জলঢাকায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৯ জন চিকিৎসক দিয়ে চলছে স্বাস্থ্য সেবা ,নষ্ট শরীর পরীক্ষা নিরিক্ষার মেশিনও

নিউজ ডেস্ক | 71shadhinota.com
আপডেট : ১৭ জুন, ২০২৬
জলঢাকায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৯ জন চিকিৎসক দিয়ে চলছে স্বাস্থ্য সেবা ,নষ্ট শরীর পরীক্ষা নিরিক্ষার মেশিনও

হাসানুজ্জামান সিদ্দিকী হাসান জলঢাকা নীলফামারী প্রতিনিধি

নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি বর্তমানে ৯ জন চিকিৎসক দিয়ে চলছে স্বাস্থ্য সেবা কার্যক্রম  ,নষ্ট শরীর পরীক্ষা নিরিক্ষার মেশিনও।

উপজেলার প্রায় ৫ লাখ মানুষের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত  করার জন্য ৩১ শয্যার হাসপাতালটি ১৫ বৈশাখ ১৩৮১ বাংলা সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও বর্তমানে চিকিৎসার জন্য আসা রোগীররা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত।  

মঙ্গলবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সর, জনবল সঙ্কট সহ বিভিন্ন সমস্যার কারনে চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। পুরাতন ভবনে ৩১ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিকে ১৭ জানুয়ারী ২০১২ ইং সালে নতুন ভবনে  ৫০ শয্যার অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হয়েছে। তবে ৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও সে তুলনায় কোনো বরাদ্দ মিলছে না। ৫০ শয্যা বিশিষ্ট উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রতিদিন শতশত রোগী আসে বর্হিবিভাগে চিকিৎসার জন্য। এদিকে উপজেলার প্রায় ৫ লাখ মানুষের জন্য  ৯ জন চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার পরেও ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত রোগীরা। আর শরীরের বিভিন্ন  পরীক্ষা নিরিক্ষার মেশিন ও নষ্ট। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার কমপক্ষে ৪ লাখ মানুষ চিকিৎসাসেবা প্রত্যাশা করেন ৫০শয্যা বিশিষ্ট উপজেলার  এ হাসপাতালে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চলছে তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির জনবল ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক সংকট। সাথে শরীর পরীক্ষা নিরিক্ষার মেশিন ও নষ্ট।হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, উপজেলার এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ২০১২ সালে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। প্রতিষ্ঠার পর এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে মোট মঞ্জুরিকৃত পদ হচ্ছে ২৪৯ জন। এর মধ্যে কর্মরত রয়েছেন ১৫৯ জন। শুন্য পদ  ৯০ জন।এ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রতিষ্ঠার পর সরকার কর্তৃক  মোট মঞ্জুরী কৃত ১ম শ্রেনীর চিকিৎসকের  পদ ৩৩ জন জন থাকলে ও কর্মরত রয়েছেন মাত্র ৯ জন।শুন্য পদ রয়েছে ২৪টি। কর্মরত ৯ জন চিকিৎসক রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে হিমসিম খাচ্ছেন। ২য় শ্রেনীর সিনিয়র ষ্টাফ নার্স মঞ্জুরীকৃত পদ ২৫ জন,কর্মরত আছে ২৫ জন,পদ খালি নাই। তৃতীয় শ্রেণির ষ্টাফ ১০৪টি পদ থাকলেও কর্মরত আছেন ৫৯ জন,শুন্য রয়েছে ৪৫ টি। চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীর ২৮টি পদের মাত্র ১৩ জন কর্মরত আছেন শুন্য আছে ১৫,জন, মিডওয়াইফ পদ ০৮ টি,কর্মরত ৮ জন,শুন্য নাই, সিএইচসিপি পদ ৪৩ টি,কর্মরত আছেন ৪২ জন, শুন্য আছে ১ জন। আউটসোর্সিং এ ৮ টি পদ, কর্মরত নাই, শুন্য আছে ৮ টি। পরিচ্ছন্নকর্মী ৫ জনের পদ থাকলেও বর্তমানে রয়েছে ১ জন। এছাড়া, গাইনি ও সার্জিক্যাল স্পেশালিস্টের পদ শূন্য থাকার কারনে সিজারিয়ান অপারেশনের কার্যক্রম আপাতত বন্ধ থাকায় রোগীরা পরেন ভোগান্তিতে। তাছারা অত্যাধুনিক আলট্রাসনো গ্রাম, এক্স-রে মেশিনটি অকেজো হয়ে পড়ে রয়েছে। ডেন্টাল ও চক্ষু রোগ নির্ণয়ের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি আছে কিন্তু নেই সামগ্রী।ওজনবল সংকট  ও অর্থ সংকটের কারণে এসব ব্যবহার ও মেরামত করা যাচ্ছে না। তাছাড়া হাসপাতালের নতুন ও পুরাতন দুটি সরকারি এ্যাম্ভুলেন্স থাকা সত্বেও সেগুলো বর্তমানে নষ্ট হয়ে পরে আছে। এই গাড়ী দুটির মধ্যে  পুরাতনটির ইঞ্জিনের  সমস্যা, অপর নতুন টির টায়ার সমস্যা থাকায় তা বিআরটি এর রেজিষ্ট্রেশন নাম্বার না থাকার কারনে সমাধানের জন্য  বিআরটি এর   অনুমতি  নিতে পারছে না।আর গাড়ীর ক্রয় সংক্রান্ত কাগজ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে থাকায় তা মেরামত করতে পারছে না তাই রোগীরা তার সেবা হতে বঞ্চিত হচ্ছেন।তাছাড়া হাসপাতালে সেন্ট্রাল ষ্টোর কমপ্লেক্স না থাকার কারনে সকল যন্ত্রপাতি সহ জিনিস নষ্ট হচ্ছে বিভিন স্থানে রাখার কারনে।

