কামরুল কুদ্দুস রেইনি (প্রবাস থেকে) ঃ ২০২৪ সালে জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে বাংলাদেশের রাজনীতিতে
একটি নতুন আশার আলো সৃষ্টি হয়েছে। দেশের নতুন প্রজন্ম জেগে উঠেছে। ২৪ এর জুলাইয়ে লক্ষ ল্ধসঢ়;ক্ষ
ছাত্র জনতা রাস্তায় নেমে এসেছিল। মৃত্যুকে উপেক্ষা করে হাজার হাজার মানুষ প্রান বিসর্জন দিয়েছে।
জুলাইয়ে ছাত্র সমাজের বৈসম্য বিরোধী আন্দোলন সৈরাচারী হাসিনা সরকারের পতনের লক্ষ্যে ্ধসঢ়;এক দফা
আন্দোলনে রূপ নেয়। এই কঠোর আন্দোলনে প্রায় দুই হাজার ছাত্রছাত্রী, নারীপুরুষ ও শিশু অকাতরে প্রান
বিসর্জন দেয়। শেষ পর্যন্ত জনগনের তীব্র আন্দোলনের মুখে স্বৈরাচারী হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে
পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। এটা ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে জনগনের মহা বিজয়। ফলে, দেশের মানুষের মাঝে
এক নতুন আশার সঞ্জার ঘটেছে। দেশ থেকে দূর্নীতি , সন্ত্রাস, মাদক ও দারীদ্র নির্মুলের একটি বিশাল
সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। জনগনের মাঝে নীতিনৈতিকতা ও স্বচেতনতার হাওয়া বইতে শুরু করেছে।
সাধারন মানুষ আর দুর্নীতিবাজদের ক্ষমদায় দেখতে চায় না। মানুষের মধ্যে যে নতুন স্বচেতনতা সৃষ্টি
হয়েছে, তা ধরে রাখতে হবে। সর্বক্ষেত্রে জনগন ও নতুন প্রজন্মের স্বদইচ্ছার প্রতিফলন ঘটাতে হবে।
প্রয়োজনে, একটি বিপ্লবী সরকার বা জাতীয় সরকার গঠন করতে হবে। স্বৈরাচার পতনে অংশীদার সকল
দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধভাবে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করতে হবে। জুলাই বিপ্লবকে প্রতিটি মানুষের অন্তরে
ধারন করতে হবে। ৭২ এর গণবিরোধী সংবিধান বাতিল করে জনগনের আশা-আকাঙ্খা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে
নতুন সংবিধান প্রনয়ন করতে হবে। এসকল কাজ এজন্য করতে হবে, যাতে পুনরায় কোন স্বৈরাচার দেশে
সৃর্ষ্টি হতে না পারে।
স্বাধীনতা লাভের পর একমাত্র শহীদ রষ্ট্রপতি জিযাউর রহমানের আমল ছাড়া দীর্ঘ ৫৪ বছরে বাংলাদেশের
রাজনীতিতে নীতিনৈতিকতার কোন বালাই ছিল না। যারাই বাংলাদেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত ছিল , শুধু
লুটপাট আর দূর্নীতি করে লক্ষ কোটি টাকা পাচার করেছে। ফলে দেশে মজবুত ও দীর্ঘমেয়াদি
আবকাঠামো গড়ে উঠেনি। তবে, ২৪ এর জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে একটি আদর্শিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দ্বারা
উন্মোচিত হয়েছে। বিগত ৫৪ বছরে বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থেকে যে দলগুলো দুঃশাসন চালিয়েছে,
তাদেরকে দেশের মানুষ আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না। এখন দেশের মানুষ চায় এমন দলকে যে দল দুর্নীতিমুক্ত
সুশাসন প্রতিষ্ঠা করবে।
বাংলাদেশ একটি সম্পদশালী ধনী দেশ। কিন্তু বিগত ৫৪ বছর দুবৃত্তায়ন ও দুঃশাসনের ফলে দেশের মানুষ
সমৃদ্ধশালী না হয়ে দারীদ্রসীমার নীচে চলে এসেছে। আমরা বিদেশে বসে দেশের ভালো চাই। আমাদের
কোন ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই। তাই বিদেশে বসে দেশ নিয়ে ভাবি, চিন্তা করি এবং লেখালেখি করি।
উদ্দেশ্য, দেশের মানুষ যেন সুখ-শান্তিতে থাকে এবং বাংলাদেশ যেন একটা ধনী কল্যানকর রাষ্ট্রে পরিনত হয়।
এজন্য একটি আদর্শকে সামনে রেখে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে। সেই আদশূ হোল জুলাই বিপ্লব,
জুলাই সনদ। জুলাই বিপ্লব ও জুলাই সনদকে সমুন্নত রাখতে হবে। জুলাই সনদকে আইনি ভিত্তির উপর
