আগামী ১৩ তম জাতীয় নির্বাচনে লেভেল প্লেইং ফিল্ড সার্বিকভাবে সংরক্ষন করতে হবে।

নিউজ ডেস্ক | 71shadhinota.com
আপডেট : ২১ জানুয়ারী, ২০২৬

কামরুল কুদ্দুস রেইনি ঃ(প্রবাস থেকে) বাংলাদেশে ২০২৬ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারী অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে
১৩তম জাতীয় নির্বাচন। ইতিমধ্যে নির্বাচনী তফসিল ঘোষনা করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রধান
প্রধান দল ও জোট গুলো মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছে। তবে, এই নির্বাচনে স্বচ্ছতা, নিরপেক্ষতা ও
গ্রহনযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অনেকে মনে করছেন, অতীতের ন্যায় আগামী জাতীয় নির্বাচন
একটি পাতানো নির্বাচনে রূপ নিতে পারে। ইতিমধ্যে অনেকগুলো দলের নেতাকর্মীরা সন্দেহ প্রকাশ করে
বক্তব্য বিবৃতি দিয়েছেন। কিছু কিছু দলের কার্যক্রম ও যোগসুত্র পর্যালোনা করলে দেখা যায় নির্বাচন
ইঞ্জিনিয়ারিং এর সম্ভাবনা একদম উড়িয়ে দেয়া যায় না। তাছাড়া, প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ
থেকে কোন কোন দলের নেতা ও দলের প্রতি আতরিক্ত সহানুভুতি ও দায়ীত্ব পালনের বিষয়টি দৃষ্টিকটু।
এছাড়া, কোন কোন ক্ষেত্রে কোন কোন দলের প্রতি অন্তবর্তিকালিন সরকারের পক্ষ থেকে বিশেষ নিরাপত্তা
প্রদান এবং প্রশাসনের নতজানু ভাবমুর্তি প্রকাশ করায় প্রশ্ন উঠেছে পক্ষপাতিত্ত্বের ও নির্বাচনে
লেভেল প্লেইং ফিল্ড নিয়ে । তবে, সব ধরনের প্রতিবন্ধকতা দুর করে আগামী ১৩ তম জাতীয় নির্বাচনে লেভেল
প্লেইং ফিল্ড সার্বিকভাবে সংরক্ষন করতে হবে।
২০২৪ এর জুলাই বিপ্লবের পরে দেশে তরুন প্রজন্মের গনজাগরন শুরু হয়েছে। তরুন প্রজন্ম পুরান
ধ্যানধারনা; অনুযায়ী রাষ্ট্রব্যবস্থা চায় না। দেশের সাধারন মানুষ নীতি আদর্শ ভিত্তিক দুর্নীতি
বিরোধী সুশাসন দেখতে চায়। সবচেয়ে বড় কথা, জনগন জীবনের নিশ্চয়তা ও নিরাপত্তা চায়। দল ছোট বা
বড় কোন বিষয় না, যে দল মানুষের নিরাপত্তা দিতে পারবে না সে দলকে জনগন ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করবে না ।
বিগত ৫টা বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্বাচনে এটা প্রমানিত হয়েছে যে, তরুন সমাজ নিরাপত্তা চায়।
ইতিপুর্বে ছাত্র লীগের অধীনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা নিরাপত্তা না পেয়ে এবারে সবগুলো
বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র শিবিরকে জয়যুক্ত করেছে। এটাই পরিবর্তনের লক্ষন। সাধারন ছাত্রছাত্রীরা বুঝতে
পেরেছে, কারা ক্ষমতায় আসলে তারা আগের মত নির্াতন ও হয়রানির স্বীকার হবে না। তাই ভোট দিয়ে
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পছন্দের জোটকে ক্ষমতায় বসিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে নির্বাচনের প্রভাব পড়বে
আগামী জাতীয় নির্ববচনে বলে বিশেষজ্ঞ মহল মনে করেন। অর্থ্যাৎ , দেশের সাধারন জনগন বিশ্ববিদ্যালয়ের
ছাত্রছাত্রীদের ন্যায় জনজীবনে নিরাপত্তা চায়।চায় দূর্নীতিমুক্ত সুশাসন,সন্ত্রাসমুক্ত রাষ্ট্রব্যবস্থা,
মাদকমুক্ত ও দারীদ্রমুক্ত সমাাজ ব্যবস্থা। যে দল বা জোট জনগনের এসব প্রত্যাশা পুরন করতে পারবে সেই দল
বা জোটকে জনগন জাতীয় নির্বাচনে ভোট প্রদান করে জয়যুক্ত করবে বলে আশা করা যাচেছ।
এছাড়া, ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ফেরী করে বিগত স্বৈরাচারী সরকার জোর করে পনের বছর ক্ষমতায় ছিল।
বাংলাদেশের মানুষ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বাড়াবাড়ি দেখতে চায় না। মুক্তিযুদ্ধের স্লোগান তুলে
বিগত ৫৪ বছর জনগনকে ধোকা দেয়া হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি পরিচয় দিয়ে লুটপাট, টেন্ডারবাজি,
চাদাবাজি, দখলবাজি থেকে শুরু করে এ হেন অপকর্ম নেই যা বিগত দিনে করা হয় নাই। আতএব,
মুক্তিযুদ্ধের চেতনার চেয়ে এখন জুলাই বিপ্লবের কথা জনগনের কাছে অধিক গ্রহনযোগ্য। ৫৪ বছর পর
৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ ২০২৪ এর জুলাইয়ে এসে পূর্ণতা লাভ করেছে। জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে ভারতীয়
আদিপত্যবাদকে ত্যাগ করে বাংলাদেশ পুর্ন স্বাধীনতা অর্জন করেছে। তাই, নতুন প্রজন্মের কাছে জুলাই
বিপ্লব অধিক গ্রহনযোগ্য। জুলাই বিপ্লব জনগনের কাছে আস্থা ও বিশ্বাস স্থাপন করতে সক্ষম
হয়েছে।ফলে, বাংলাদেশের সকল দলের স্বীকৃতি নিয়ে জুলাই সনদ গ্রীহিত হয়। আগামী ১২ই
ফেব্রুয়ারী জাতীয় নির্বচনের একই দিন জুলাই সনদের উপর হা/না ভোট অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্বাসঘাতক
বা বেইমান ছাড়া কেউ জুলাই সনদের বিপক্ষে ভোট প্রদান করবে বলে মনে হয় না। তার পরও দেখা যাবে
জুলাই সনদের পক্ষে বিপক্ষে কি পরিমান ভোট পড়ে।
২০২৪ সালে জুলাই বিপ্লবের ফলশ্রুতিতে শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করে ভারত পালিয়ে যায়। ফলে , ভারত
বাংলাদেশের উপর তার প্রভুত্ব হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ে। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের ন্যায় অন্য একটি
ভারতীয় দলদাস সৃষ্টি করার পায়তারা চালিয়ে যাচ্ছে ভারত। ফলে, আমাদের আশঙ্কা হচ্ছে , বিশ্বাসঘাতক

জাতীয় পার্টি সহ বাংলাদেশের বড় দল বিএনপির পিছনে ভারত ও ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা সমস্ত শক্তি নিয়ে
লেগে আছে। অতএব, ভারত শেখ হাসিনার আমলের ন্যায় একটি পাতানো নির্বাচন কার্যকরী করে
বাংলাদেশে একটি ভারতীয় তাবেদার সরকার ক্ষমতায় বসাতে চায়। কাজেই, ১২ কোটি ভোটারকে অত্যন্ত
সতর্কতার সাথে সৎ ও সতভাগ বাংলাদেশপন্থি প্রার্থীকে ভোট দিয়ে জয়জুক্ত করতে হবে।
একটা বিষয় লক্ষ্যণীয় যে, হিন্দুত্ববাদি ভারতীয় বিজেপি বাংলাদেশ বিরোধী নানা খেলায় মেতে উঠেছে।
ইদানিং ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লীগ আইপিএল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা নিয়ে বাংলাদেশ বিরোধী
চক্রান্তে লিপ্ত হয়েছে। বাংলাদেশী শক্তিশালী বোলার মোস্তাফিজুর রহমানকে হিন্দুবিদ্বেশী হিসেবে মিথ্যা
অপবাদ দিয়ে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার চক্রান্ত করে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড বিয়ষটি নিয়ে ভারতের
বিরুদ্ধে রূখে দাড়িয়েছে। দেশবাসীর প্রতি আমার উদাত্ত আহবান, এভাবে সর্বক্ষেত্রে ভারতের অশুভ
চক্রান্তকে রূখে দিতে হবে। এখন থেকে ভারত-বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক হবে সমতার ভিত্তিতে।
স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ব্যবসা-বানিজ্য ও করিডোর ব্যবহার সহ সব
ধরনের চুক্তি ন্যায্য হিস্ধসঢ়;সার ভিত্তিতে সম্পাদিত হবে।হাসিনা সরকারের ন্যায় কোন স্বার্থ ছাড়া ভারতের
সাথে আর কোন গোপন চুক্তি সম্পাদিত হবে না। বরং বাংলাদেশের সাথে ভারতের গোপন চুক্তিগুলো
জনগনের কাছে উন্মোক্ত করতে হবে এবং ভারতের সাথে সম্পাদিত অসম চুক্তিগুলো বাতিল করতে হবে।