মোঃরফিকুল ইসলাম সোহাগ
সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি:
সিলেটের আওয়ামী যুবলীগ নেতা গুলজার মিয়া ওরফে শিবলু বর্তমানে স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য এক আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছেন। গত ৫ আগস্ট পটপরিবর্তনের পর কিছুদিনের জন্য যুক্তরাজ্যে পাড়ি দিলেও পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হওয়ার সুযোগে দেশে ফিরে এসেছেন তিনি। অভিযোগ উঠেছে জনৈক প্রভাবশালী নেতার ছত্রছায়ায় থেকে বর্তমানে তিনি সিলেট ও জগন্নাথপুর এলাকায় পুনরায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন।
শিবলুর বাড়ি সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর এলাকায়। তবে বর্তমানে তিনি সিলেটের মেজরটিলা এলাকায় বসবাস করছেন। তার বিরুদ্ধে সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানায় ৫/৬/২৫ ইংরেজি তারিখে দায়েরকৃত ৬ নম্বর মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে। জানা গেছে সিলেটের ওই মামলায় তিনি ১৪৮ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকলেও রহস্যজনক কারণে পুলিশ প্রশাসন তাকে গ্রেপ্তার করছে না বলে স্থানীয়রা অভিযোগ তুলেছেন। এলাকাবাসী জানান তিনি ব্যক্তিগতভাবে মাদকাসক্ত এবং জগন্নাথপুর ও সিলেট এলাকায় মাদকাসক্ত উগ্র সন্ত্রাসী ও ডাকাতদের সমন্বয়ে একটি বিশেষ বাহিনী গঠন করেছেন। এই বাহিনীর মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন স্থানে হামলা ও লুটতরাজ চালিয়ে আসছেন। মামলার প্রতিবেদন ও স্থানীয় সূত্র থেকে জানা যায় শিবলু অত্যন্ত চতুরতার সঙ্গে আইনের ফাঁকফোকর দিয়ে বেরিয়ে আসছেন। জামিনে বা কৌশলে বের হয়ে আসার পর তার তান্ডব আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। তার এই ক্রমাগত সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জনজীবন বিপন্ন হয়ে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষ চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।
এই বিষয়ে সিলেট কোতোয়ালি থানার ওসি মাইনুল জাকির জানান অভিযুক্ত শিবলুর বিরুদ্ধে থানায় মামলা রয়েছে এবং তাকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান ও চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। পুলিশ কর্মকর্তারা জানান কোনো অপরাধীকে ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই এবং তাকে আশ্রয়দাতা ব্যক্তিদের বিষয়েও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। খুব দ্রুতই তাকে আইনের আওতায় এনে আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে পুলিশ আশ্বাস প্রদান করেছে।
ভুক্তভোগী জনসাধারণ দ্রুত এই চিহ্নিত সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তারের মাধ্যমে এলাকায় শান্তি ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন মহলের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা মনে করেন শিবলুকে আইনের আওতায় না আনলে এই জনপদের সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না।