ভূরুঙ্গামারীতে পুলিশের দিনব্যাপী মাদকবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান

নিউজ ডেস্ক | 71shadhinota.com
আপডেট : ০২ আগস্ট, ২০২৬
ভূরুঙ্গামারীতে পুলিশের দিনব্যাপী মাদকবিরোধী সাঁড়াশি অভিযান

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলাজুড়ে দিনব্যাপী মাদকবিরোধী বিশেষ সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে পুলিশ। অভিযানে প্রায় ৪ কেজি গাঁজা উদ্ধার, এক গাঁজা চাষিকে গ্রেপ্তার এবং বিভিন্ন স্থান থেকে গাঁজা গাছ জব্দ করা হয়েছে। রবিবার ( ২আগষ্ট) ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুনের নেতৃত্বে ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেল ও থানার একাধিক টিম উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পৃথক অভিযান পরিচালনা করে এসব মাদক উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, রবিবার সকাল আনুমানিক ১০টার দিকে ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের দফাদার মোড় সংলগ্ন সরু সেতুর ওপর একটি অস্থায়ী চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়। এ সময় ভূরুঙ্গামারী বাজারগামী একটি অটোরিকশায় তল্লাশি চালিয়ে ধানের ভূষিভর্তি একটি বস্তার ভেতর থেকে প্রায় ১ কেজি ভারতীয় গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক পরিবহনকারী কৌশলে চলন্ত অটোরিকশা থেকে লাফিয়ে পালিয়ে যায়। উদ্ধারকৃত গাঁজা পরিত্যক্ত আলামত হিসেবে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) মূলে আদালতে পাঠানো হবে। পরবর্তীতে তদন্তের মাধ্যমে মাদকের প্রকৃত মালিক শনাক্ত করা গেলে তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এরপর দুপুর ১২টার দিকে চর ভূরুঙ্গামারী ইউনিয়নের পাইকডাঙ্গা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফজর আলী শুক্কুর (৫৫), পিতা- মৃত ছফর আলীকে তার নিজ বসতবাড়ির উঠান থেকে দুটি পরিপক্ব গাঁজা গাছসহ গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানায়, তিনি গাঁজা চাষের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলছে।

দিনব্যাপী অভিযানের শেষ পর্যায়ে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোনাহাট পুরাতন রেলসেতু ও নবনির্মিত সড়কসেতুর মধ্যবর্তী নদীর তীর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মালিকানাবিহীন আরও দুটি গাঁজা গাছ জব্দ করা হয়। এসব গাঁজা গাছের প্রকৃত মালিক শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ বিষয়ে ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, “মাদককারবারিরা যেখানেই বা যে কৌশলেই মাদক ব্যবসা পরিচালনা করুক না কেন, পুলিশ তা উদঘাটনে সক্ষম। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান ধারাবাহিকভাবে চলবে। মাদকমুক্ত ভূরুঙ্গামারী গড়ে তুলতে পুলিশের পাশাপাশি এলাকাবাসীর আন্তরিক সহযোগিতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।” পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদক নির্মূল ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে ভবিষ্যতেও এ ধরনের বিশেষ অভিযান আরও জোরদার করা হবে। পাশাপাশি মাদক ব্যবসায়ী ও চোরাকারবারিদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকবে।