Masud Rana
মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী: ক্ষমতার অপব্যবহার পরিহার করে
অপরাধীদের মনে ভীতি এবং নিরপরাধ মানুষের মনে নিরাপত্তা ও
প্রশান্তি জাগাতে নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান
জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। শনিবার সকালে
রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমি-এর প্যারেড
গ্রাউন্ডে ৪৩তম বিসিএস পুলিশ ব্যাচের শিক্ষানবিশ সহকারী
পুলিশ সুপারদের এক বছর মেয়াদি মৌলিক প্রশিক্ষণের সমাপনী
কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান
জানান।
ম
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্যারেড পরিদর্শন ও অভিবাদন গ্রহণ করেন
এবং প্রশিক্ষণে বিভিন্ন ক্ষেত্রে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী কর্মকর্তাদের
মধ্যে পদক বিতরণ করেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, দেশ একটি ঐতিহাসিক
পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং এই পরিবর্তনশীল বাস্তবতায়
নবীন কর্মকর্তাদের দায়িত্ব আরও বেড়েছে। সততা, দক্ষতা ও
পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি মানবিক আচরণ
এবং আইনের প্রতি গভীর শ্রদ্ধাশীল থাকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন
তিনি।
নবীন কর্মকর্তাদের ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সৈনিক হিসেবে
উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আইনের প্রতি অবিচল আস্থা, নাগরিকদের
প্রতি দায়িত্ববোধ ও জবাবদিহিতাই হবে তাদের কাজের মূল
ভিত্তি। তিনি আরও বলেন, আইনের চোখে সবাই সমানÑসে
রাজনৈতিক কর্মী হোক বা প্রান্তিক কৃষকÑএ বিষয়টি
সবসময় মনে রাখতে হবে।
তিনি বাহিনীর শক্তি হিসেবে চেইন অব কমান্ড, শৃঙ্খলা, আনুগত্য
ও সমন্বিত নেতৃত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে সেভাবেই দায়িত্ব পালনের
নির্দেশ দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালের ছাত্র গণ-অভ্যুত্থানের শহিদদের
আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা নতুন বাংলাদেশে পুলিশ
বাহিনীকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে মুক্ত রাখা হবে। সরকার
পুলিশকে জনগণের বন্ধু হিসেবে গড়ে তুলতে চায় এবং একটি
স্বাধীন ‘পুলিশ সংস্কার কমিশন’ গঠনের মাধ্যমে নিয়োগ, বদলি
ও পদোন্নতিতে মেধা ও জ্যেষ্ঠতাকে প্রাধান্য দেওয়ার উদ্যোগ
নিয়েছে।
ডিজিটাল অপরাধ দমনে নবীন কর্মকর্তাদের আধুনিক
প্রযুক্তিগত জ্ঞান অর্জনের ওপরও জোর দেন তিনি। পাশাপাশি
বর্তমান পুলিশ পোশাক পরিবর্তনের বিষয়েও সরকারের উচ্চপর্যায়ে
আলোচনা চলছে বলে জানান।
অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মিজানুর
রহমান মিনু ও ফারজানা শারমীন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত
ছিলেন মো. আলী হোসেন ফকির। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জি
এম আজিজুর রহমান।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১ মার্চ শুরু হওয়া এই ব্যাচে মোট ৭২ জন
প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করেন। প্রশিক্ষণে অসামান্য
কৃতিত্বের জন্য শিক্ষানবিশ এএসপি মোঃ ফাহিম ফয়সাল বেস্ট
প্রবেশনার ও ‘বেস্ট একাডেমিক ক্যাটাগরিতে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন
করেন। এছাড়া ‘বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ’ পদক পান মো.
আরাফাত হোসেন, বেস্ট হর্সম্যানশিপ পান শাওন রেজা এবং ‘বেস্ট
শ্যুটার’ হন বাপী কুমার দাশ।
পাসিং আউট প্যারেড শেষে নবীন সহকারী পুলিশ সুপাররা দেশের
বিভিন্ন জেলায় ছয় মাসের বাস্তব প্রশিক্ষণের জন্য পদায়িত
হবেন।