ভুয়া দলিলের মাধ্যমে মাদ্রাসার জমি হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা মানব বন্ধন করেছেন এলাকাবাসী

নিউজ ডেস্ক | 71shadhinota.com
আপডেট : ২৪ এপ্রিল, ২০২৬
ভুয়া দলিলের মাধ্যমে মাদ্রাসার জমি হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা মানব বন্ধন করেছেন এলাকাবাসী

‎আবদুল বাসেদ নোয়াখালী জেলা প্রতিনিধি -নোয়াখালী পৌরসভার ৫নং ওয়ার্ডের পশ্চিম মহোদরি এলাকায় ভুয়া দলিলের মাধ্যমে এতিমখানা ও ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামিয়া আরাবিয়া আনোয়ারুল উলুম রশিদিয়া মাদ্রাসার সম্পত্তি আত্বসাৎের চেষ্টার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ, ছাত্র অভিভাবক ও স্থানীয় এলাকাবাসী।

‎শুক্রবার (২৪এপ্রিল) বাদ জুমা মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে রাস্তার উপর ঘন্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা বলেন, মাদ্রাসার সম্পত্তি আত্মসাৎের চেষ্টা কারি অপরাধীদের আইনী ও সামাজিক ভাবে প্রতিরোধ করা হবে।

‎মানববন্ধনে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ জানান, ১৯৮৪ সালে এ মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠা লাভ করে। প্রথমে এর নামকরণ করা হয় দারুল আইতাম ওয়াল ইয়াতিমাত। হাজী সিরাজুল ইসলাম ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা সেক্রেটারি ও পরিচালক। এই মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার পর আল আমিন গ্রুপ অব কোম্পানির মালিক মরহুম আনোয়ার মির্জা, মরহুম হাজী আব্দুর রশিদ সাহেব সহ দেশ-বিদেশের ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিবর্গের সহায়তায় প্রতিষ্ঠানের জন্য পুর্ব মহোদরি ও হরিনারায়ন পুর মৌজায় অনেক সম্পক্তি ক্রয় করা হয়। ঐই সময় জেলা প্রশাসক নোয়াখালী এর সভাপতিত্বে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের সমন্বয়ে একটি পরিচালনা পর্যত ছিল। এটি প্রকৃতপক্ষে একটি এতিমখানা মাদ্রাসা।
‎পরিচালনা পর্যদের অগোচরে সেক্রেটারি সিরাজুল ইসলাম নিজে দারুন আইটেম ট্রাস্ট গঠন করেন। তিনি গোপনে ট্রাস্টের নামে একটি ব্যাংক একাউন্ট খুলে মাদ্রাসার সকল অর্থ ঐ ব্যাংক একাউন্টে হস্তান্তর করতে থাকেন। এদিকে এতিমখানা তহবিল প্রায় শূন্য হয়ে পড়ে। পরিচালনা পর্যদের কাছে সিরাজুল ইসলামের প্রতারণা প্রকাশ্যে আসে। বিষয়টা নিয়ে আন্তর্জাতিক সংস্থা রাবেতা আল ইসলাম তদন্ত শুরু করে। এটি দেখে তড়িগড়ি করে সিরাজুল ইসলাম ৪/৭/১৯৯২ ইং এতিমখানার সকল দায়-দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেন। পরবর্তীতে এতিমখানা কর্তৃপক্ষ ট্রাস্টে স্থানান্তরিত টাকা মাদ্রাসার ফান্ডে ফেরত আনেন। সিরাজুল ইসলাম ১৯৯৪ সালে মৃত্যুবরণ করেন। ১৯৯৬ সালে নোয়াখালী জেলা প্রশাসকের সভাপতিত্বে মাদ্রাসার নাম পরিবর্তন করে জামিয়া আরাবিয়া আনোয়ারুল উলুম রশিদিয়া মাদ্রাসা নামকরণ করা হয়।
‎এত বছর পর সম্প্রতি মরহুম সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী মরিয়ম বেগম ও ছেলে জাকারিয়া ইসলাম লোভের বসবতি হয়ে সিরাজুল ইসলামের অকার্যকর দারুন আইতাম ট্রাস্টের ভুয়া দলিল ব্যবহার করে মাদ্রাসা সম্পত্তি আত্মসাৎ ও বিক্রির পাঁয়তারা করছে। তারা ভুমিদস্যু ওবায়েদ উল্যাকে পাওয়ার হস্তান্তর করেন। যেটি সম্পূর্ণ অন্যায় এবং অনৈতিক। এ বিষয়ে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ বিজ্ঞ যুগ্ন জেলা জজ প্রথম আদালতে দেওয়ানী ০৩/২০২৫ মামলা আনয়ন করেন । প্রতিপক্ষ আদালতকে তোয়াক্কা না করে মাদ্রাসার সম্পত্তি জোরপূর্বক মাটি ভরাট করে তা জবর দখল করার চেষ্টা করলে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও এলাকাবাসী বাধা প্রদান করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ভূমিদস্যু ওবায়দুল্লাহ মাদ্রাসার পরিচালক ও সেক্রেটারি জমির উদ্দিন ও পরিচলনা পরিষদের সদস্য ফারুক হোসেন শহীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা আনয়ন করে।

‎বক্তারা বলেন, আমরা আইনি প্রক্রিয়া লড়াই অব্যাহত রেখেছি ভূমিদস্যু মাদ্রাসা সম্পত্তি আর্তসাথ চেষ্টাকারীদের কখনো সফল হতে দেব না। এলাকাবাসী এ অন্যায়কে মেনে নেবে না। সবাই মিলে প্রতিহতো করবো। তারা এতিমদের মাদ্রাসার সম্পত্তি রক্ষার্থে সাংবাদিকদের মাধ্যমে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ভূমি দস্যুদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ সহ ন্যায় বিচার কামনা করেন।

‎মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন,এডভোকেট সামছুল ফারুক,এডভোকেট আবদুর রহমান মঞ্জু ,জিয়াউল হক ইনু,জামিয়া আরাবিয়া আনোয়ারুল উলুম রশিদিয়া মাদ্রাসার মোহতামিম মাওলানা জমির উদ্দিন,পরিচালনা পরিষদ সদস্য ফারুক হোসেন সহিদ,মোঃ শাওন প্রমুখ। এসময় স্থানীয়া এলাকাবাসী মাদ্রাসা ছাত্র অভিভাবক ও পরিচালনা পর্যতের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।