logo

সময়: ১১:১৬, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ, ২০২৬

৩ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১১:১৬ অপরাহ্ন

সর্বশেষ খবর

জনগণের আস্থা হারালে শক্তি প্রয়োগেও শান্তি আসে না: সারদায় নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

Masud Rana
১৮ জানুয়ারী, ২০২৬ | সময়ঃ ১০:২৪
photo
জনগণের আস্থা হারালে শক্তি প্রয়োগেও শান্তি আসে না: সারদায় নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী: সাহস মানে বিপদের মুখে দাঁড়ানো
নয়; সাহস মানে অন্যায় আদেশ না মানা, অন্যায়কে প্রশ্রয় না দেওয়া এবং
জুলুমের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াÑএমন মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মোঃ জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
রোববার সকালে রাজশাহীর সারদায় বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমিতে পুলিশের
৪১তম বিসিএস ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথির
বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রশিক্ষণ সম্পন্নকারী সহকারী পুলিশ সুপারদের উদ্দেশে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ কোনো স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর অংশ নয়; এটি
জনগণের ট্যাক্সের টাকায় পরিচালিত রাষ্ট্রীয় বাহিনী। জনগণের কল্যাণই
পুলিশের একমাত্র ব্রত। কোনো রাজনৈতিক পরিচয়, ব্যক্তি সম্পর্ক, প্রভাব বা
চাপ যেন বিবেককে দুর্বল করতে না পারেÑসে বিষয়ে সবসময় সতর্ক
থাকতে হবে। ব্যক্তিস্বার্থ, লোভ বা রাজনৈতিক সুবিধার অংশ হয়ে কাজ
করলে তা শুধু আইন ভঙ্গই নয়, রাষ্ট্রের ভিত্তিকেও দুর্বল করে।
তিনি বলেন, দেশের মানুষ ভয় সৃষ্টি করা নয়Ñনিরাপত্তা ও আস্থার নিশ্চয়তা
দেওয়া পুলিশ প্রত্যাশা করে। যে পুলিশ মানুষের কথা মনোযোগ দিয়ে
শোনে, কষ্ট বোঝে এবং সম্মান ও ভদ্রতার সঙ্গে আচরণ করে। আইন প্রয়োগ
মানেই কঠোরতা নয়; প্রকৃত শক্তি ন্যায়ের মধ্যে। বিচার আদালতের দায়িত্ব
হলেও তদন্ত, গ্রেপ্তার ও আচরণে পুলিশের বিচক্ষণতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করাই
সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। মানবিক আচরণ কোনো দুর্বলতা নয়; এটি
আধুনিক, দক্ষ ও আত্মবিশ্বাসী পুলিশের পরিচয়।
সেবা গ্রহণে পুলিশের সঙ্গে মানুষের মুক্ত যোগাযোগের গুরুত্ব তুলে ধরে
উপদেষ্টা বলেন, জনগণ হাসিমুখে সেবা নিয়ে বাড়ি ফিরতে চায় এবং
রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে পুলিশের জবাবদিহিতা প্রত্যাশা করে।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, মানবিক মর্যাদা ও আইনের শাসন রক্ষার দায়িত্ব
মাঠপর্যায়ের পুলিশের আচরণের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। জনগণের আস্থা
অর্জিত হলে আইন প্রয়োগ সহজ হয়; আস্থা হারালে শক্তি প্রয়োগেও শান্তি
প্রতিষ্ঠা করা যায় না।
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রসঙ্গে নবীন পুলিশ কর্মকর্তাদের
দেশপ্রেম, সততা ও শতভাগ নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান
জানিয়ে তিনি বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন
অনুষ্ঠানে পুলিশের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো প্রার্থী বা
এজেন্টের কাছ থেকে কোনো ধরনের অনৈতিক বা অবৈধ
সুবিধাÑএমনকি খাবারওÑগ্রহণ করা যাবে না। কেন্দ্রের কোনো অনিয়ম

বা বিশৃঙ্খলা রিটার্নিং অফিসার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পরামর্শ
অনুযায়ী কঠোর হাতে দমন করতে হবে।
নতুন পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি আস্থা প্রকাশ করে উপদেষ্টা বলেন, দেশের
ইতিহাস, মানুষের আত্মত্যাগ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রত্যাশা হৃদয়ে ধারণ করে
জবাবদিহিতা, আইনের শাসন ও নিরপেক্ষতা বজায় রেখে দুর্নীতি ও পক্ষপাত
থেকে দূরে থাকতে হবে এবং নতুন বাংলাদেশ পুনর্গঠনে নিজেদের
নিয়োজিত করতে হবে।
এর আগে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা সমাপনী কুচকাওয়াজে প্যারেড পরিদর্শন ও
অভিবাদন গ্রহণ করেন এবং বিভিন্ন বিষয়ে শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী
প্রশিক্ষণার্থীদের হাতে পদক ও সনদ তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব নাসিমুল গণি, পুলিশের
মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম, বাংলাদেশ পুলিশ একাডেমির
প্রিন্সিপাল মো. তওফিক মাহবুব চৌধুরীসহ সামরিক ও বেসামরিক
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া প্রশিক্ষণার্থীদের
অভিভাবক এবং ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকরাও অনুষ্ঠানে
অংশ নেন।
উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া ৪১তম বিসিএস পুলিশ
ব্যাচের ৯৬ জন প্রশিক্ষণার্থী এদিন প্রশিক্ষণ সমাপনী কুচকাওয়াজের মধ্য
দিয়ে কর্মজীবনে প্রবেশ করেন। কুচকাওয়াজে ৪১তম ব্যাচের ৮৭ জন ছাড়াও
২৮তম ব্যাচের ১ জন, ৩৫তম ব্যাচের ৩ জন, ৩৬তম ব্যাচের ১ জন, ৩৭তম ব্যাচের
২ জন এবং ৪০তম ব্যাচের ২ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেন।
প্রশিক্ষণে সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন বেস্ট
প্রবেশনার, মো. মেহেদী আরিফ বেস্ট একাডেমিক অ্যাওয়ার্ড, মো. সঞ্জীব
হোসেন বেস্ট ইন ফিল্ড অ্যাক্টিভিটিজ অ্যাওয়ার্ড, মোসলেহ উদ্দীন আহমেদ
বেস্ট হর্সম্যানশিপ অ্যাওয়ার্ড এবং সালমান ফারুক বেস্ট শ্যুটার
নির্বাচিত হন।

শেয়ার করুন...

আরও পড়ুন...

ফেসবুকে আমরা…