কাজ করে যাচ্ছি।'

আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, 'চট্টগ্রামে কিন্তু নির্বাচন লাগে না। এখানে উত্তর, দক্ষিণ, মধ্যভাগ, পশ্চিমভাগ এরকম অনেকগুলো জায়গা আছে। এসব আলাদা এলাকাভিত্তিক কিছু অপরাধী চক্র আছে। এসব ব্যাপারে আমাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য আছে। আরো তথ্য আমরা জোগাড় করছি।

তারা যেন এমন কিছু না করে যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি বা ভেঙে পড়ার মত অবস্থা হয়। এটা কোনোভাবেই আমরা বরদাশত করব না। যারা যারা এই তৎপরতার সাথে জড়িত, তাদের আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসব।'

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা শাখার অভিযানে পটিয়া উপজেলার কেলিশহর ইউনিয়নের দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে চারটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার করা হয়েছে দুইজনকে।

অভিযান সম্পর্কে তিনি বলেন, 'পটিয়া উপজেলার কেলিশহর ইউনিয়নের একেবারে প্রত্যন্ত দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সন্ত্রাসীদের দখলে থাকা চারটি আগ্নেয়াস্ত্রসহ অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে, যা দিয়ে বিভিন্ন সময় মানুষকে ভয়ভীতি দেখানো, এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করা। বিশেষ করে পাহাড়ি এলাকায় একটু নির্বিঘ্নে এসব কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে।'

শুক্রবার পরিচালিত এ অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয় ৫৪ বছর বয়সী দেলোয়ার হোসেন ও ৩৩ বছর বয়সী মহসিনকে। দেলোয়ার কেলিশহর ইউনিয়নের ইন্নারপাড়া গ্রামের মৃত দুলা মিয়ার ছেলে এবং মহসিন একই গ্রামের নুরে আলম পুচুমের ছেলে।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে দেলোয়ারের বসতঘরের খাটের নিচে তল্লাশি চালিয়ে ছয়টি কিরিচ, পাঁচটি রামদা, একটি ধামা, একটি লোহা কাটার এবং দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। পরে ইউনিয়নের ছাতিভাঙা এলাকার আফছারের বাগানে অভিযান চালিয়ে দুটি একনলা বন্দুক ও দুটি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।

অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে এসপি মাসুদ আলম বলেন, চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকার সুযোগ নিয়ে ছোট ছোট অনেক বাহিনী বা সন্ত্রাসী গোষ্ঠী গড়ে উঠেছে। আমরা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সকল রকমের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি বজায় থাকবে। ভবিষ্যতে কোনো অপরাধী অপরাধ করে পার পাবে না; এটা নিশ্চয়তা দিতে পারি।

তিনি বলেন, এটা সূচনা। ভবিষ্যতে আরো বড় অভিযান পরিচালনা করব। যারা এ ধরনের কার্যক্রমের সাথে জড়িত, তাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসব। এদের কাছে আরো বিভিন্ন রকম আগ্নেয়াস্ত্র আছে, এটা আমরা জানি। ক্লোজ মনিটরিং আছে, এটা নিয়ে আমরা কাজ করছি।

সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন...

আরও পড়ুন...

ফেসবুকে আমরা…