রাজশাহীতে পুলিশ কর্মকর্তাকে পিটিয়ে জখমের অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন

নিউজ ডেস্ক | 71shadhinota.com
আপডেট : ১৮ এপ্রিল, ২০২৬
রাজশাহীতে পুলিশ কর্মকর্তাকে পিটিয়ে জখমের অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন

মাসুদ রানা রাব্বানী, রাজশাহী: রাজশাহী নগরীর বোয়ালিয়া
থানাধীন অলোকার মোড় এলাকায় এক পুলিশ কর্মকর্তাকে মারধরের
অভিযোগ উঠেছে। আহত ওই কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর কোমল
রক্ষিত (৪৫), যিনি বর্তমানে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার
উখিয়া থানাধীন ১৪ এপিবিএন-এ কর্মরত।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে অলোকার মোড়
এলাকায় বোর্ড চেয়ারম্যানের বাসভবনের পাশে এ ঘটনা ঘটে।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি
করেন। চিকিৎসকরা জানান, তার মাথায় পাঁচটি সেলাই দিতে
হয়েছে এবং তিনি বর্তমানে হাসপাতালের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে
চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আহত কোমল রক্ষিতের অভিযোগ, পারিবারিক জমি-সংক্রান্ত
বিরোধের জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। তিনি জানান, শ্বশুরের মৃত্যুর
পর তার শাশুড়ি নিজের নামে থাকা জমি তার স্ত্রী ও শ্যালিকার নামে
দলিল করে দেন। পরবর্তীতে ওই জমিতে তিনি নিজ খরচে একটি
বাড়ি নির্মাণ করে ভাড়া দেন। তবে স্থানীয় দীপক নামে এক ব্যক্তি
ভাড়াটিয়াদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে ভাড়ার অর্থ আত্মসাৎ করছিলেন
বলে অভিযোগ করেন তিনি।
কোমল রক্ষিত বলেন, কর্মস্থল দূরে হওয়ায় নিয়মিত এলাকায় থাকতে
পারতেন না। বিষয়টি মীমাংসার জন্য ছুটি নিয়ে রাজশাহীতে
এসে ভাড়াটিয়ার সঙ্গে কথা বলার সময় দীপক তার ওপর হামলা চালায়।
তার হাতে থাকা প্রায় ৩ থেকে ৪ পাউন্ড ওজনের একটি তালা দিয়ে
মাথায় আঘাত করা হলে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে দীপকের দুই
ভাই প্রশান্ত ও প্রদীপ লোহার রড ও পাইপ দিয়ে শরীরের বিভিন্ন
স্থানে আঘাত করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনার সময় জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করা হলে
পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি
করে।
শিরোইল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই গোলাম রসুল বলেন, খবর
পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে
হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পারিবারিক

বিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অভিযোগ
পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে বোয়ালিয়া থানার ওসি (তদন্ত) এএইচএম সিরাজুর
রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি
হননি। তবে কথা বলার একপর্যায়ে তিনি কিছুটা উচ্চস্বরে
প্রতিক্রিয়া জানান।
রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার মো.
গাজিউর রহমান বলেন, এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত
অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে
প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।