logo

সময়: ০৭:১৯, শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২১

১০ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ০৭:১৯ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ খবর

বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে একুশে হামলার ন্যায় ব্যারিকেট সৃর্ষ্টি করে রক্ষা করতে হবে ঃ মুনির হামজা 

Ekattor Shadhinota
২৯ মার্চ, ২০২১ | সময়ঃ ০৭:৩৭
photo
মুনির হামজা 

বিশেষ প্রতিনিধিঃ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও সুইডেন প্রবাসী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজ সেবক মুনির হামজা এক বিবৃতিতে বলেন, এ বিশ্ব ভুবনে যে সকল জাতি বা রাষ্ট্র উন্নতি সাধন করেছে তা কোন না কোন নেতা বা রাষ্ট্র নায়কের নেতৃত্বে সম্ভব হয়েছে। নেতা বা রাষ্ট্র নায়কের সততা, প্রজ্ঞা, মেধা, দূরদর্শিতা, একনিষ্ঠতাসহ নানা গুনাবলির কারনেই বিভিন্ন দেশ উন্নতি লাভ করেছে। সর্বপরি রাষ্ট্র নায়কের দৃঢ় চেতনা ও জাতির প্রতি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে কঠোর মনোভাব অবলম্বন করার কারনেই ঐ সকল দেশগুলো উন্নতির চড়ম শিখরে পৌঁছেছে।
তিনি বলেন সেক্ষেত্রে, বাংলাদেশকে একটি উন্নত সোনার বাংলা হিসাবে গড়ে তোলা ছিল জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন। তাই, ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা লাভের পরপরই বঙ্গবন্ধু নিজেই দেশ গড়ার কাজে হাত দেন। কিন্তু দেশ স্বাধীন হওয়ার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তার মৃত্যুর সাথে সাথে তার পরিকল্পিত উন্নয়নের ধারা চরম ভাবে ব্যাহত হয় এবং দেশ ২১ বছর যাবৎ সেনা শাসনের আওতায় চরম ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিনত হয়।  
তিনি বলেন, বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রমের মধ্য দিয়ে ১৯৯৬ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসাবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ২১ বছর পর ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হয়।  
মুনির হামজা বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার রাজনীতিতে আসার একটাই লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ছিল, বঙ্গবন্ধুল স্বপ্ন সোনার বাংলা গড়ে তোলা, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসা এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে দেশকে কলঙ্কমুক্ত করে দেশকে উন্নতির চরম শিখরে নিয়ে যাওয়া। ধাপে ধাপে তিনি তার এ সকল সুদুর প্রসারী লক্ষ্য-উদ্দেশ্যগুলো বাস্তবায়ন করেন। বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারীদের ফাঁসী কার্যকর করেন। যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসী কার্যকর করেন। এরপর দেশেকে উন্নত ও সমৃদ্ধশালী রাষ্ট্রে পরিনত করার জন্য ভিশন ২১ ও ৪১ প্রনয়ন করেন। বঙ্গবন্ধু যেমন দেশ নিয়ে ভাবতেন, দেশের উন্নয়ন নিয়ে এবং জনগনের সুখশান্তি ও সমৃদ্ধি নিয়ে ভাবতেন, তেমনি জননেত্রী শেখ হাসিনা পিতার মতই দেশ নিয়ে ভাবেন, দেশের মানুষের সুখশান্তি ও সমৃদ্ধি নিয়ে কাজ করেন। এদেশে অনেক নেতানেত্রী ইতিপুর্বে ক্ষমতায় ছিলেন। তারা দেশ ও জনগনের জন্য কি করেছেন, সকলেই জানেন। অপরদিকে জননেত্রী শেখ হাসিনা অল্প সময়ের ব্যবধানে দেশে কি অভুৎপুর্ব উন্নতি সাধন করেছেন- তাও দেশবাসী অবলোকন করছেন। সুবিধাবাদী দল ও নেতানেত্রীরা কি করেছেন এবং অপরদিকে বঙ্গবন্ধু কন্যা স্বাধীনতায় নেতৃত্ব দানকারী দলের নেত্রী হিসাবে কি করছেন-তা বাস্তবেই দেখতে পারছেন। 
