তাহিরপুরে বাঁধের ২.৫ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় ইউএনওর নাম জড়ানো নিয়ে বিভ্রান্তি, জানালেন তদন্ত চলছে

নিউজ ডেস্ক | 71shadhinota.com
আপডেট : ০২ নভেম্বর, ২০২৬
তাহিরপুরে বাঁধের ২.৫ লাখ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় ইউএনওর নাম জড়ানো নিয়ে বিভ্রান্তি, জানালেন তদন্ত চলছে

সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার হাওরের বোরো ফসলরক্ষা বাঁধ মেরামত প্রকল্পের ২ লাখ ৫৩ হাজার ৯৮৯ টাকা উত্তোলনকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যে অপপ্রচার ও লেখালেখি চলছে, তাকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর বলে দাবি করেছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিপামনি দেবী। ‘৭১ সংবাদ’-এর সাথে আলাপকালে তিনি স্পষ্ট করে জানান যে, এই আর্থিক লেনদেন বা চেক উত্তোলনের ঘটনার সাথে তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই এবং এটি তাঁর কর্মস্থলে যোগদানের আগের একটি ঘটনা। তিনি জানান, প্রকল্পটির অনুকૂলে চেকটি ইস্যু করা হয়েছিল গত ২৮ জুন, আর টাকা উত্তোলন করা হয়েছে গত ২০ সেপ্টেম্বর, অথচ তিনি ওই সময়ে এই কর্মস্থলে দায়িত্বেই ছিলেন না। সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তাঁকে এই ঘটনার সাথে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

উক্ত ঘটনায় দাপ্তরিক পদক্ষেপের বিবরণ দিয়ে ইউএনও জানান, এ বিষয়ে গত ৭ অক্টোবর পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা মনির হোসেন তাঁর নিকট একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। দায়েরকৃত ওই অভিযোগে দুই কর্মচারী এনায়েত পাটোয়ারী ও বিশ্বজিৎ সূত্রধরের নাম সুনির্দিষ্টভাবে উঠে এসেছে। অভিযোগ পাওয়ার সাথে সাথেই তিনি তাৎক্ষণিকভাবে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন এবং ঘটনার গভীরে যেতে উপজেলা সমবায় কর্মকর্তাকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমানে এই তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং খুব শীঘ্রই তদন্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়া যাবে বলে তিনি জানান। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে আসবামাত্রই এর সাথে জড়িত প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

পাশাপাশি ব্যাংকিং নিয়মালাপতির বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে, ব্যাংক ম্যানেজারও অনুমোদিত এবং বৈধ ব্যক্তি ছাড়া হুট করে কাউকে এ ধরনের সরকারি প্রকল্পের টাকা হস্তান্তর করতে পারেন না; ফলে ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের কোনো গাফিলতি বা সম্পৃক্ততা আছে কি না, সে বিষয়টি ও অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্তের আওতায় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে “তাহিরপুরে বাঁধের কাজের অর্থ আত্মসাৎকারী এনায়েত পাটোয়ারী” শিরোনামে যে গ্রাফিক কার্ড বা পোস্টারটি ব্যাপকভাবে ভাইরাল হয়েছে, তার ক্যাপশনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জড়িয়ে যে সমস্ত তথ্য প্রচার করা হচ্ছে তা সম্পূর্ণ অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।