logo

সময়: ০৭:৪১, শুক্রবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২১

১০ বৈশাখ ১৪২৮ বঙ্গাব্দ, ০৭:৪১ পূর্বাহ্ন

সর্বশেষ খবর

দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারতীয় উপমহাদেশে আলাদা সুসলিম রাষ্ট্র পাকিস্তান প্রতিষ্ঠা ছিল একটি ঐতিহাসিক ভুল এবং ভারতীয় মুসলমানদের জন্য ছিল চরম আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত

Ekattor Shadhinota
১৯ মার্চ, ২০২১ | সময়ঃ ১১:০৯
photo
ভারতীয় মুসলমানদের জন্য ছিল চরম আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত

আবদুস সালাম খান ঃ ১৯৪৭ সালে বৃটিশ সরকার ভারত উপমহাদেশের স্বাধীনতা দিলেও বিগত ৭৭ বছরে ভারতবর্ষে শান্তি আসেনি। ভারতবর্ষের স্বাধীনতা প্রদানকালে বৃটিশ সরকার চক্রান্তের  যে বিশাল বীজ বপন করে গিয়েছিল তা ভারতবাসীরা আজও বহন করে চলেছে। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খৃষ্টানসহ বহু জাতি উপজাতি সমন্বয়ে গঠিত ভারত উপমহাদেশে বসবাসকারী জনগনের মধ্যে প্রাচীন কাল থেকে সৌহার্দপুর্ন সম্পর্ক বজায় ছিল। প্রাচীনকাল থেকে হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা ভারতবর্ষে শান্তিপুর্ন সহাবস্থান করে আসছে। এরপর ৭১২ খৃষ্টাব্দে ভারতবর্ষে মুসলমানদের আগমন ঘটে এবং খুব দ্রুত এই উপমহাদেশে মুসলমানদের ব্যপক বিস্তার ঘটে এবং আট শত বছর মুসলিম শাসকগন ভারত উপমহাদেশ শাসন করে। মুসলমানদের মধ্যে সাম্য,ভ্রাতৃত্ব,সামাজিক ন্যায় বিচার ও সর্বশক্তিমান এক আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস ও আস্থা ভিত্তিক ধর্মিও চেতনার কারনে অতি দ্রুত ভারতবর্ষে মুসমানদের বিস্তার ঘটে। সংখ্যায় কম হোলেও শৌর্যবীর্যে শক্তিশালী মুসলমানদের দাপট ছিল প্রচন্ড। মুসলমানগন ভারতবর্ষে আজও শক্তিশালী কিন্তু ১৯৪০ সালে মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ এর নেতৃত্বাধীন মুসলিম লীগ কর্তৃক দ্বিজাতি তত্তে¦র ভিত্তিতে ভারতবর্ষে বৃটিশ চক্রান্ত এবং মুসলিম নেতাদের অদুরদর্শিতার ফলে মুসলমানরা ভারতবর্ষে কোনঠাষা হয়ে পড়েছে এবং মার খাচ্ছে। ১৯৪০ সালে দ্বিজাতি তত্ত্ব বা টু নেশান থিউরি ঘোষনার পর থেকে ভারতবর্ষে সাম্প্রদায়ীক সম্প্রীতি বিনষ্ট হয় এবং দীর্ঘ ৮০ বছর যাবৎ সাম্প্রদায়ীক দাঙ্গা অব্যাহত থাকে। টু নেশান ফর্মুলা জারীর পর ১৯৪০ সালে ভারতে মুসলিম বিরোধী যে সহিংস আন্দোলন শুরু হয়েছিল, তা আজও ব্যপকহারে অব্যাহত রয়েছে। স্বাধীন পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার ফলে ভারতীয় মুসলমানগন বিভক্ত হয়ে পড়ে এবং ঐক্য বিনষ্ট হয়।
অতএব, ভারত স্বাধীনতা লাভের প্রাক্কালে দ্বিজাতি তত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান নামে আলাদা স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্টা ছিল একটি ঐতিহাসিক ভুল এবং ভারতীয় মুসলমানদের জন্য ছিল একটি চরম আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। এই ভুলের খেসারত চরম ভাবে দিতে হয়েছে হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়কে এবং বর্তমানে শুধু ভারতে বসবাসরত ৩০ কোটি মুসলমাদেরকে চরম মুল্য দিতে হচ্ছে। বিশেষভাবে বর্তমান হিন্দুত্ববাদী বিজেপি শাসিত ভারতে মুসলিম নিধনের চক্রান্ত অব্যাহত রয়েছে। এর জন্য দায়ী বৃটিশ ও বৃটিশের স্বদেশী দালাল গোষ্ঠি-যাদের প্ররোচনায় দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে অসাম্প্রদায়ীক ভারতবর্ষে সাম্প্রদায়ীক হিংসা-বিদ্বেশের বীজ বপন করা হয়েছিল। ৪৭শে ধর্মের ভিত্তিতে ভারতবর্ষে পাকিস্তান নামক স্বাধীন ভুখন্ড সৃষ্টির ফলশ্রুতিতে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গায় সাত লক্ষ লোক মৃত্যু বরন করে এবং চল্লিশ লক্ষ লোক গৃহহীন হয়ে পড়ে। হিন্দুদের চাইতে সবচেয়ে বেশী ক্ষতিগ্রস্থ হয় মুসলিম সম্প্রদায়। বিশেষ ভাবে হিদুস্তানে বসবাসরত কোটি কোটি মুসলমানের জানমাল চরম হুমকীর মুখে পড়ে। ৪৭এ স্বাধীনতার পর হিনদুস্তানে সাড়ে তিন হাজার বার মুসলিম বিরোধী সাম্প্রদায়ীক দাঙ্গা অনুষ্ঠিত হয়।  