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা সেবা নিতে আসা উপজেলার কৈমারী ইউনিয়নের গাবরোল হাজীপাড়া   গ্রামের গোলাম আজম ,বালাপাড়া গ্রামের শহিদ ,ডাউয়াবারী নেকবক্ত  গ্রামের  আজিজুল  ইসলাম মহসেনা খাতুনসহ আরও অনেকের সাথে কথা হয়। তারা সবাই বলেন শরীরের বিভিন্ন রোগ পরীক্ষা সামগ্রী না থাকায়  ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। খুটামারা ইউনিয়নের রোগী স্বপ্না রায়ের  বলেন, জ্বর ও পেট ব্যথা নিয়ে দুইদিন থেকে চিকিৎসা নিচ্ছি,। আর সিরিআস রোগী এলেই পাঠানো হয় রংপুর হাসপাতাল বা বেসরকারি ক্লিনিকে। আর শরীরের  পরীক্ষা নিরিক্ষা করতে হয় বাইরে থেকে বেশী টাকা দিয়ে ।এদিকে দালালের খপ্পরে পরে রোগীর স্বজনেরা রোগীকে নিয়ে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে দৌঁড়ঝাপ করেন। 

স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাঃ মাহাদী হাসান জানান, এ উপজেলার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে  দূর-দূরান্ত থেকে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে পর্যাপ্ত চিকিৎসক না থাকায়।আমরা মাত্র ৯ জন চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা সেবা প্রদান করছি। রোগীদের স্বাস্থ্যসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন কর্তব্যরত চিকিৎসক। ফলে ভোগান্তিতে পড়ছেন  রোগীরা।তাই পর্যাপ্ত চিকিৎসক পেলে সকল সমস্যা সমাধান হবে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ নন্দা সেন গুপ্তা বলেন, জনবল শূন্য থাকার পরও হাসপাতালটিতে ২৪ ঘণ্টা স্বাস্থ্যসেবা স্বাভাবিক রয়েছে। আমরা সীমিত জনবল দিয়েই এ অঞ্চলের মানুষের সেবা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি।এবং  পরীক্ষা-নিরীক্ষার মেশিন নষ্ট থাকায় তা করা সম্ভব হচ্ছে না।  

এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন বলেন, জেলা সদর সহ সকল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্মকর্তা কর্মচারীর শূন্যপদের বিপরীতে জনবল নিয়োগে চাহিদা পাঠানো হয়েছে । আশা করি, জরুরী ভিত্তিতে এসব সমস্যা সমাধান হবে। তবে অনিয়ম সম্পর্কে আমার জানা নেই, কোথাও অনিয়ম হলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।