সুপ্রতিষ্ঠিত রাখতে হবে। এটা দেশ ও জাতির কল্যাণে করতে হবে। দ্বিতীয়বার যেন কোন স্বৈরাচারী শক্তি
জাতির ঘারে চেপে বসতে না পারে সেজন্যই জুলাই সনদের আইনী ভিত্তি দরকার। একথা স্বরন রাখতে হবে
যে, দেশে আগের মত লুটপাট, চাদাবাজী ও সিন্ডিকেট ব্যবসা চলবে না। রাষ্ট্রকে জনগনের সেবায়
নিয়োজিত রাখতে হবে। রাষ্ট্র কখনও শোষনের হাতিয়ার হোতে পারে না।
বাংলাদেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার নিয়ে আসতে হবে। বিশেষ ভাবে নির্বাচন কমিশন এবং দূর্নীতি
দমন কমিশনে ব্যাপক সংস্কার প্রয়োজন। জাতীয় নির্বাচনসহ সর্বস্তরের নির্বাচনকে মাধারন মানুষের
দৌগোড়ায় পৌছে দিতে হবে। জাতীয় সংসদ সদস্যদের কেবলমাত্র নতুন নতুন আইন পাশ ও আইন সংস্কারের
মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে হবে। সংসদ সদস্যগন কোন রকম উন্নয়ন কর্মকান্ডের সাথে সম্পৃক্ত থাকতে পারবে
না। অপর দিকে উন্নয়ন কর্মকান্ডের সংগে সম্পৃক্ত স্থানীয় সরকার প্রশাসনকে কঠোরভাবে দূর্নীতিমুক্ত
রাখতে হবে।
তবে একথা স্পষ্ট যে, দেশের সাধারন জনগন এখন আর পুরানো ধ্যানধারনার রাজনীতি চায় না। আগামী
জাতীয় নির্বাচনে অতীতে ক্ষমতাশীন দলগলো জনগন কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হবে বলে ধারনা করা যাচ্ছে।
নতুন প্রজন্মের মধ্যে যে, স্বচেতনতা সৃষ্টি হয়েছে, তা দেশের সুন্দর একটি ভবিষ্যতের জন্য ব্যাপক কাজে
আসবে। জনগন সৎ, স্বচেতন নীতিনৈতকতা বিবেচনা করে আগামী জাতীয় নির্বাচনে ভোট প্রদান
করবে বলে আশা করা যাচ্ছে। আগের মত অন্যের কথায় প্রভাবিত হয়ে বা অর্থের বিনিময়ে এবারের
নির্বাচনে ভোট প্রদান করবে না জনগন। তারা বিগত দিনের মত দূর্নীতিবাজ, চাদাবাজ, সন্ত্রাসী
মাফিয়াদের ভোট দিবে না। জুলাই বিপ্লবের ফলশ্রুতিতে নতুন প্রজন্ম ও সাধারন মানুষের মধ্যে একটা
পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এবারের নির্বাচনে আর আগের মত খেলা হবে না।ভোটের সমীকরন পাল্টে যাবে
বলে ধারনা করছি।যারা আদর্শের কথা বলে, নীতিনৈতিকতার কথা বলে এবারের ভোটের পাল্লা তাদের পক্ষে ভারী
হবে বলে আশা করছি। সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র শিবিরের
নেতৃত্বাধীন ছাত্র জোট বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয় অর্জন করায় এটাই প্রমানিত হয় যে, তরুন
প্রজন্মের মধ্যে নীতিনৈতিকতা ও স্বচেতনতার ব্যাপক বিস্তার ঘটেছে।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে আর একটি অভিশাপ পরিবারতন্ত্র ও স্বৈরশাসন । যা বিগত ৫৪ বছরের ইতিহাসে
গনতন্ত্র ও নাগরিক ইচ্ছাকে কুড়ে কুড়ে ধ্বংশ করেছে। আশা করি আগামী দশ বছরে পরিবারতন্ত্রের
অভিশাপ থেকে দেশ ও জাতি মুক্তি পাবে। পরিবারতন্ত্রের সাথে স্বৈরশাসনের একটি গভীর যোগসূত্র রয়েছে।
লক্ষ্য করা গেছে, পৃথিবীর যে দেশেই রাজনীতিতে পারিবারিক প্রভাবের বিস্তার ঘটেছে, সেখানেই
স্বৈরশাসন জনগনের ঘারের উপর জগদ্দল পাথরের মত চেপে বসেছে। অতএব, পরিবারতন্ত্রের অভিশাপ থেকে দেশকে
মুক্ত করতে হবে।
তবে, জুলাই বিপ্লবের স্পিরিটকে ধারন করে জাতিকে এগিয়ে নিতে হবে। ইসলামী মুল্যবোধ, নিষ্ঠা,
আদর্শ, শততা, শৃংখলা, সর্বোপরি জুলাইয়ের চেতন যারা ধারন করতে পারবে , তারাই অভুতপূর্ব বিজয়
অর্জন করবে। এছাড়া যে দল নতুন প্রজন্মের পালস বুঝতে পারবে , তারাই বিজয়ী হবে এবং আগামী ৫০
বছর দেশ ও জনগনের সেবা করার সুযোগ পাবে এবং দেশকে উন্নতির চড়ম শিখরে পৌছে দিতে সক্ষম
হবে। তবে, আমরা প্রবাসে বসে চেষ্টা চালিয়ে যাব এভাবে একটর পর একটা দিক নির্দেশনা দেশবাসীর
কাছে তুলে ধরার। আশা করি, দেশবাসী আমাদের পরামর্শগুলো শতস্ফুর্তভাবে গ্রহন করে দেশকে এগিয়ে
নিয়ে যাবে ইনশাআল্লাহ ।