মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী: রাজশাহী মহানগরীর মতিহার
থানার ধরমপুর এলাকায় মোসাঃ ঋতু খাতুন রিয়া (২২) নামে এক
গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি
হয়েছে।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের পারিবারিক নির্যাতন,
যৌতুকের চাপ ও স্বামীর পরকীয়ার জেরে পরিকল্পিতভাবে রিয়াকে
হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের মা শিলা বাদী হয়ে তার
জামাই মিজানুর রহমান মিজানসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জনকে
আসামি করে নগরীর মতিহার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের
করেছেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ছয় বছর আগে মতিহার
থানার ডাঁশমারী মধ্যপাড়া এলাকার বাসিন্দা শিলা দম্পতির একমাত্র
মেয়ে রিয়ার সঙ্গে ধরমপুর (সোরাফানের মোড়) এলাকার মিজানুর
রহমান মিজানের বিয়ে হয়। বিয়ের পর প্রথম দিকে সংসার জীবন
স্বাভাবিক থাকলেও পরে স্বামীর পরকীয়া ও জুয়ার আসক্তিকে কেন্দ্র
করে দাম্পত্য কলহ শুরু হয় বলে অভিযোগ পরিবারের।
নিহতের মায়ের দাবি, প্রায়ই রিয়াকে শারীরিক ও মানসিক
নির্যাতন করা হতো। যৌতুকের জন্য চাপ প্রয়োগের পাশাপাশি
বাবার বাড়ির জায়গা-জমি বিক্রি করে টাকা আনার জন্যও হুমকি
দেওয়া হয়। টাকা না আনলে তাকে সংসারে থাকতে দেওয়া হবে না
বলেও ভয়ভীতি দেখানো হতো।
এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ১২ মে রাত আনুমানিক ৯টার
দিকে রিয়া তার মাকে ফোন করেছিলেন। তবে ঘুমিয়ে থাকায়
ফোনটি রিসিভ করতে পারেননি তিনি। পরে রাতেই বিবাদীপক্ষের
লোকজন এসে রিয়ার মৃত্যুর খবর দেয়। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা
ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ দেখতে পান। নিহতের শরীরের বিভিন্ন
স্থানে আঘাতের চিহ্ন দেখে পরিবারের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়।
পরে খবর পেয়ে মতিহার থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে
মরদেহ উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে
পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে বুধবার বাদ আসর স্থানীয় কবরস্থানে রিয়ার
দাফন সম্পন্ন হয়।
মৃত্যুকালে রিয়া পাঁচ বছর বয়সী এক কন্যা ও আট মাস বয়সী
এক ছেলে সন্তান রেখে গেছেন।
নিহতের পরিবার দাবি করেছে, ১২ মে রাত থেকে ১৩ মে ভোরের মধ্যে
কোনো এক সময় স্বামী মিজানুর রহমান মিজান ও তার
সহযোগীরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে যৌতুকের টাকার জন্য রিয়াকে
মারধর করে হত্যা করেছে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মামলার তদন্ত শুরু
করেছে পুলিশ।
মতিহার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম কবির জানান,
নিহত রিয়ার পরিবারের পক্ষ থেকে দুইজনকে আসামি করে একটি
হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া
হয়েছে এসআই আলমাসকে।
তিনি বলেন, নিহত রিয়ার গাল, মুখসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে
আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড
বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল
রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ওসি আরও জানান, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে ইতোমধ্যে
অভিযান শুরু করেছে পুলিশ।