এক সময় বৌদ্ধ ধর্মাাবলম্বীরাও ভারতবর্ষ শাসন করেছিল। বিশেষ করে সম্রাট অশোক নিজেই বৌদ্ধ ধর্ম গ্রহন করে প্রায় দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর ভারতবর্ষ শাসন করেছিলেন। মুখ্য বিষয় হোল- যে ধর্মের লোকরাই ভারত শাসন করুক না কেন ধর্মীয় সম্প্রতি সবসময়ই বজায় ছিল। এমনকি দুশো বছরের বৃটিশ শাসনামলেও ভারতবর্ষে ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট হয়নি। 
সাম্প্রদায়ীক সম্প্রীতি বিনষ্ট হয় ১৯৪০ সালে দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারতবর্ষে আলাদা মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার ঘোষনার মধ্য দিয়ে। যদিও অনেক মুসলিম নেতারাও ভারতবর্ষে আলাদা মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন। যেমন মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, মাওলানা মোহম্মদ আলী ও শওকত আলী, কাউমি আলেম ওলামাগন, এমনকি জামায়াতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা আমির মাওলানা আবুল আলা মওদুদীও পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার বিরোধীতা করেছিলেন। মহত্মা গান্ধীর সাথে অনেক মুসলিম নেতাগনও ভারতে আলাদা মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিরোধীতা করেছিলেন এবং গান্ধীর অহিংস আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন। তবে, বৃটিশের দুই দালাল কংগ্রেস নেতা জহরলাল নেহেরু ও মুসলিম লীগ নেতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ ও তৎকালিন বৃটিশ ভাইসরয় মাউন্ট ব্যাটেন এর যৌথ চক্রান্তে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আত্মঘাতী সিন্ধান্ত কার্যকরী হয়। ফলে, ১৯৪০ সালে মুসলিম লীগের পক্ষ থেকে দ্বিজাতি তত্ত্ব প্রকাশের পর থেকে দীর্ঘ আশি বছর যাবৎ হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়কে বিপুল পরিমান জান-মাল কোরবানী দিতে হয়েছে।
 কুটকৌশলী বৃটিশরা ভারত ছাড়ার পুর্বে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যে চক্রান্ত করে, তারই ফলশ্রুতিতে বিগত ৮০ বছর যাবৎ ভারতবর্ষে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা অব্যাহত থাকে। অথচ, দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারতবর্ষ বিভক্ত না হলে, হিন্দু-মুসলিম ঐক্য অটুট থাকত এবং গোটা ভারতবর্ষে আজও মুসলমানদের প্রভাব-প্রতিপত্তি বজায় থাকত।হিন্দু-মুসলিম ঐক্যে গড়ে উঠত এক শক্তিশালী ভারতবর্ষ এবং সর্বক্ষেত্রে প্রধান্য বজায় থাকত মুসলমানদের। অথচ, পাকিস্তান নামক স্বাধীন ভুখন্ড প্রতিষ্ঠা ছিল মুসলমানদের জন্য চরম আত্মঘাতী, যার খেসারত দিতে হচ্ছে ব্যপকভাবে। ভারত উপমহাদেশে মুসলমানগন খন্ড খন্ড অংশে বিভক্ত হয়ে দূর্বল হয়ে পড়ে। পাকিস্তান নামক ভুখন্ড থেকে ৭১ এ স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার ফলে ভারতবর্ষে মুসলমানগন আবারও দ্বিখন্ডিত হয়ে পড়ে। খন্ডিত মুসলমানগনের পক্ষে ভারতীয় অধিকৃত কাশ্মীর উদ্ধারের পথও আজ সুদূর পরাহত। এভাবে বার বার খন্ড বিখন্ড হয়ে ভারত উপমহাদেশে মুসলমানগনের সংকট ঘনিভুত হতে থাকে।  তবে, এই সংকট থেকে পরিত্রানের উপায় নিয়ে পরবর্তি অধ্যায়ে বিশদ আলোচনা করা হবে ইনশাল্লাহ।
চলবে।
 

শেয়ার করুন...

আরও পড়ুন...

ফেসবুকে আমরা…