অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক স্মরণে বিজিপির আলোচনা সভা

নিউজ ডেস্ক | 71shadhinota.com
আপডেট : ২৯ আগস্ট, ২০২৬
অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক স্মরণে বিজিপির আলোচনা সভা

অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের জীবনদর্শন ও দেশের সাম্প্রতিক রাজনীতি নিয়ে একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ গণমুক্তি পার্টি (বিজিপি)-র উদ্যোগে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংকট, জনদুর্ভোগ এবং অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের চিন্তা-চেতনা নিয়ে বিশিষ্ট বক্তারা গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা রাখেন। বাংলাদেশ গণমুক্তি পার্টির সভাপতি এম এ আলীম সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ। এছাড়া বিশেষ আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ লেবার পার্টির সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক প্রধান, একই দলের সাংগঠনিক ও দপ্তর সম্পাদক আব্দুল হক, বাংলাদেশ ন্যাপের সাংগঠনিক সম্পাদক সোহরাব হাসান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন, সৈয়দ হারুনুর রশিদ এবং অমূল্য কুমার দত্তসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

সভাপতির বক্তব্যে এম এ আলীম সরকার বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির কঠোর সমালোচনা করে বলেন, পূর্ববর্তী সরকারের একগুঁয়েমির কারণে রাষ্ট্রব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে এবং বর্তমানে প্রতিক্রিয়াশীল অশুভ শক্তি দেশকে নৈরাজ্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও ঢাকা কলেজে মব সন্ত্রাস সৃষ্টির মাধ্যমে নব্বইয়ের দশকের ছাত্রশিবিরের অন্ধকার ইতিহাস ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ সময় দেশের জ্বালানি, গ্যাস ও লাগামহীন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে সাধারণ মানুষ দিশেহারা হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে অবিলম্বে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম নিয়ন্ত্রণ এবং বেকারত্ব দূর করার জোরালো দাবি জানান তিনি। কৃষক-শ্রমিক-মজলুম মানুষের কণ্ঠস্বর হিসেবে অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকের অবদানের কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ২০২৩ সালের ২৫ আগস্ট তিনি বিজিপি ঘোষণা করেন এবং তাত্ত্বিক ও প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ফজলুল হক সবসময় বিশ্বাস করতেন যে, কেবল নির্বাচনই গণতন্ত্র নয়, বরং রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের প্রকৃত অংশগ্রহণই হলো আসল গণতন্ত্র। অনুষ্ঠানে অন্য বক্তাদের মধ্যে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ দেশের সাম্প্রতিক রাজনীতি এবং শিক্ষাব্যবস্থার নানা দিক নিয়ে বিশ্লেষণধর্মী আলোচনা করেন।

উল্লেখ্য, বিশিষ্ট চিন্তাবিদ ও প্রবীণ বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক ১৯৪০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে চার দশক ধরে শিক্ষকতা করেছেন। শিক্ষা ও সাহিত্য ক্ষেত্রে অবদানের জন্য তিনি ১৯৮১ সালে বাংলা একাডেমি পুরস্কার লাভ করেন এবং ১৯৮২ সাল থেকে প্রগতিশীল ‘লোকায়ত’ পত্রিকার সম্পাদনার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। তাঁর আপসহীন রাজনৈতিক নৈতিকতার নজির হিসেবে অতীতে জিয়াউর রহমান, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ, খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনার পক্ষ থেকে দেওয়া বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা বা পদ গ্রহণের প্রস্তাব তিনি সসম্মানে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। সভা শেষে বক্তারা “জয় হোক কৃষক শ্রমিক মেহনতি মানুষের, জয় হোক বাংলাদেশ গণমুক্তি পার্টির” স্লোগানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান সমাপ্ত করেন।