তিনি বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে প্রাচীন বাংঙ্গালী জাতীয়তাবাদী দল এবং মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্ব দানকারী দল হিসাবে অন্যান্য দল থেকে সম্পুর্ন একটি আলাদা দেশপ্রেমিক দল। এ দলে সুবিধাবাদী চাঁদাবাজ, টেন্ডারবাজ বা লুটেরাদের কোন স্থান নেই। যারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ্বাস করেন, তারা চাঁদাবাজী, টেন্ডারবাজী, দখলবাজী বা লুটপাটে অংশ গ্রহন করতে পারবেন না। তাদেরকে জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দলীয় আদর্শ মেনে চলতে হবে। নেত্রী চান দেশের ১৭ কোটি মানুষ সকলেই আইনের চোঁখে সমান। যারা ক্ষমতায় আছেন, তাদেরকে দেশ ও জনগনের সেবক হিসেবে কাজ করতে হবে। ক্ষমতার অপ-ব্যাবহার করে ঘুষ-দূর্নীতি বন্ধ করতে হবে। দলে দূর্নীতিবাজদের স্থান হবে না। আমরা অতীতেও একথা বলেছি, এখনও বলছি।
মুনির হামজা বলেন, দেশবিদেশে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বা এর অংগ সংগঠন সমূহে অনুপ্রেবেশকারী সুবিধাবাদী হাইব্রিডদের চিহ্নিত করে বহিস্কার করতে হবে। শুদ্ধি অভিযান অব্যাহত রাখতে হবে-যাতে দল ও নেত্রীর ভাবমুর্তি কেউ নষ্ট করতে না পারে। ইতিমধ্যে নেত্রীর নির্দেশেই দলের ভিতরে শুদ্ধি অভিযান শুরু হযেছে। চাঁদাবাজী ও দলীয় নিয়মশৃঙ্খলা মেনে না চলার জন্য ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারন সম্পাদককে বহিস্কার করা হয়েছে এবং চাঁদাবাজী, টেন্ডারবাজী ও ক্যাসিনো ব্যবসা পরিচালনার জন্য যুবলীগের নেতাদের বিরুদ্ধেও আইনানুক ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে এবং নেয়া হচ্ছে। ইতপুর্বে বিএনপি বা জাতীয় পার্টি  ক্ষমতায় থাকা কালিন অবস্থায় এদের দলীয় লোকদের অপরাধের জন্য শাস্তির আওতায় এনেছিল- এমন নজির নাই।একমাত্র, জননেত্রী শেখ হাসিনা দলীয় লোকদের শাস্তির আওতায় এনে বিচারের কাঠগড়ায় দাড় করিয়েছেন। ফলে, অবৈধ পথে সম্পদের মালিক হওয়া বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ বা এর অংগ সংগঠন সমুহের নেতাকর্মীরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে একটি সঠিক দেশপ্রেমিক ও দূর্নীতিমুক্ত দলে পরিনত করতে হবে। দলকে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থেকে জনগনের সেবায় নিয়োজিত থাকতে হবে। জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ঠিক সেভাবেই দলকে গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা বাংগালী জাতির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর কন্যা- এটাই তার বড় পরিচয়। তার জাতির কাছে কিছু চাওয়া পাওয়ার নাই। তিনি শুধু জাতিকে দিয়ে যাবেন এবং দিচ্ছেন। তাকে২০০৪ সালের ২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা করে হত্যার চক্রান্ত করা হয়েছিল। কিন্তু মহান আল্লাহর অসীম কৃপায় তিনি বেঁচে আছেন দেশ ও জাতির কল্যানের জন্য। শত্রুরা জানতো বঙ্গবন্ধু  বেঁচে থাকলে এদেশ সোনার বাংলা হবে। তাই দেশের দুশমনরা তাকে স্বপরিবারে হত্যা করেছিল। শত্রুরা এটাও জানতো যে, শেখ হাসিনা জীবিত থাকলে তার পিতার স্বপ্ন ‘সোনার বাংলা’ তিনি বাস্তবায়ন করবেন। তাই, তাকে ১৯ বার হত্যার চক্রান্ত করা হয়েছে। একুশে আগস্টের গ্রেনেড হামলা ছিল প্রতিহিংসার রাজনীতির ফসল। শেখ হাসিনা দেশে আর প্রতিহিংসার রাজনীতি দেখতে চাঁন না। তাই, দেশকে সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ ও মাদকমুক্ত করার কঠিন পদক্ষেপ নিয়েছেন নেত্রী।
তিনি বলেন, শত্ররা কিন্তু শেষ হয়ে যায় নাই। যে কোন সময় গোখরা সাপের ন্যয় ছোবল মারতে পারে। অতএব, সকলকে হুসীয়ার থাকতে হবে। নেত্রীকে ২১ শে আগস্টের হামলার ন্যায় ব্যারিকেড সৃর্ষ্টি করে রক্ষা করতে হবে। এটা দেশবাসী সকলেরই দায়ীত্ব এবং দলমত নির্বিশেষে সকলকেই জননেত্রী শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী কারার জন্য এগিয়ে আসতে হবে।
 

শেয়ার করুন...

আরও পড়ুন...

ফেসবুকে আমরা…