আবদুল বাসেদ, সিনিয়র রিপোর্টার নোয়াখালী -নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) কোষাধ্যক্ষ পদে ড.আব্দুল কাইয়ুম মাসুদ রয়েছেন আলোচনার তুঙ্গে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, এ পদে নিয়োগের দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন এবং আব্দুল মালেক উকিল হলের প্রভোস্ট ড. আব্দুল কাইয়ুম মাসুদ ফ্যাসিস্ট আমলে ও অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও দুর্নীতি দুঃশাসনের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুর্দিনে দুঃসময়ে শিক্ষক শিক্ষার্থীদের কাছে এক অবিচল আস্থার নাম হয়ে উঠেছিলেন তিনি।
তৎকালীন সময়ে স্রোতের বিপরীতে ন্যায়ের পথে চলতে গিয়ে নানান ঘাত প্রতিঘাত সহ্য করতে হয়েছে তাকে। যে কারণে সময় এসেছে আজ তাকে মূল্যায়নের। বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ পদবী ট্রেজারার, এই পদে পদায়িত করে তাকে সম্মানিত করার জোর দাবি উঠেছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী সমাজের মাঝে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক দক্ষতা, দীর্ঘ একাডেমিক অভিজ্ঞতা এবং গবেষণায় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে তাঁর নাম গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা করা জরুরী হয়ে উঠেছে।
বর্তমানে ড. মাসুদ নোবিপ্রবির ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন ও আব্দুল মালেক উকিল হলের প্রভোস্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি বিবি খাদিজা হলের প্রভোস্ট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। পাশাপাশি তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল, ইন্টারনাল অডিট কমিটি এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক রাজনীতিতেও তিনি সক্রিয়। তিনি বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দলের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
একাডেমিক জীবনে তাঁর রয়েছে ১৫ বছরেরও বেশি শিক্ষকতার অভিজ্ঞতা। তিনি বর্তমানে গ্রেড-৩ অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। এর আগে পাকিস্তানের ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (IBA), করাচিতে শিক্ষকতা করেছেন। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার ইনহা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে Sustainability Accounting বিষয়ে পিএইচডি এবং IBA, করাচি থেকে পোস্টডক সম্পন্ন করেছেন।
গবেষণায়ও রয়েছে তাঁর উল্লেখযোগ্য সাফল্য। গুগল স্কলারে তাঁর গবেষণাকর্মের উদ্ধৃতি (Citation) প্রায় ২ হাজার ৪০০, h-index ২২ এবং i10-index ২৭। পরিবেশগত হিসাববিজ্ঞান, করপোরেট গভর্ন্যান্স, ESG, করপোরেট ট্যাক্সেশন এবং সাসটেইনেবিলিটি বিষয়ে তাঁর গবেষণা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সমাদৃত।
শিক্ষা ও গবেষণায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি ২০২৫ ও ২০২৬ সালে টানা দুইবার ডিনস অ্যাওয়ার্ড অর্জন করেন। এছাড়া দক্ষিণ কোরিয়ার ইনহা বিশ্ববিদ্যালয়ের President’s Award for Outstanding Research এবং Outstanding Research Award লাভ করেন। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সম্মেলনে তিনি Best Paper Award ও Best Oral Presentation Award-সহ দেশি-বিদেশি একাধিক সম্মাননা অর্জন করেছেন।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, প্রশাসনিক অভিজ্ঞতা এবং গবেষণায় আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার কারণে কোষাধ্যক্ষ পদের দায়িত্ব পালনে ড. মাসুদ একজন যথাযোগ্য প্রার্থী হতে পারেন।
তবে কোষাধ্যক্ষ পদে নিয়োগের বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি হয়নি। ফলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিত না হতে পেরে উদ্বিগ্ন রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।