মোঃ জহুরুল ইসলাম, জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধিঃ ১৯ মার্চ ২০২৫ ইং
জয়পুরহাটের ক্ষেতলালে চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতার নেতৃত্বে থানায় হামলার ঘটনার ঘটেছে। এসময় পুলিশ সদস্যসহ ০৫ জন আহত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ মার্চ ) ইফতারের পূর্ব মুহুর্তে ক্ষেতলাল থানায় এ ঘটনা ঘটে। এসময় বিএনপির নেতাকর্মীরা থানা ঘেরাও করে।
আহতরা হলেন- ক্ষেতলাল থানার পুলিশ কনস্টেবল কাজী জাফর ক্ষেতলাল পৌর এলাকার তোফাজ্জল হোসেন, একই গ্রামের আমিরুল ইসলাম, বগুড়ার শাহজাহানপুরের রফিক ও আব্দুল মমিন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়-ক্ষেতলাল পৌর এলাকার শাখারুঞ্জ গ্রামের তোফাজ্জল হোসেন জমি রেজিস্ট্রির জন্য ক্ষেতলাল উপজেলা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে আসেন। এসময় স্থানীয় পৌর বিএনপির ০৯ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি কবির চৌধুরীর নেতৃত্বে বিএনপি কর্মী মাসুদ চৌধুরী, গোলাম মওলা ও জুয়েল সেখানে উপস্থিত হয়ে তার নিকট থেকে ২৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে । এ সময় চাঁদা দিতে অপারগতা জানালে তারা উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী আশিক পার্থকে বিষয়টি জানায়। খবর পেয়ে উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক পার্থ সেখানে উপস্থিত হয়ে চাঁদা না দিলে দলিল রেজিস্ট্রি করতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেয়। তাকে বাধা দিতে গেলে তোফাজ্জল সহ তার চার আত্মীয়কে মারপিট করে রক্তাক্ত করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাদের উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পুলিশ থানা থেকে তোফাজ্জলকে গুরুতর আহত অবস্থায় ক্ষেতলাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করান।
এ সময় থানার পুলিশ হেফাজতে থাকা অন্য তিনজনকে ছিঁনিয়ে নেওয়ার জন্য উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মেহেদী আশিক পার্থের নেতৃত্বে শতাধিক লোকজন থানায় আক্রমণ করে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যকে আহত করে থানা অবরুদ্ধ করে। এ ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে সেনাবাহিনী, ডিবি পুলিশ সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উপস্থিত হয়ে তাদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় । এরপর অতিরিক্ত পুলিশ, সেনাবাহিনী সহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শতাধিক সদস্য থানায় অবস্থান নেয়।
এসব তথ্য নিশ্চিত করে জয়পুরহাটের পুলিশ সুপার এম এ ওয়াহাব বলেন, জমি রেজিস্ট্রির চাঁদা দাবিকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় মামলা দায়ের হয়েছে ও তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারের জোর চেষ্টা চলছে।